• সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

জুলাই শহীদ দিবসে রাজশাহীতে স্মরণসভা ও দোয়া মা

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৯২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশ : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫

জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণহত্যায় নিহত শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. খন্দকার আজিম আহমেদ। এসময় প্রধান অতিথি শহীদ পরিবার ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবু সুফিয়ান ও জেলা পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম।
স্মরণসভায় বক্তব্য দিতে গেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পরেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। এ সময় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তাদের স্বজনদের হত্যাকারীদের বিচার না হওয়ায় তারা আজও কষ্ট বুকে নিয়ে বেঁচে আছেন। কেউ কেউ বিচার দাবির পাশাপাশি শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
জুলাই আন্দোলনের আহত যোদ্ধা অপূর্ব বলেন, “গুলিটা আমার গায়ে লেগেছে এটা আমার ভাগ্যে ছিল। আমার গায়ে না লাগলে কোন ভাইয়ের গায়ে লাগতো।”

শহীদ মিনারুল ইসলামের স্ত্রী নূরেজান খাতুন বলেন, “আমার মন বলে আমার স্বামী এখনো বেঁচে আছে। তিনি শহীদের মর্যাদা পেয়েছেন। আমার সন্তান এখন ছোট। বড়ো হলে তার বাবার শহীদ হওয়ার গল্প শোনাবো।”
শহীদ আলী রায়হানের পিতা মসলে উদ্দিন আহমেদ বলেন, “বিকেলে খবর পাই ছেলের মাথায় গুলি লেগেছে। অপারেশনের পর মারা গেছে। যারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

অশ্রুসিক্ত কন্ঠে শহীদ শাকিব আনজুমের পিতা মাইনুল হক বলেন, “জুলাই আন্দোলনে আমার তিন ছেলে মিছিলে গিয়েছিল। ছোট ছেলে খুব সাহসী ছিল, মিছিলের সামনে থাকতো। দেড়টার সময় গুলিবিদ্ধ হয়। মনে হয়েছিল আমিও বুকে গুলি খেয়েছি। এই স্বাধীন দেশে আর যেন অন্যায় হত্যাকাণ্ড না হয়।”

মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, “শহীদ পরিবারের সদস্যদের শান্তনা দেয়ার ভাষা আমার জানা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে সেদিনের আন্দোলন বেগবান হয়েছিল। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন ঘটনা আর কোনো দেশে ঘটেনি।”

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবু সুফিয়ান বলেন, “জুলাই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, তারা দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। আমরা তাদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। এই ঘটনার জন্য পরিবারগুলো যে শোক বহন করছেন, তা আমরা অনুভব করি।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ সবসময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি শহীদ পরিবারের নিরাপত্তা ও সহায়তায় সচেষ্ট থাকবে।” রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার বলেন,“জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়। তাদের স্মরণে আমরা নতুন প্রজন্মকে সত্যিকার অর্থে দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তুলবো।”
পরে দোয়া মাহফিলে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। বক্তারা জুলাই আন্দোলনকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ