ঢাকা ১১:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৫৪৬ রানের রেকর্ড জয় বাংলাদেশের

ক্রীড়া ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৫:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জুন ২০২৩ ৫০ বার পড়া হয়েছে

আফগানিস্তানের বিপক্ষে মিরপুরে একমাত্র টেস্টে বিশাল ব্যবধানে জয় পেল বাংলাদেশ। প্রথম এবং দ্বিতীয় দুই ইনিংসেই ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত খেলেছে টাইগাররা। আর তাতেই সফরকারীদের বিপক্ষে রচিত হল জয়ের উপাখ্যান। টাইগারদের দেয়া ৬৬২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় দিনের শেষ সেশনেই দুই উইকেট হারায় আফগানরা। আজ চতুর্থ দিনেও তারা করেছে অসহায় আত্মসমর্পণ, অল আউট ১১৫ রানেই। আর তাতেই এলো স্বাগতিকদের ৫৪৬ রানের জয়।

আফগানদের বিপক্ষে এ টেস্টে ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই নজরকাড়া পারফরম্যান্স ছিল টাইগারদের। ব্যাটিংয়ে দুই ওপেনার জাকির হাসান এবং মাহমুদুল হাসান জয় খেলেছেন দারুণ, মিডল অর্ডারের দায়িত্ব ভালোভাবেই সামলেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক,লিটন দাস,মুশফিকুর রহিমরা। ব্যাট হাতে বড় স্কোর এনে দেয়ার পর বোলিংয়ে নিজেদের দায়িত্ব দাপটের সাথে পালন করেছেন টাইগার বোলাররা। আফগান ব্যাটারদের গতি ও স্পিন ঘূর্ণিতে করেছেন কুপোকাত।

প্রথম ইনিংসে জয়ের সাথে ২১২ রানের রেকর্ড জুটিতে শান্ত করেছিলেন দুর্দান্ত এক শতক। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসেও তার ব্যাটে এসেছে এক সময়োপযোগী সেঞ্চুরি। সাথে জাকির, জয়, মুমিনুল,লিটন, মুশফিকদের যোগ্য সঙ্গে ৬৬২ রানের পর্বতসম এক লক্ষ্য দাঁড়ায় আফগানদের সামনে।

অধিনায়ক লিটন দাস ৪২৫ রানে ইনিংস ঘোষণা করলে তৃতীয় দিনের শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নামে আফগানিস্তান। কিন্তু এদিনও ব্যর্থ হন দুই ওপেনার। দলীয় সাত রানেই দুই ওপেনারের বিদায়ে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন অধিনায়ক হাসমতউল্লাহ শহিদী। কিন্তু তাসকিনের বাউন্সারে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয়ে তাকে। এরপর নাসির জামালকে নিয়ে দিনের বাকি সময় পার করেন রহমত শাহ।

৬১৭ রানের লক্ষ্য নিয়ে আজ চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে আফগানিস্তান। কিন্তু ইবাদত, শরীফুলের বোলিং তোপে কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেননি তারা। ইবাদতের বলে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে কট বিহাইন্ড হয়ে প্রথমে সাজঘরে ফিরেন নাসির জামাল। এরপর প্রথম ইনিংসে আফগানদের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৬ রান করা আফসারকেও স্লিপে মিরাজের ক্যাচে পরিণত করেন শরীফুল।

আফগানদের হয়ে এরপর ব্যাটিংয়ে নামেন আগের দিন তাসকিনের বলে মাথায় আঘাত পাওয়া অধিনায়ক হাসমত উল্লাহ শাহিদীর কনকাশন বদলি বাহির শাহ। কিন্তু দলের জন্য সুখবর বয়ে আনতে পারেননি তিনিও। শরিফুলেরই আরেক ওভারে স্লিপে তাইজুলের তালুবন্দী হন তিনি, ফিরে গেছেন মাত্র সাত রান করেই।

এদিকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও আফগানদের হয়ে ক্রিজের একপ্রান্তে ঘাটী গেড়েছিলেন রহমত শাহ। শেষ পর্যন্ত ফিরতে হয়েছে তাকেও। তাসকিনের বলে লিটনের গ্লাভসবন্দী হয়ে ফিরে গেলে আফগানদের পরাজয় এড়ানো তখন অবাস্তব কল্পনা।

৯১ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর ৯৮ রানে করিম জানাতকে দুর্দান্তভাবে বোল্ড করেন তাসকিন। এরপর আফগানদের বাকি উইকেট গুলো দ্রুতই তুলে নিলে জয়ী হয় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের হয়ে ৪ উইকেট শিকার করে ইনিংস সেরা বোলার তাসকিন। দুই ইনিংসে মিলিয়ে ৫টি করে উইকেট পেয়েছেন শরিফুল ইসলাম এবং এবাদত হোসেন।

প্রথম ইনিংসে টাইগারদের হয়ে দুর্দান্ত খেলেন দুই ব্যাটার জয় এবং শান্তর নজরকাড়া ১৪৬ রানের সাথে জয় খেলেন ৭৬ রানের ইনিংস। আর মিশফিক ও মিরাজের অর্ধশতক ছোঁয়া ইনিংসে ভর করে প্রথম ইনিংসে ৩৮২ রানের সংগ্রহ পায় টাইগাররা। বল হাতে আফগানদের হয়ে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন পেসার নিজাত মাসুদ।

এদিকে প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে আল ছড়াতে পারেনি আফগানরা। ৩৯ ওভার খেলে দ্বিতীয় দিন শেষ হবার আগেই ১৪৬ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ২৩৬ রানের লিড ব্যাটিং শুরু করে জাকির-জয়রা। জয় এদিন ব্যর্থ হলেও আগের ইনিংসে এক রান করে আউট হওয়া জাকির ৭১ রান করে রান আউট হন, শান্তর সাথে গড়েছিলেন ১৭৩ রানের জুটি।

দ্বিতীয় ইনিংসেই শান্ত করেছেন দুর্দান্ত এক শতক। সেই সঙ্গে ২২ মাস পর সেঞ্চুরির দেখা পান সাবেক টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হকও। মুমিনুল-লিটনের ১৪৩ রানের জুটিতে শেষ পর্যন্ত ৬৬২ রানের পররবত সমান এক লক্ষ্য দাঁড়ায় আফগানদের।

মিরপুরের আফগানিস্তানের সাথে বাংলাদেশের এ জয়ে সাদা পোশাকের খেলায় সর্বোচ্চ রানে জয়ের রেকর্ড গড়েছে টাইগাররা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৫৪৬ রানের রেকর্ড জয় বাংলাদেশের

আপডেট সময় : ০৬:৫৫:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জুন ২০২৩

আফগানিস্তানের বিপক্ষে মিরপুরে একমাত্র টেস্টে বিশাল ব্যবধানে জয় পেল বাংলাদেশ। প্রথম এবং দ্বিতীয় দুই ইনিংসেই ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত খেলেছে টাইগাররা। আর তাতেই সফরকারীদের বিপক্ষে রচিত হল জয়ের উপাখ্যান। টাইগারদের দেয়া ৬৬২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় দিনের শেষ সেশনেই দুই উইকেট হারায় আফগানরা। আজ চতুর্থ দিনেও তারা করেছে অসহায় আত্মসমর্পণ, অল আউট ১১৫ রানেই। আর তাতেই এলো স্বাগতিকদের ৫৪৬ রানের জয়।

আফগানদের বিপক্ষে এ টেস্টে ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই নজরকাড়া পারফরম্যান্স ছিল টাইগারদের। ব্যাটিংয়ে দুই ওপেনার জাকির হাসান এবং মাহমুদুল হাসান জয় খেলেছেন দারুণ, মিডল অর্ডারের দায়িত্ব ভালোভাবেই সামলেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক,লিটন দাস,মুশফিকুর রহিমরা। ব্যাট হাতে বড় স্কোর এনে দেয়ার পর বোলিংয়ে নিজেদের দায়িত্ব দাপটের সাথে পালন করেছেন টাইগার বোলাররা। আফগান ব্যাটারদের গতি ও স্পিন ঘূর্ণিতে করেছেন কুপোকাত।

প্রথম ইনিংসে জয়ের সাথে ২১২ রানের রেকর্ড জুটিতে শান্ত করেছিলেন দুর্দান্ত এক শতক। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসেও তার ব্যাটে এসেছে এক সময়োপযোগী সেঞ্চুরি। সাথে জাকির, জয়, মুমিনুল,লিটন, মুশফিকদের যোগ্য সঙ্গে ৬৬২ রানের পর্বতসম এক লক্ষ্য দাঁড়ায় আফগানদের সামনে।

অধিনায়ক লিটন দাস ৪২৫ রানে ইনিংস ঘোষণা করলে তৃতীয় দিনের শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নামে আফগানিস্তান। কিন্তু এদিনও ব্যর্থ হন দুই ওপেনার। দলীয় সাত রানেই দুই ওপেনারের বিদায়ে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন অধিনায়ক হাসমতউল্লাহ শহিদী। কিন্তু তাসকিনের বাউন্সারে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয়ে তাকে। এরপর নাসির জামালকে নিয়ে দিনের বাকি সময় পার করেন রহমত শাহ।

৬১৭ রানের লক্ষ্য নিয়ে আজ চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে আফগানিস্তান। কিন্তু ইবাদত, শরীফুলের বোলিং তোপে কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেননি তারা। ইবাদতের বলে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে কট বিহাইন্ড হয়ে প্রথমে সাজঘরে ফিরেন নাসির জামাল। এরপর প্রথম ইনিংসে আফগানদের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৬ রান করা আফসারকেও স্লিপে মিরাজের ক্যাচে পরিণত করেন শরীফুল।

আফগানদের হয়ে এরপর ব্যাটিংয়ে নামেন আগের দিন তাসকিনের বলে মাথায় আঘাত পাওয়া অধিনায়ক হাসমত উল্লাহ শাহিদীর কনকাশন বদলি বাহির শাহ। কিন্তু দলের জন্য সুখবর বয়ে আনতে পারেননি তিনিও। শরিফুলেরই আরেক ওভারে স্লিপে তাইজুলের তালুবন্দী হন তিনি, ফিরে গেছেন মাত্র সাত রান করেই।

এদিকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও আফগানদের হয়ে ক্রিজের একপ্রান্তে ঘাটী গেড়েছিলেন রহমত শাহ। শেষ পর্যন্ত ফিরতে হয়েছে তাকেও। তাসকিনের বলে লিটনের গ্লাভসবন্দী হয়ে ফিরে গেলে আফগানদের পরাজয় এড়ানো তখন অবাস্তব কল্পনা।

৯১ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর ৯৮ রানে করিম জানাতকে দুর্দান্তভাবে বোল্ড করেন তাসকিন। এরপর আফগানদের বাকি উইকেট গুলো দ্রুতই তুলে নিলে জয়ী হয় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের হয়ে ৪ উইকেট শিকার করে ইনিংস সেরা বোলার তাসকিন। দুই ইনিংসে মিলিয়ে ৫টি করে উইকেট পেয়েছেন শরিফুল ইসলাম এবং এবাদত হোসেন।

প্রথম ইনিংসে টাইগারদের হয়ে দুর্দান্ত খেলেন দুই ব্যাটার জয় এবং শান্তর নজরকাড়া ১৪৬ রানের সাথে জয় খেলেন ৭৬ রানের ইনিংস। আর মিশফিক ও মিরাজের অর্ধশতক ছোঁয়া ইনিংসে ভর করে প্রথম ইনিংসে ৩৮২ রানের সংগ্রহ পায় টাইগাররা। বল হাতে আফগানদের হয়ে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন পেসার নিজাত মাসুদ।

এদিকে প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে আল ছড়াতে পারেনি আফগানরা। ৩৯ ওভার খেলে দ্বিতীয় দিন শেষ হবার আগেই ১৪৬ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ২৩৬ রানের লিড ব্যাটিং শুরু করে জাকির-জয়রা। জয় এদিন ব্যর্থ হলেও আগের ইনিংসে এক রান করে আউট হওয়া জাকির ৭১ রান করে রান আউট হন, শান্তর সাথে গড়েছিলেন ১৭৩ রানের জুটি।

দ্বিতীয় ইনিংসেই শান্ত করেছেন দুর্দান্ত এক শতক। সেই সঙ্গে ২২ মাস পর সেঞ্চুরির দেখা পান সাবেক টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হকও। মুমিনুল-লিটনের ১৪৩ রানের জুটিতে শেষ পর্যন্ত ৬৬২ রানের পররবত সমান এক লক্ষ্য দাঁড়ায় আফগানদের।

মিরপুরের আফগানিস্তানের সাথে বাংলাদেশের এ জয়ে সাদা পোশাকের খেলায় সর্বোচ্চ রানে জয়ের রেকর্ড গড়েছে টাইগাররা।