রাজশাহীতে মালপাহাড়ি আদিবাসীদের রক্ষায় পাহাড়িয়া গ্রাম পরিদর্শন করেছেন নাগরিক সমাজের এক প্রতিনিধিদল। রবিবার (০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫) সকাল সোয়া ১০টার দিকে,রাজশাহী মহানগরীর ২নং ওয়ার্ডের মোল্লাপাড়া আদিবাসী পাহাড়িয়া গ্রামে যান তারা। প্রতিনিধিদল পাহাড়িয়া জনগোষ্ঠীর উচ্ছেদ আতঙ্কগ্রস্ত মানুষের সাথে তাদের সমস্যা নিয়ে কথা বলেন এবং তাদের ভিটেমাটি রক্ষার লড়াইয়ের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেন। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা পাহাড়িয়া জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। উক্ত ভূমির দলিল সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে পাহাড়িয়া জনগোষ্ঠীর মাঝে বিতরণ ও আবাসনের ব্যবস্থা করার উপরও গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা। এছাড়াও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিগণ বলেন, আদিবাসী পাহাড়িয়াদের উচ্ছেদ বন্ধে সেখানে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ভূমিদস্যু সাজ্জাদ আলীকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন নাগরিক উদ্যাগ এর প্রধান নিবার্হী জাকির হোসেন, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম এর কেন্দ্রীয় সদস্য দীপায়ন খীসা, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি জামাত খান, ব্লাস্ট-প্রধান কার্যালয় এর প্রতিনিধি মোঃ মিনহাজুল কাদির,জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সূভাষ চন্দ্র হেমব্রম, সিসিবিভিও সমন্বয়কারী আরিফ ইথার, বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন (বিডিইআরএম) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিপন কুমার রবিদাস, ব্লাস্ট-রাজশাহী জেলা সমন্বয়কারী সামিনা বেগম, স্বেচ্ছাসেবক সম্রাট রায়হান, কবি সোহরাব হাসান, প্রমুখ।উল্লেখ্য,রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লাপাড়ায় মুক্তিযুদ্ধের পর ছয়টি পাহাড়িয়া পরিবার বাড়ি করার সুযোগ পায়। তিন প্রজন্মে এখন বাড়ি হয়েছে ১৬টি। এত দিন পর সাজ্জাদ আলী নামের এক ব্যক্তি এই ১৬ কাঠা জমির মালিকানা দাবি করছেন। তিনি ১৬ পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা দিয়ে উচ্ছেদের আয়োজন করেছিলেন। তিনটি পরিবার কয়েক দিন আগেই বাড়ি ছাড়ে। শুক্রবার সেখানে খাসি কেটে খাইয়ে-দাইয়ে তাদের বিদায়ের আয়োজন ছিল। রোববার ঘর ছাড়ত বাকিরা।