• বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:২৩ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

দল ভাঙা নিয়ে প্রশ্নে হাফিজ বললেন ‘নো কমেন্ট’

দেশের আওয়াজ ডেস্কঃ / ২১৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৩

বিএনপি ভেঙে নতুন দল করে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন- এরকম নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে দলের ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে নিয়ে। ইতোমধ্যে বিএনপির শীর্ষ এই নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন- এমন কথাও শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যেই তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ গতকাল দাবি করেছেন, হাফিজ উদ্দিন বিএনপি ভেঙে নতুন দল করছেন। তবে মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেছেন- ‘নো কমেন্ট’।

মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) বিভিন্ন গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে হাফিজ উদ্দিন জানান, তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। রাজনীতি নিয়ে কোনো চিন্তা-ভাবনা এই মুহূর্তে তিনি করছেন না। তিনি চিকিৎসার জন্য শিগগির বিদেশে যাবেন বলেও জানান।

আগামী নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে হাফিজ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় বিএনপির নির্বাচনে যাওয়া উচিত। বিএনপি নির্বাচনে গেলে আমি সেই নির্বাচনে অংশ নেব।’ তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কারা মধ্যস্থতা করবে সে সম্পর্কে তিনি কিছু বলেননি।

আপনি নতুন দল করছেন, নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে সরকারের মন্ত্রীরা দাবি করছেন, এ ব্যাপারে আপনার প্রতিক্রিয়া কী? জবাবে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি আর কিছু বলতে চাই না। রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমি দেখছি… এই টুকুই আপনি লিখুন। এর বেশি কিছু এখন বলব না।’

৭৯ বছর বয়সী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ গত দুই মাস আগে অসুস্থ হয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। আমি সিএমএইচ ছিলাম। এরপর একবার সিঙ্গাপুরে গেছি চিকিৎসার জন্যে। এখন শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। সেজন্য আবার চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাব। ভিসার জন্য এপ্লাই করব।’

একাত্তরেরে স্বাধীনতা যুদ্ধে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন ‘জেড’ ফোর্সে ছিলেন। যুদ্ধে সাহসিকতার জন্যে তিনি বীরবিক্রম খেতাব পান। সামরিক বাহিনী থেকে অবসরের পর তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হন।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) থেকে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে খালেদা জিয়া সরকার গঠন করলে তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রী ছিলেন। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন তিনি। সরকারের দমননীতির বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে কারাগারও যেতে হয়েছে তাকে।

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে এক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় ২০২০ সালে দলের ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও শওকত মাহমুদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দল ভেঙে নতুন বিএনপি গড়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গেও তিনি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে সোমবার এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘অনেকেই লাইন ধরে আছে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য। আর বিএনপির সাবেক মন্ত্রী বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মেজর হাফিজের নেতৃত্বে আর একটি দল হতে যাচ্ছে। তারা শিগগির ঢাকায় কনভেনশন করবে। সুতরাং বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও নেতাদের অংশগ্রহণ ঠেকাতে পারবে না। তাই অনুরোধ জানাব, দল যদি টেকাতে চান তাহলে নৈরাজ্যের পথ পরিহার করুন, নির্বাচনে আসুন, আপনাদের জনপ্রিয়তা যাচাই করুন।’

অবশ্য তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দিচ্ছেন কি না জানতে চাইলে হাফিজ বলেন, ‘তৃণমূল বিএনপি আমি চিনিই না। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না।’

বিএনপি ভেঙে নতুন দল করা নিয়ে তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে হাছান মাহমুদ হাফিজ কোনো প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে বলেন, ‘নো কমেন্ট’।

এদিকে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার দাবি করেছেন, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছেন।

মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) তিনি বলেন, ‘এবার বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর হাফিজ বিএনপি থেকে নির্বাচন করবেন না। তিনি বিএনএম পার্টিতে যোগ দিয়েছেন। সেই দল থেকে নির্বাচন করবেন। তা না হলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। তবু বিএনপি থেকে ভোটে লড়াই করবেন না। ইতোমধ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখাও করেছেন।’

বিএনএমের যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিএনপির পিরোজপুর জেলা কমিটির সাবেক সদস্য ব্যারিস্টার সরওয়ার হোসেনের বক্তব্যেও হাফিজের যোগাযোগের বিষয়টি কিছুটা পরিষ্কার হয়েছে। তিনি বলেন, ‘শুধু মেজর হাফিজই নন অনেকেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। আমরা কোনো দল ভেঙে বা কাউকে প্রলোভন দেখিয়ে দলে ভেড়াবো না। যারা সবকিছু বিবেচনা করে আসবে বিএনএম তাদেরকেই নেবে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ