নাটোরের লালপুরে ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলের কারণে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এতে নদীর তীরবর্তী তিনটি ইউনিয়নের চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং প্রায় ৫২২ হেক্টর জমির ধান, আখ ও সবজি খেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। গবাদি পশু নিয়ে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছেন স্থানীয়রা, তবে পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার।
বুধবার (১৩ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের দিয়াড় শংকরপুর, রসুলপুর, নওশারা সুলতানপুর, আরাজি বাকনাই, চাকলা বিনোদপুর ও মোহরকয়া চর ঘুরে দেখা যায়, বন্যায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেকের ঘর-বাড়িতেও পানি প্রবেশ করেছে।
রসুলপুর মোহরকয়া গ্রামের কৃষক আব্দুস সামাদ বলেন, “চরে ৫ বিঘা জমিতে চালকুমড়া ও পটল চাষ করেছিলাম। বন্যায় সব ক্ষেত তলিয়ে গেছে, প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।” চরের কৃষক লোকমান হাকিমও জানিয়েছেন, তিন বিঘা জমির সব ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে, যার ক্ষতি প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকা।
মোহরকয়া এলাকার মেরিনা খাতুন বলেন, “পদ্মায় পানি বাড়ায় ঘরে পানি উঠেছে। সংসার দৈনন্দিন কাজ করা যাচ্ছে না, সাপ-পোকামাকড় ঘরে উঠছে, শিশুদের নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। ছেলে-মেয়েরা স্কুলেও যেতে পারছে না।”
বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সিদ্দিক আলী মিষ্টু জানান, চরাঞ্চলের ৫টি মৌজা প্লাবিত হয়ে কয়েক হাজার একর ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় জানান, পদ্মার পানি বৃদ্ধির কারণে চরাঞ্চলের ৫২৩ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে ৪৯৫ হেক্টর আখ, ১২ হেক্টর শাকসবজি এবং ১১ হেক্টর কলা আংশিকভাবে নিমজ্জিত হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পানি আরও বাড়তে পারে এবং পানি কমার পর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ পরিমাণ জানা যাবে।
লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মেহেদী বলেন, “পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির খবর পাওয়ার পর থেকেই সার্বিক খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। পানিবন্দী মানুষদের সরকারী ত্রাণ দেওয়া হবে। ফসলের ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করতে চরাঞ্চলে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।”