ঢাকা ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

চিনি নাকি গুড়, কোনটা ভালো

দেশের আওয়াজ ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৩:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩ ৪৮ বার পড়া হয়েছে

অনাদিকাল থেকে প্রাকৃতিক মিষ্টির একটি অনন্য উপাদান হল চিনি। তবে স্বাস্থ্যের জন্য চিনি, না গুড়-কোনটা তুলনামূলক ভালো?

বাদামি ও সাদা চিনির ক্যালরি খুব কাছাকাছি। যেমন, এক টেবিল চামচ বাদামি চিনিতে ১৫ ক্যালরি আর সমপরিমাণ সাদা চিনিতে ১৬.৩ ক্যালরি থাকে। বাদামি চিনিতে ক্যালসিয়াম, আয়রন, জিংক, কপার, ফসফরাস ও পটাশিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট পাওয়া যায়।

কিন্তু বেশি প্রক্রিয়াকরণের কারণে সাদা চিনিতে ক্যালরি ছাড়া অন্য কোনো খনিজ উপাদান নেই এবং সালফার থাকায় মানবদেহের জন্য ঝুঁকিও থাকে। তবে বাদামি চিনিতে যেসব খনিজ উপাদান থাকে, তার পরিমাণ এতটাই ন্যূনতম যে স্বাস্থ্যের জন্য খুব বেশি সুবিধা দেয় না।

গুড় যেকোনো চিনির তুলনায় স্বাস্থ্যকর। এটি আয়রন, পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬, ম্যাংগানিজ, ম্যাগনেশিয়ামের মতো অত্যাবশ্যকীয় ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থে পরিপূর্ণ। গুড়ের গ্লাইসেমিক সূচক কম হওয়ায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে ও ওজন হ্রাসে সহায়তা করে। এ ছাড়া গুড় পলিফেনল ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্টের পাওয়ার হাউস। এতে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য আছে, যা শরীরে রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গুড় নন-হিম আয়রনের (উদ্ভিজ্জ খাদ্য থেকে প্রাপ্ত) একটি চমৎকার উৎস, যা নারীদের ঋতুস্রাবের সময় এবং মাসিকের ক্রাম্পের ব্যথায় বেশ উপকারী।

পরিশোধিত বা সাদা চিনি সুক্রোজের সহজতমরূপ, যা রক্তে সহজেই শোষিত হয় এবং তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়। এতে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হঠাৎ বাড়তে পারে, যা ডায়াবেটিক রোগীর জন্য ভালো নয়। অতিরিক্ত সেবনে ওজন বাড়তে পারে। অপর দিকে গুড় ধীরে ধীরে শরীরে শক্তি জোগায়, যা দুর্বলতা, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, সোডিয়াম, পটাশিয়ামের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা প্রতিদিন অল্প পরিমাণে গুড় খেতে পারেন।

পুষ্টিগত দিক থেকে বাদামি চিনি ও গুড়ের পার্থক্য রয়েছে ব্যাপক। ১০০ গ্রাম বাদামি চিনিতে ক্যালরি থাকে ৩৮০ এবং গুড়ে ২৯০। আবার ১০০ গ্রাম গুড়ে চিনির পরিমাণ ৭৪.৭ গ্রাম এবং বাদামি বা লাল চিনিতে ৯৭ গ্রাম চিনি থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম গুড়ে ক্যালসিয়াম থাকে ২০৫ মিলিগ্রাম এবং বাদামি চিনিতে থাকে ৮৩ মিলিগ্রাম। ১০০ গ্রাম গুড়ে আয়রন থাকে ৪.৭ মিলিগ্রাম, যা বাদামি চিনিতে থাকে ০.৭১ মিলিগ্রাম। ১০০ গ্রাম গুড়ে পটাশিয়াম থাকে ১ হাজার ৪৬৪ মিলিগ্রাম এবং বাদামি চিনিতে থাকে ১ হাজার ১০০ মিলিগ্রাম।

আসলে কোনো চিনিই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। তাই আমাদের উচিত চিনি ব্যবহার সীমিত করা, গুড়ের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চিনি নাকি গুড়, কোনটা ভালো

আপডেট সময় : ০৮:৫৩:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩

অনাদিকাল থেকে প্রাকৃতিক মিষ্টির একটি অনন্য উপাদান হল চিনি। তবে স্বাস্থ্যের জন্য চিনি, না গুড়-কোনটা তুলনামূলক ভালো?

বাদামি ও সাদা চিনির ক্যালরি খুব কাছাকাছি। যেমন, এক টেবিল চামচ বাদামি চিনিতে ১৫ ক্যালরি আর সমপরিমাণ সাদা চিনিতে ১৬.৩ ক্যালরি থাকে। বাদামি চিনিতে ক্যালসিয়াম, আয়রন, জিংক, কপার, ফসফরাস ও পটাশিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট পাওয়া যায়।

কিন্তু বেশি প্রক্রিয়াকরণের কারণে সাদা চিনিতে ক্যালরি ছাড়া অন্য কোনো খনিজ উপাদান নেই এবং সালফার থাকায় মানবদেহের জন্য ঝুঁকিও থাকে। তবে বাদামি চিনিতে যেসব খনিজ উপাদান থাকে, তার পরিমাণ এতটাই ন্যূনতম যে স্বাস্থ্যের জন্য খুব বেশি সুবিধা দেয় না।

গুড় যেকোনো চিনির তুলনায় স্বাস্থ্যকর। এটি আয়রন, পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬, ম্যাংগানিজ, ম্যাগনেশিয়ামের মতো অত্যাবশ্যকীয় ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থে পরিপূর্ণ। গুড়ের গ্লাইসেমিক সূচক কম হওয়ায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে ও ওজন হ্রাসে সহায়তা করে। এ ছাড়া গুড় পলিফেনল ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্টের পাওয়ার হাউস। এতে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য আছে, যা শরীরে রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গুড় নন-হিম আয়রনের (উদ্ভিজ্জ খাদ্য থেকে প্রাপ্ত) একটি চমৎকার উৎস, যা নারীদের ঋতুস্রাবের সময় এবং মাসিকের ক্রাম্পের ব্যথায় বেশ উপকারী।

পরিশোধিত বা সাদা চিনি সুক্রোজের সহজতমরূপ, যা রক্তে সহজেই শোষিত হয় এবং তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়। এতে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হঠাৎ বাড়তে পারে, যা ডায়াবেটিক রোগীর জন্য ভালো নয়। অতিরিক্ত সেবনে ওজন বাড়তে পারে। অপর দিকে গুড় ধীরে ধীরে শরীরে শক্তি জোগায়, যা দুর্বলতা, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, সোডিয়াম, পটাশিয়ামের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা প্রতিদিন অল্প পরিমাণে গুড় খেতে পারেন।

পুষ্টিগত দিক থেকে বাদামি চিনি ও গুড়ের পার্থক্য রয়েছে ব্যাপক। ১০০ গ্রাম বাদামি চিনিতে ক্যালরি থাকে ৩৮০ এবং গুড়ে ২৯০। আবার ১০০ গ্রাম গুড়ে চিনির পরিমাণ ৭৪.৭ গ্রাম এবং বাদামি বা লাল চিনিতে ৯৭ গ্রাম চিনি থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম গুড়ে ক্যালসিয়াম থাকে ২০৫ মিলিগ্রাম এবং বাদামি চিনিতে থাকে ৮৩ মিলিগ্রাম। ১০০ গ্রাম গুড়ে আয়রন থাকে ৪.৭ মিলিগ্রাম, যা বাদামি চিনিতে থাকে ০.৭১ মিলিগ্রাম। ১০০ গ্রাম গুড়ে পটাশিয়াম থাকে ১ হাজার ৪৬৪ মিলিগ্রাম এবং বাদামি চিনিতে থাকে ১ হাজার ১০০ মিলিগ্রাম।

আসলে কোনো চিনিই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। তাই আমাদের উচিত চিনি ব্যবহার সীমিত করা, গুড়ের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।