• বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০৪ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

আ.লীগ বন্দুকের জোরে ক্ষমতায় আসে না: নানক

দেশের আওয়াজ ডেস্কঃ / ২০৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জোর করে কিংবা বন্দুকের জোরে ক্ষমতায় আসে না। বরং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়ে রাষ্ট্র দায়িত্ব গ্রহণ করে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক। এসময় তিনি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দেন।

শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কৃষি মার্কেটের সামনে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করতে এই সভার আয়োজন করা হয়।

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আওয়ামী লীগ জোর করে ক্ষমতায় আসে না। বন্দুকের জোরে ক্ষমতায় আসে না। জনগণকে সাথে নিয়ে ক্ষমতায় আসে। জনগণকে সাথে নিয়ে নির্বাচন করে। আমরা যা বলি, তা আমরা করি।

তিনি বলেন, আমি একটি কথা বলতে চাই, দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন আমরা কেউ না। এই কৃষি মার্কেটে আগুন লেগেছে, আশেপাশে গরম লাগে নাই? দেশে যদি অশান্তি সৃষ্টি হয়, আমরা কেউ শান্তিতে থাকতে পারব না।

বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্য তুলে ধরে তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজকে বলছেন, তিনি হুমকি দিয়েছেন, কিসের হুমকী দেন? বলেন, গোলমালের কিছু দেখেন নাই। সংঘাতের দিকে যাবে, এখনো তো সংঘাত শুরু হয় নাই।

নানক বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, নির্বাচন হবে। জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে।

বিএনপি মহাসচিবকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম যদি সংঘাত সৃষ্টি করেন, সংঘাতের দিকে এগিয়ে যান, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করেন, আমার উন্নয়নের পথে যদি বাধা সৃষ্টি করেন, আমার অগ্রগতির পথে যদি বাধা সৃষ্টি করেন, মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন যদি অস্বাভাবিক করেন, তাহলে যে হাতে বোমা মারবেন, সে হাত ভেঙে দেওয়া হবে। যে হাতে আগুন দেবেন, সে হাত পুড়িয়ে দেওয়া হবে।

ভোটারদের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য বলেন, আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে উন্নয়ন হয়।

কৃষি মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের সময় পবিত্র মক্কায় অবস্থান করছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, গত ১৪ তারিখ দিনগত রাতে কৃষি মার্কেটে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হয়। এতে আমাদের দোকানদার ভাইয়েরা সর্বস্ব হারিয়ে ফেলেন।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটকে ‘মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের প্রাণের মার্কেট’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, সেদিন এই বার্তা পাওয়ার পর আমি ফায়ার সার্ভিসের ডিজির সঙ্গে, তেজগাঁও জোনের ডিসি, মোহাম্মদপুর থানার ওসির সঙ্গে কথা বলি। এই মার্কেট কমিটির সভাপতি সলিমুল্লাহ সলু ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি।

তিনি বলেন, আমি কৃতজ্ঞতা জানাই, এই পার্শ্ববর্তী এলাকার উর্দুবাসীদের প্রতি। তারা এই কৃষি মার্কেটে দুর্ঘটনা পর ঝাঁপিয়ে পরেছেন। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই পুলিশ ভাইদের প্রতি।

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আগুনে পুড়ে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে আপনাদের। আমরা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, যুব মহিলা লীগ আপনাদের পাশে ছিলাম, পাশে আছি এবং পাশে থাকব ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, দোকানদার ভাইয়েরা, আপনাদের আশ্বস্ত করার, শান্তনা দেওয়ার ভাষা আমার জানা নাই। আমি পবিত্র ওমরা পালন করে আপনাদের কাছে ছুটে এসেছিলাম। আমার কানে অনেক কথা এসেছিল। আমি সেদিনও আপনাদের বলেছিলাম, আমার ১৭তলা, ১৯তলা ভবন দরকার নাই। এখানে যে শেড ছিল, সেই শেড করেই মার্কেট চালু করে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রের সঙ্গে কথা হয়েছে বলেও জানান আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ সলিমুল্লাহ সলুর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সাদেক খান, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের সভাপতি আলেয়া সারোয়ার ডেইজি, ৩৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আসিফ আহমেদসহ মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরে বাংলা নগর থানার অন্তর্গত বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভোর রাতে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ২১৭ টি দোকান পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্থ হয় চার শতাধিক ব্যবসায়ী।

অগ্নিকাণ্ডের পর মার্কেটটি ভেঙে বহুতল মার্কেট তৈরির একটি গুঞ্জন ওঠে। এতে আপত্তি তোলেন ব্যবসায়ীরা। পরে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ঢাকা-১৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি জানান, কোনো বহুতল মার্কেট হবে না। ব্যবসায়ীরা দ্রুত সময়ে তাদের ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ