দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যর্থ মন্ত্রী ও মেয়রদের বরখাস্ত করার দাবিতে সচিবালয় অভিমুখে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নেতৃত্বে একটি মিছিল গুলিস্তান জিরো পয়েন্টে গেলে পুলিশ বেরিকেড দিয়ে আটকে দেয়। এসময় নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। নেতাকর্মীরা সেখানেই বসে বিক্ষোভ করেন।
ডেঙ্গুতে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ জন মারা যাচ্ছে বলে দাবি করে সাইফুল হক বলেন, কয়েকদিন আগে এক শিশু তার বাবাকে হাসপাতালে নেওয়ার আগে জিজ্ঞাসা করেছিল, বাবা আমি কি আর বাঁচব। তার কয়েকদিন পর সেই বাবাকে সন্তানের লাশ কাঁধে নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। অথচ এখন দুই মেয়র ও মন্ত্রী বহাল আছেন। যে মেয়ররা মশা মারতে পারে না, তাদের অবিলম্বে বরখাস্ত করুন। যে মন্ত্রী চিকিৎসা দিতে পারে না, তার পদত্যাগ দাবি করছি।
সাইফুল হক বলেন, সাইবার নিরাপত্তা আইন পাস করা হয়েছে। সেখানে অনেক নিবর্তনমূলক ধারা রয়েছে। সেখানে ৪২ নম্বর ধারায় বলা আছে পুলিশ কোনো রকম গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়া যেকোনো জায়গায় তল্লাশি ও গ্রেফতার করতে পারবে। এটা মুক্ত গণমাধ্যম ও মুক্ত সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে। আমরা অবিলম্বে এই আইন বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, সরকারকে বলতে চাই- এখনও সময় আছে শান্তিপূর্ণভাবে আপনি (প্রধানমন্ত্রী) কখন কীভাবে পদত্যাগ করবেন সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা দিন। কীভাবে নির্বাচনকালীন সরকার হতে পারে তার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিন, তাহলে বিরোধীদল আপনার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে কীভাবে শান্তিপূর্ণভাবে বিদায় নিতে পারেন সেটা ঠিক করে দিতে পারে। আর যদি অহমিকা করে ক্ষমতায় থাকতে চান তাহলে জেনে রাখুন, কোনো স্বৈরাচারী সরকার গণরোষের কাছে টিকতে পারেনি। আপনিও পারবেন না।
সাইফুল হক বলেন, বাণিজ্যমন্ত্রী বললেন- ‘বাজার সিন্ডিকেট খুব শক্তিশালী।’ তার এই কথার পর প্রধানমন্ত্রী বললেন- ‘আমি বাণিজ্যমন্ত্রীকে ধরব।’ এরপর মন্ত্রী বললেন, ‘সিন্ডিকেট কোনো সমস্যা না।’ কিন্তু আমরা জানি সরকারের লোক ও সিন্ডিকেট মিলে প্রতিদিন মানুষের পকেট কেটে হাজার-হাজার কোটি টাকা লুটে নিচ্ছে। এতদিন বলতো রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে দাম বাড়ছে, আমি জানতে চাই- কাঁচামরিচের দাম যে ১ হাজার টাকা হলো এটা কি কারণে। এক কেজি পেঁয়াজ ৬০ টাকা দিয়েও পাওয়া যায় না। এইভাবে কোনো দেশ চলতে পারে না।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।