নাটোরের গুরুদাসপুরে মাঘ মাস শুরুর আগেই নেমে এসেছে ‘বাঘ কাঁপানো’ শীত। তীব্র শীতে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে পুরো জনপদ কাঁপছে তীব্র শীতে। মৌসুমি এই অস্বাভাবিক শৈত্যপ্রবাহে স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ।
গত তিন দিন পর আজ সূর্যের দেখা মিলেছে, তাও আবার দেরিতে। কখনো কখনো দুপুর গড়িয়ে গেলেও রোদের দেখা মিলছে না। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত সড়ক, মাঠ ও ঘাট কুয়াশার চাদরে ঢেকে থাকছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং হাটবাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি কমে গেছে। আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) চলতি শীত মৌসুমে নাটোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
বিশেষ করে কৃষিকাজ ও দিনমজুরির ওপর নির্ভরশীল মানুষেরা পড়েছেন চরম সংকটে। শীতের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের মধ্যে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে অনেকেই হাসপাতালে ভিড় করছেন।
এদিকে নিম্ন আয়ের মানুষেরা শীতবস্ত্রের অভাবে দুর্বিষহ দিন পার করছেন। অনেককে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মোত্তালেব সরদার বলেন, সাধারণত মাঘ মাসে এমন শীতের প্রকোপ দেখা গেলেও এ বছর মাঘের আগেই এমন পরিস্থিতি নজিরবিহীন।