• সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১১:৩১ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

‘মবকারীরা’ সুবিধা করতে পারবে না: মার্কিন দূতকে সিইসি

দেশের আওয়াজ ডেস্ক : / ৯৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশ : সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

জাতীয় সংসদে ৩০০ আসনের নির্বাচন একসঙ্গে হবে। তখন ওই ৩০০ জায়গাতেই ‘মব’ ভাগ হয়ে যাবে। যারা মব সৃষ্টি করেন তারা নিজ নিজ এলাকায় চলে যাবেন। তখন একসঙ্গে এত লোক একত্রে আর পাওয়া যাবে না। যারা মব সৃষ্টি করতে চায়, বা মব সৃষ্টি করবে, তারা নির্বাচনের সময় সুবিধা করতে পারবে না।

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্র্যাসি এন জ্যাকবসনের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসিরউদ্দিন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত দেশের বর্তমান ‘মব’ পরিস্থিতি এবং নির্বাচনের সময় এর প্রভাব এবং কমিশনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এমন জবাব দিয়েছেন বলে জানান সিইসি।

সিইসি নাসিরউদ্দিন জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি মূলত জানতে চেয়েছেন-নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি কোন পর্যায়ে রয়েছে। যেহেতু ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে।

জবাবে তিনি বলেছেন, ‘আমরা ৫ আগস্ট মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে নির্বাচনী চিঠি পাওয়ার পর থেকেই প্রস্তুতি জোরদার করেছি। যদিও তার আগেই বড় বড় কাজগুলো শুরু করে দেওয়া হয়েছিল, যেন প্রস্তুতির ঘাটতি না থাকে। নির্বাচন কমিশনকে যাতে কোনো ব্লেম (দোষ) দিতে না পারে।’

সিইসি বলেন, ‘পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি, নির্বাচন কমিশন কোনো দোষ বা দায় নিতে রাজি না। অতীতে যেমন কমিশনের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, এবার আমরা এমন প্রস্তুতি নিচ্ছি যেন কেউ বলতে না পারে যে আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। সরকার যখনই চাইবে, আমরা যেন নির্বাচন পরিচালনা করতে পারি, সেই লক্ষ্যেই কাজ করা হচ্ছে।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান, বৈঠকে নির্বাচন আয়োজন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোভাবের বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিল। এবারও তারা আশাবাদী। রাজনৈতিক দলগুলো দেশের স্বার্থেই কাজ করে, তাই শেষ পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে একটি সমঝোতা হবে বলেও তিনি আশাবাদী বলে জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে সিইসি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন। যা একটি ইতিবাচক দিক। এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টা এতদিন যেভাবে নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিয়েছেন, এখনও তেমনই করছেন। এখনো পর্যন্ত তিনি (সিইসি) কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা চাপ অনুভব করেননি এবং সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত নির্বাচন ও অন্যান্য বিষয়ে গুজব প্রসঙ্গে জানতে চেয়েছিলেন। সিইসি জানিয়েছেন, চারদিকে নানা ধরনের গুজব। এই দেশটা গুজবের দেশ। গুজব ম্যানুফ্যাকচার (তৈরি) করার জন্য অনেক ‘ইন্ডাস্ট্রি’ গড়ে উঠেছে এখানে। গুজবে কান দিতে নেই। এ ছাড়া কমিশন কী কী সংশোধনী প্রস্তাব করেছে, সেগুলোও জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

নির্বাচনে কালো টাকা ব্যবহার প্রতিরোধের বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘আমরা যথাসম্ভব ব্যবস্থা নিচ্ছি। পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন। তবে নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

এইবার প্রবাসীদের ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে বড় পরিসরে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যা অতীতে ছিল না বলে উল্লেখ করেছেন সিইসি। এবার প্রবাসীদের ভোটাধিকারে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ