• বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

জয়পুরহাটে চামড়ার বাজারে সিন্ডিকেট, হতাশ মৌসুমী ব্যবসায়ীরা

দেশের আওয়াজ ডেস্ক : / ৯৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১০ জুন, ২০২৫

জয়পুরহাটে এবারও কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে ধস নেমেছে। এলাকা থেকে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে চামড়া কিনে এনে গাড়ি ভাড়াও তুলতে পারছেন না মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। অনেক জায়গায় দাম কম হওয়ায় অবহেলায় মাটিতে লুটাচ্ছে চামড়া।

মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের অভিযোগ সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে সিন্ডিকেট করে নিজেদের ইচ্ছেমতো চামড়া কিনছেন আড়ৎদাররা।

উল্লেখ্য, গত ২৬ মে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেয়। ঢাকার বাইরের গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয় ৫৫-৬০ টাকা, যা গত বছর ছিল ৫০-৫৫ টাকা।

জানা গেছে, এবার বাজারে প্রতিটি গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়।ছাগলের চামড়া কেনার আগ্রহ নেই ব্যবসায়ীদের। জয়পুরহাট সদর উপজেলার ধালাহার গ্রামের সুজাউল মন্ডল , কালাই উপজেলার হাতিয়র গ্রামের গোলাম রব্বানী, ক্ষেতলাল উপজেলার দাশড়া গ্রামের হানিফ হোসেনসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার কোরবানিদাতারা জানান, গত বছরের মতোই এবারও চামড়ার দাম নেই।

শহরের নতুহাট এলাকার মোয়াজ্জেম হোসেন, জামালগঞ্জ বাজারের মতিউর রহমানসহ মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, কোরবানির চামড়ার আকস্মিক দরপতনে দিশেহারা তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেক ফড়িয়া জানান, সীমান্তে কড়াকড়ি না থাকলে তারা ওপারে চামড়া পাঠিয়ে কিছু লাভের মুখ দেখতেন। এবার সেটিও হচ্ছে না। পুঁজি সংকট, ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়া পাওনা ইত্যাদি কারণে চামড়ার দাম পড়ে গেছে।

জয়পুরহাট শহরের চামড়া ব্যবসায়ী মোঃ গোলজার হোসেন, সুমন আলী জানান, ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়া পাওনা রয়েছে কোটি কোটি টাকা। হাতে টাকা না থাকায় তারা কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে চামড়া কিনতে পারছেন না। ফলে বাজারে চাহিদা কম থাকায় চামড়ার মূল্য স্বাভাবিক কারণে কমে গেছে।

অন্যদিকে, চামড়া পাচার রোধে সীমান্তে বিজিবির টহল বাড়ানো হয়েছে। এতে দেশের স্থানীয় বাজারে আপাতত চামড়া কেনাবেচা করতে হচ্ছে।

কাঙ্খিত দাম না পেয়ে চামড়া বিক্রি করতে আসা সদর উপজেলার পুরানাপৈল গ্রামের আনিছুর রহমান বলেন, গতবছরের মতো এবারও পানির দরে চামড়া বিক্রি করতে হলো। জয়পুরহাট পৌর শহরের আরাফাত নগর মহল্লার রাজু হোসেন বলেন, এক লাখ ৭০ হাজার টাকার গরুর চামড়া বিক্রি করতে হলো ৬০০ টাকা।

জয়পুরহাট ২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোঃ আরিফুর দৌলা জানান, তাদের অধীনে সীমান্ত এলাকা রয়েছে প্রায় সাড়ে ৪১ কিলোমিটার। এর মধ্যে ২২ কিলোমিটার এলাকা কাঁটাতারে ঘেরা। বাকি ১৮ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতার নেই। চোরাকারবারিরা মূলত এই জায়গাটিকেই তাদের পাচারের পথ হিসেবে ব্যবহার করে। ফলে এই জায়গাগুলো সব সময় নজরদারির মধ্যে রাখা হয়। চামড়া পাচার রোধে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ