• শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০২:০০ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাবে ঠাকুরগাঁওয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

দেশের আওয়াজ ডেস্কঃ / ১৩২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৪

ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাবে ঠাকুরগাঁওয়ের আমন ধান সহ বিভিন্ন প্রকার সবজী ফসলের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। কোথাও কোথাও নুয়ে পড়েছে আমনক্ষেত। শীতকালীন সবজির ক্ষতিও ক্ষতির মুখে পড়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে বৃহস্পতিবার রাত থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বৃষ্টির সাথে হালকা বাতাসে আমন ধানের গাছ নুয়ে পড়েছে মাটিতে। এছাড়া ক্ষতির মুখে পড়েছে শীতকালীন আগাম শাকসবজি। প্রাকৃতিক এই ক্ষতি থেকে বাঁচতে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

সরজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখো গেছে , বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে অনেক ক্ষেত পাকা ও আধাপাকা ধানগাছ মাটিতে নুয়ে পড়েছে। গড়াগড়ি খাচ্ছে মাটিতে।এছাড়াও শীতকালীন আগাম সবজির ক্ষেতও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার পাঁচ উপজেলায় চলতি বছর আমন ধান চাষ হয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে বিভিন্ন আগাম জাতের ধান আবাদ হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে। ৫ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম আলুসহ শাকসবজি চাষ হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও সদর পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক হামিদুর রহমান বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নিচু জমির ধান গাছ নুয়ে পড়েছে। সেখানে বিঘায় ৩০ মণ করে ফলন হতো, এখন ১০ মনও হয় কিনা সন্দেহ। তবে উঁচু জমির ধান ফসল এখন পর্যন্ত ভালো রয়েছে। আশা করি বৃষ্টি বন্ধ হলে ক্ষতির পরিমাণ কম হবে।’

নজরুল ইসলাম নামে একজন কৃষক বলেন, ‘অসময়ে ঝড়-বৃষ্টি কৃষকদের জন্য বড় ক্ষতি। আলুসহ শাকসবজির গাছ পচে যেতে পারে। মূলার খেতে পানি লেগে গেছে। বাজারে শাকসবজির দাম বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার কৃষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘কিছু আগাম আলু মাটিতে বপন করেছি। আরও বপন করার প্রস্তুতি নিয়েছি। হঠাৎ বৃষ্টির কারণে বপন করা আলু নিয়ে চিন্তায় আছি। সেই সাথে বৃষ্টিতে তৈরি করা মাটি রসাল হওয়ার কারণে আলু লাগানো কয়েকদিন পিছিয়ে গেলাম। এমনিতেই এবার গতবারে চেয়ে আলু বীজের দাম কেজিতে ২০-২৫ টাকা বেশি। এজন্য আলু আবাদ করা বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছি।’

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টিতে নিচু জমির ধানের কিছু ক্ষতি হয়েছে। যার পরিমাণ খুব বেশি নয়। এ কারণে ধান উৎপাদনে কোনো প্রভাব পড়বে না। আর বৃষ্টি বা ঝড়ো হওয়া না হলে তেমন ক্ষতি ঠাকুরগাঁওয়ে হবে না। কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি নুয়ে পড়া ধান যেন দ্রুত কেটে নেয়। সেই সাথে শাকসবজির জমে থাকা পানি দ্রুত সময়ে বের করার ব্যবস্থা নেয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ