বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে জিতল নিউজিল্যান্ড। ব্যাটারদের ব্যার্থতায় ২৮২ রানেই থেমে যায় ইংল্যান্ডের ইনিংস। জবাবে ব্যাট করতে নেমে রীতিমতো ইংলিশ বোলারদের সঙ্গে এক প্রকার ছেলে-খেলাই করেছে নিউজিল্যান্ডের দুই ব্যাটার ডেভিড কনওয়ে এবং রাচিন রবীন্দ্র।
একেবারে পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব করে বললে ২৭ বলের মধ্যে রেকর্ডের হাতবদল দেখল নিউজিল্যান্ড! ইনিংসের ২৭তম ওভারের প্রথম বলে সেঞ্চুরি হয়ে গেল ডেভন কনওয়ের, ৮৩ বলের ওই সেঞ্চুরিতে রেকর্ড –নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড নতুন করে লিখলেন কনওয়ে। বাংলাদেশ তাতে একটু স্বস্তি পেতে পারে, এর আগের রেকর্ডটি যে ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে – ২০১৫ বিশ্বকাপে মার্টিন গাপটিলের, ৮৮ বলে।
কিন্তু গাপটিলকে তিনে আর কনওয়েকে দুই নম্বরে ঠেলে ৩১তম ওভারের চতুর্থ বলে রেকর্ডটা নিজের করে নিলেন রাচিন রবীন্দ্র। লিভিংস্টোনের বলে সিঙ্গেল নিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি হয়ে গেল রবীন্দ্রর, তাঁর ইনিংসের বয়স তখন ৮২ বল!
কনওয়ে, রবীন্দ্র – ওয়েলিংটনে দুজনের বাসাই কাছাকাছি। দুজনেরই প্রথম বিশ্বকাপ এটি। দুজন বন্ধু। আসলে দুজন নন, টম ব্লান্ডেলকেও নিয়ে তিনজনের বন্ধুত্বটা দারুণ। ব্লান্ডেল বিশ্বকাপের দলে নেই, বাড়িতে বসে নিশ্চিত দুই বন্ধুর কীর্তি উপভোগ করেছেন ব্লান্ডেল। আর ক্রিজে কনওয়ে আর রবীন্দ্রর অনুভূতি কী হতে পারে, তা খুব কাছের বন্ধু বলার মতো কেউ আছে – এমন যে কেউই হয়তো বুঝে নিতে পারেন।
নিউজিল্যান্ডের এই দুই ব্যাটসম্যানকে নিয়েই আজ যা বলার বলতে হয়। আহমেদাবাদে আজ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে এই দুজনের কাছেই যে হেরে গেছে ইংল্যান্ড। গত বিশ্বকাপের ফাইনালের পুনর্মঞ্চায়নে ইংল্যান্ডের ২৮২ রান হেসেখেলে, রেকর্ড ভেঙেচুরেই পেরিয়ে গেছে নিউজিল্যান্ড। ৯ উইকেটের জয়টা এসেছে ৮২ বল হাতে রেখে। নেট রানরেটে বিশাল এক লাফ দিয়ে রাখল নিউজিল্যান্ড!
শেষ পর্যন্ত কনওয়ে দেড় শ রানের মাইলফলক পেরিয়ে গেলেও রবীন্দ্রর সে সুযোগ হয়নি। তিনি অপরাজিত ছিলেন ১২৩ রানে, কনওয়ে ১৫২ রানে। সে জন্য ইংল্যান্ডকে দোষারোপ করতে পারেন দুজন। ইংল্যান্ড আরও কিছু রান করতে পারলেই তো হতো। তবে তা না হলেও নিউজিল্যান্ডের জয়সূচক রানটা এসেছে রবীন্দ্রর ব্যাট থেকে – আপাতত এটাই হতে পারে তাঁর সান্ত্বনা।