• রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০২:৫৩ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

গোদাগাড়ীতে খেরওয়াল বিদ্রোহের নেতা স্বাধীনতা সংগ্রামী তিলকা মাঝি দিবস অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৭৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশ : বুধবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৬

রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটির আয়োজনে এবং সিসিবিভিও, রাজশাহী ও ব্রেড ফর দি ওয়ার্ল্ড, জার্মানীর সহযোগিতায় খেরওয়াল বিদ্রোহের নেতা ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামী তিলকা মাঝি দিবস অনুষ্ঠিত হয়। আজ বুধবার দিবসটি পালনের জন্য রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সান্তাল জনজাতি অধ্যুষিত বর্ষাপাড়া রক্ষাগোলা গ্রাম সমাজ সংগঠনে বিভিন্ন রক্ষাগোলা সংগঠনের সদস্যের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়। তিলকা মাঝি ও খেরওয়াল বিদ্রোহের শহীদসহ নৃতাত্ত্বিক অধিকার আদায়ের সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন, নিরবতা পালন ও আলোচনা সভার মাধ্যমে দিনব্যাপী দিবসটি উদযাপন করা হয়। বর্ষাপাড়া রক্ষাগোলা গ্রাম সমাজ সংগঠনের মাঞ্জি হাড়াম রাজেন টুডু’র সভাপতিত্বে ও সিসিবিভিও’র কর্মসূচি কর্মকর্তা যোশেফ রামদাস হাঁসদা’র সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিসিবিভিও’র সভাপতি প্রফেসর মোহাঃ আবদুস সালাম, সিসিবিভিও’র নির্বাহী প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা সারওয়ার-ই-কামাল স্বপন, প্রথম আলো স্টাফ রির্পোটার আবুল কালাম আজাদ ও সিসিবিভিও সমন্বয়কারী আরিফ ইথার।
তিলকা মাঝি ওরফে তিলকা মুরমু অবিভক্ত ভারতবর্ষের ভাগলপুরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে সংঘটিত খেরওয়াল বিদ্রোহের নেতা। ১৭৮১-৮৪ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি জমি লুঠ ও বলপূর্বক খাজনা আদায়ের নির্মম পন্থা অবলম্বন করে তার বিরুদ্ধে গরীব সাঁওতালদের মধ্যে যে তীব্র ক্ষোভের সূচনা হয় তাকে গণ বিদ্রোহের আকার দেন তিলকা। তাকে বাবা তিলকা মাঝি বলা হতো। ১৭৭৮ সালে ১৩০০ জন সাঁওতাল বিদ্রোহী নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রামগড় ব্যাটালিয়ন কব্জা করে নেন এবং কোম্পানির ট্রেজারি কুঠি লুঠ করে জনগণের মধ্যে বিলিয়ে দেন তিনি। ১৭৮৪ জানুয়ারি মাসে ভাগলপুরের ইংরেজ কালেক্টর অগাস্ট ক্লিভল্যান্ড মারা গেলে তিলকপুরের জঙ্গলে ইংরেজ সেনাবাহিনী তিলকা ও তার সাথীদের ঘেরাও করে। এই সংগ্রামে আহত অবস্থায় তিলকা মাঝি ধরা পড়েন। বিদ্রোহের শাস্তিস্বরূপ ১৩ জানুয়ারী, ১৭৮৫ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে তাকে ছুটন্ত ঘোড়ার পেছনে বেঁধে দেওয়া হয়। এই নৃশংস পদ্ধতিতেও তার মৃত্যু না হলে প্রকাশ্যে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় ভাগলপুর শহরে। তিলকা মাঝি ভারতের ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহীদ হিসেবে পরিগণিত। ভাগলপুর শহরে তিলকা মাঝির হত্যা স্থানে তার একটি ভাস্কর্য স্থাপিত আছে ও সাঁওতাল পরগনার সদর শহর দুমকাতেও তার ভাস্কর্য স্থাপিত আছে । এছাড়াও তার সম্মানে ভাগলপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম তিলকা মাঝি ভাগলপুর বিশ্ববিদ্যালয় নামকরন করা হয়।
আলোচনায় সভায় সভাপতি তার প্রারম্ভিক বক্তব্যে সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সভা আরম্ভ করেন। অতঃপর সিসিবিভিও’র উর্দ্ধতন কর্মসূচি কর্মকর্তা সৌমিক ডুমরী তিলকা মাঝি দিবসের তাৎপর্য বর্ননা করেন । সভায় আরও বক্তব্য রাখেন রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটির নেতা রঘুনাথ পাহাড়িয়া ও বাপ্পী মার্ডী। অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্যে, ভারতবর্ষের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে তিলকা মাঝিকে প্রথম শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়ে সংহতি প্রকাশ করেন এবং নৃতাত্ত্বিক অধিকার আদায়ে তিলকা মাঝি হিসেবে গড়ে উঠবার আহ্বান জানান । পরিশেষে সভার সভাপতি সকলকে অধিকার আদায়ের সংগ্রাম জারি রাখার আহ্বান জানিয়ে দিবস পালন কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
দিবস পালনের অনুষ্টানে সিসিবিভিও’র পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সহঃ কর্মসূচি সমন্বয়কারী মোঃ শাহাবুদ্দিন, কর্মসূচি কর্মকর্তা পৌল টুডু, রুমা লাভলী মুর্মু ও সমাজ সংগঠক মানিক এক্কা, দিপিকা মান্ড্রী, রুমিলা হেম্ব্রম, সুচিত্রা হেম্ব্রম, কাথারিনা হাঁসদা, ইমরুল সাদাত ও ভবেশ লাকড়া।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ