• মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩৬ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

দেশটাকে বিদেশিদের ক্রিয়াক্ষেত্র বানানোর অপচেষ্টা হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

দেশের আওয়াজ ডেস্কঃ / ১৪৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশ : রবিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৩

আজ বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, সেটি অব্যাহত রেখে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্নের ঠিকানায় যদি পৌঁছতে হয়, তাহলে দেশ থেকে ঘৃণার রাজনীতি চিরতরে বন্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

রোববার (১৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

১৫ আগস্ট উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয় প্রেসক্লাব।

সভায় জামায়াতে ইসলামী এই দেশটাকে চায়নি মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এই দেশের পতাকার বিরুদ্ধে, চাঁদ-তারা পতাকার পক্ষে তারা যুদ্ধ করেছিল পাকিস্তানিদের দোসর হয়ে। তাদেরকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া, তাদেরকে আঁচলের তলায় ছায়া দিয়ে, তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে রাজনীতি করা যদি বন্ধ না হয়, তাহলে দেশকে আমরা স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছাতে পারবো না।

নির্বাচন সন্নিকটে। নানা ধরনের ষড়যন্ত্র খেলাধুলা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এগুলো কোনো কিছুই কিছু করতে পারবে না। সেজন্য আজকে যারা ঘৃণার রাজনীতি, অপরাজনীতি করছে এবং বিদেশিদের কাছে ধর্না দিয়ে দেশটাকে বিদেশিদের ক্রিয়াক্ষেত্র বানানোর অপচেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে আপনাদের (সাংবাদিক) কথা বলার অনুরোধ জানাই। তাহলেই দেশ সঠিক পথে হাঁটবে এবং আমরা আগামীর স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে পারবো।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হচ্ছে জিয়াউর রহমান ও তার পরিবার। জিয়াউর রহমান যে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিল। সেটির প্রমাণ হচ্ছে, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর জিয়াউর রহমানকে সেনাবাহিনীর প্রধান নিয়োগ করেছিল খন্দকার মোশতাক। তার অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন না হলে জিয়াউর রহমানকে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনী প্রধান নিয়োগ করা হতো না।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউর রহমান যে জড়িত ছিল তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ হচ্ছে, তিনি বঙ্গবন্ধুর সব হত্যাকারীদের পুনর্বাসন করেছিলেন। বিদেশি দূতাবাসে চাকরি দিয়েছিলেন। দেশত্যাগের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। আরও প্রমাণ হচ্ছে, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ রুদ্ধ করার জন্য ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ আইন পাস করা হয়েছিল।

জিয়াউর রহমান নামে যে একজন মানুষ আছে, সেটি পঁচাত্তরের আগে দেশের মানুষ জানতো না। জিয়াউর রহমান নিজের জীবদ্দশায় কখনো বলেননি, তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছেন। ঘোষক তো দূরের কথা। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর তার হত্যাকারী জিয়াউর রহমানকে নায়ক বানানোর চেষ্টা করা হয়েছিল৷ ঘটনাপ্রবাহ বলে পাকিস্তানিদের অনুচর হিসেবে তিনি (জিয়াউর রহমান) মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। না হলে তিনি কেন বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর যারা পাকিস্তানে পালিয়ে গিয়েছিল, তাদের দেশে এনে পুনর্বাসিত করলেন?

মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী সমস্ত মানুষ বিএনপিতে যোগদান করেছিল অভিযোগ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাবাও একজন মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী মানুষ ছিলেন। স্বাধীনতার পর অনেকদিন তার বাবা সঙ্গে তিনিও (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) আত্মগোপনে ছিলেন। এভাবে নাম ধরে ধরে আমি লজ্জা দিতে চাই না। এগুলোই প্রমাণ করে জিয়াউর রহমান সত্যিকার অর্থে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি। বরং পাকিস্তানিদের সহযোগিতা করার জন্য তিনি মুক্তিযুদ্ধে ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ