৫ বছর পরে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে বিউটি খাতুন হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই)। অন্তঃসত্ত্বা বিউটি বিয়ের চাপ দেওয়া তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হত্যার সঙ্গে জড়িত স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
সোমবার (২৯ মে) দুপুরে সিরাজগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এতথ্য জানান সিরাজগঞ্জ পিবিআই এর পুলিশ সুপার রেজাউল করিম।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন, এনায়েতপুর থানার ব্রাহ্মণগ্রামের মৃত আমির হোসেনের ছেলে স্বপন ব্যাপারি (৩৭), মৃত জসিম উদ্দিনের ছেলে মমিন (৫৫), মমিনের স্ত্রী আনু বেগম (৪০) ও আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে ওমর ফারুক (২৮)।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার ব্রাক্ষণগ্রামের সাচ্চু মিয়ার মেয়ে বিউটি খাতুনের বিয়ে হয় ২০১৪ সালে। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পারিবারিকভাবে মিমাংসার মাধ্যমে বিউটি তার স্বামী তালাক দেয়। এরপর থেকে বিউটি তার বাবার বাড়িতে বসবাস করে আসছিল। বাড়িতে থাকাকালীন বিউটি খাতুনের বাড়ির পাশ্ববর্তী প্রতিবেশি আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে ওমর ফারুকের সঙ্গে কথা বলত এবং মাঝে মধ্যে ওমর ফারুক বিউটিকে বিয়ের প্রস্তাব দিতো। এমতবস্থায় বিউটির বাবা সাচ্চু মিয়া প্রতিবেশি স্বপন ব্যাপারিকে জানায় যে ওমর ফারুক তার মেয়েকে ডিসটার্ব করে একটু শাসন করে দিতে হবে। স্বপন ব্যাপারি এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় সে ওমর ফারুককে ডেকে এনে শাসন করে। এর মধ্যে স্বপন ব্যাপারি বিউটির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কে থেকে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয়। দুই মাসের সম্পর্কে বিউটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে গেলে স্বপনকে বিয়ে জন্য চাপ দেয় বিউটি। কিন্তু স্বপন বিবাহিত হওয়ায় বিউটিকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে। স্বপন ব্যাপারি কি করবে তা ভেবে না পেয়ে প্রতিবেশি ওমর ফারুককে ডেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে। পরে স্বপন বিউটিকে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং বিউটির ছোট খালাকে টাকার বিনিময়ে বিউটিকে হত্যার প্রস্তাব দেয়। ২০১৮ সালের ১৩ মে রাতে স্বপন লোকজন নিয়ে বিউটির বাড়ির পাশে মিলিত হয়। তারা বিউটির ঘরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত বিউটির হাত, পা, মাথা চেপে ধরে বালিশচাপা দিয়ে বিউটিকে হত্যা করে কৌশলে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় বিউটির বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বিউটির বাবার আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্ত চলাকালে ঘটনার সেঙ্গ জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করে পিবিআই।