অবৈধভাবে শক্তি প্রয়োগ করে আর ক্ষমতায় যাওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, দেশের জনগণ ও বিশ্ববাসীর কাছে এটা স্বীকৃত যে অবৈধ সরকার গোটা দেশ অবৈধভাবে দখল করেছে।
মঙ্গলবার (৪ জুলাই) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
রিজভী বলেন, চৌদ্দ বছর ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ছিল হাড়-হিম করা। জোরপূর্বক গুম, নারীর প্রতি সহিংসতা অতিমাত্রায় বৃদ্ধি, সাংবাদিক হত্যা, বেআইনি আটক ও রহস্যজনক নিখোঁজের হিড়িকের মাধ্যমে ওবায়দুল কাদের সাহেবরা দেশ চালিয়েছেন। সেই প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী দেশ শাসনের অবসান ঘটাতে জনগণ এবার সর্বাত্মক প্রস্তুত আছে।
তিনি বলেন, দেশটা আওয়ামী নেতাদের বাপ-দাদার জমিদারী নয়। তারা আক্রমণাত্মক ভাষায় শিষ্টাচার ও বিনয়কে বিদায় দিয়েছে। যখন যা ইচ্ছে সেটা করবেন এবং বলবেন সেই দিন শেষ হয়ে আসছে। জনগণকে আওয়ামী শাসকগোষ্ঠীর কাছে কৃপাপ্রার্থী বানানোর চেষ্টার অবসান ঘটিয়ে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়কের অধীনেই নির্বাচন হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, আপনি ৫-১০ টাকা কেজি কাঁচা মরিচকে এখন ১ হাজার টাকায় উন্নীত করেছেন। বিএনপির অর্ধকোটি নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। লাখ লাখ নেতাকর্মীকে বাড়ি-ঘর ও এলাকা ছাড়া করেছেন। তিনি বলেন, এবার জনগণ অপশাসনের দিনের অবসান ঘটাবে। মানুষ গণতন্ত্র অর্জনের জন্য সকল প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামবে।
অভিযোগ করে রিজভী বলেন, গতকাল পর্যন্ত কুষ্টিয়া, নড়াইল ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর সশন্ত্র আক্রমণ চালিয়ে রক্ত ঝরানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েল, আমিনুল ইসলাম, আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী ও তারিকুল আলম তেনজিং প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।