বাংলাদেশে ক্রিকেটে একটা সময় যখন ওপেনিংয়ে ভরসার কোনো নাম ছিল না। তামিমই দেখিয়েছিলেন সেই আশার আলো। ক্যারিয়ারের শুরুতেই সাবলীলভাবে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে বোলারদের মাঝে ভয় ধরানোর কাজটা করতেন । এরপর তার ১৬ বছরের ওপেনিং ক্যারিয়ারে অনেক সঙ্গী এসেছেন গেছেন কিন্তু ঢাল হয়ে টাইগারদের ভরসা ছিলেন তিনি। বর্তমান সময়ে তামিমের সঙ্গী হিসেবে লিটন দাস নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেও তামিমের বিকল্প এখনও তৈরি হয়নি। এদিকে বিশ্বকাপের তিন মাসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে তার অবসরের ঘোষণা করেন এই টাইগার ক্রিকেটার। যা বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা বলে অভিহিত করেছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
আইসিসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বকাপের ১৩তম আসরের আগে ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন তামিম। বাংলাদেশের নিয়মিত খেলোয়াড় তিনি। তার হঠাৎ চলে যাওয়া জাতীয় দলের জন্য ধাক্কা।
আজ নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের এমন ইতি টানার দিনে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন তামিম। কথা বলতে গিয়ে বারবার কন্ঠরোধ হয়ে আসে তাঁর। নিজের বাবার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমার বাবার স্বপ্ন পূরণের জন্যই ক্রিকেট খেলেছি আমি। আর শুধু একটি কথাই বলতে চাই, আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।’ এছাড়া অনুরোধ করে তামিম বলেন, ‘আমাকে নিয়ে বেশি গুতাগুতি করিয়েন না’।
২০০৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কেনিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে আগমন হয় তামিমের। এরপর ২৪১টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ১৪টি সেঞ্চুরি ও ৫৬টি ফিফটিতে ৩৬.৬২ গড়ে করেছেন ৮৩১৩ রান। আর ৭০টি টেস্ট খেলে ৩৮.৮৯ গড়ে করেছেন ৮৩১৩ রান। যেখানে ৩১ ফিফটির সঙ্গে রয়েছে ১০ সেঞ্চুরি। যা বাংলাদেশ ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত সবার ওপরে ওয়ানডেতে।
এছাড়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট অবশ্য আগেই ছেড়েছেন তামিম। গত জুলাইয়ে অবসর নেওয়ার আগে ৭৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে করেছেন ১৭৫৮ রান। দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে এ সংস্করণে একমাত্র সেঞ্চুরিটি করেছেন তিনি। এরসঙ্গে রয়েছে ৭টি ফিফটিও। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেটে তালিকায় রয়েছেন তৃতীতে।
অন্যদিকে টেস্ট ক্রিকেটেও বাংলাদেশকে লম্বা সময় সার্ভিস দিয়েছেন তামিম। ৭০ ম্যাচে ৩৮.৮৯ গড়ে ৫১৩৪ রান করেছেন তামিম। সেঞ্চুরি ১০টি ও ফিফটি ৩১টি। এই সংস্করণে টাইগারদের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান ও সেঞ্চুরি করেছেন তামিম।