দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে সংলাপের পথ বিএনপি রুদ্ধ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, শনিবার ও রোববারের ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিএনপি সংলাপের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে।
রোববার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে ধানমণ্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সেতুমন্ত্রী।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পদত্যাগের দাবিতে অনেকদিন ধরেই আন্দোলন করছে বিএনপি। তাদের দাবি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন। অন্যদিকে এই প্রশ্নে কোনো ছাড় দিতে বা আপস করতে রাজি নয় আওয়ামী লীগ।
নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দিয়ে রাজপথে শক্তি প্রদর্শন করছে। দুটি পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানের সমর্থনে শক্তি দেখানোয় সংঘাতের আশঙ্কা করছিলেন বিশ্লেষকেরা। সেজন্য তারা সংলাপে বসে সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দেন। এরই মধ্যে গতকাল শনিবার মহাসমাবেশ চলাকালীন বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষে জড়ায়। সংঘর্ষে এক পুলিশ সদস্যসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন পুলিশের ৪১ ও আনসারের ২৫ সদস্য। সংঘর্ষে হাজারের বেশি নেতাকর্মীও আহত হয়েছেন বলে দাবি করছে বিএনপি।
বিকেলের সংবাদ সম্মেলনে সংলাপের বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সংলাপের পথ বিএনপি রুদ্ধ করে দিয়েছে৷ এখন আর সে সুযোগ নাই। আমরা আগ বাড়িয়ে সংলাপ নিয়ে কোনো চিন্তা ভাবনা করছি না। তবুও আওয়ামী লীগ চায়, বিএনপি নির্বাচনে আসুক।’
জামায়াত তাদের সমাবেশের পর সরকারকে ধন্যবাদ দিয়েছে৷ তাহলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের কোনো আঁতাত হয়েছে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশের বাঘা বাঘা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করল যে সরকার, সে সরকারের সততা নিয়ে আপনি প্রশ্ন তুললেন?’
নির্বাচনকালীন সরকারে বিএনপির কাউকে রাখা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ইলেকশন টাইমে যদি বাইরের কাউকে যুক্ত করাও হয়, তাহলেও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের করব। তাদের তো কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি নাই। পদত্যাগ করেছে৷’
বিএনপি সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়ে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম, আমরা থাকব। আমি তো আছি। বিএনপি কোথায়? আন্দোলনে? তারা এখন ষড়যন্ত্রমূলক সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে৷ দোসর জামায়াতকে নিয়ে তারা যা করেছিল, এখনো সেই অন্ধকারের পথে তারা পুনরায় যাত্রা শুরু করবে। তারা গতকাল দেশ-বিদেশে সবাইকে জানিয়ে দিয়েছে। তাদের ভয়ংকর চেহারা উন্মোচন হয়েছে।
সেতুমন্ত্রী বলেন, তারা (বিএনপি) বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আয়োজিত শান্তি সমাবেশে আসা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে। অর্ধশত যানবাহনে হামলা ও ভাঙচুর করেছে। আওয়ামী লীগের একটি কার্যালয় ভাঙচুর, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলমকে হত্যা করেছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও কয়েকজন নেতাকর্মীকে আহত করা হয়েছে। হামলাকারী ও নির্দেশদাতাদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত সারাদেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান কাদের।
আগামী ৪ নভেম্বর মেট্রোরেল উদ্বোধন উপলক্ষ্যে ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবেন বলেও জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, কামরুল ইসলাম, কর্নেল ফারুক খান, আবদুর রহমান, শাহজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, মাহবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম; সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন, আহমেদ হোসেন, আফজাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দি; উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।