• সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

বিষাদের সূর, ভক্তদের অশ্রু জলে বিসর্জন হল দুর্গা দেবীর

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৭৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর, ২০২৫

দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার সমাপ্তি হয়েছে। দেবীকে চোখের জলে বিদায় জানাতে নদীর তীরে হাজারো ভক্তের সমাগম দেখা গেছে।
আনুষ্ঠানিকতা শেষে মর্ত্যলোক থেকে দেবী দুর্গার বিদায়। তাই মণ্ডপে মণ্ডপে বিষাদের সূর, অশ্রু ভক্তদের চোখে। অপেক্ষা একটি বছরের।
বিজয়া দশমীর দিন বিকেল ৩টা থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে প্রতিমা বিসর্জন। দুপুরের পর থেকেই বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে ঢাকের তালে নেচে-গেয়ে প্রতিমা নিয়ে আসেন ভক্তরা বিষাদ-আনন্দ এক করে দেবী দুর্গাকে বিসর্জন দিতে।
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতি শরতে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কৈলাস ছেড়ে মর্ত্যে আসেন দেবী দুর্গা। নির্দিষ্ট তিথি পর্যন্ত বাবার বাড়িতে কাটিয়ে তিনি ফিরে যান স্বামীর বাড়ি কৈলাসে। এই পাঁচ দিন ভক্তরা দেবী মাকে বন্দনা করেন।
দশমী পূজা উদযাপনের প্রধান আচার ‘সিঁদুর খেলা’। এদিন নারীরা দুর্গার পায়ে সিঁদুর নিবেদন করেন এবং একে অপরকে সিঁদুর মেখে সমৃদ্ধি কামনা করেন।
আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে বেলতলায় আনন্দময়ীর নিদ্রাভঙ্গের বন্দনায় যে উৎসবের শুরু হয়েছিল, দশমীতে দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হলো সেই দুর্গোৎসবের।
বৃহস্পতিবার (২সেপ্টেম্বর) সকালে বিজয়া দশমীর বিহিত পূজা শেষে দর্পণ বিসর্জন হয়। এরপর তেল, সিঁদুর, পান-চিনি নিবেদন করে নয়ন ভিজিয়ে বিদায় জানান ভক্তরা।
রাজধানীর ২৫৪টি পূজামণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন হয় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও বালু নদীর ১০টি ঘাটে। ঘাটগুলো হলো- বিনা স্মৃতি স্নান ঘাট, ওয়াইজ ঘাট, নবাববাড়ি ঘাট, লালকুঠি ঘাট, তুরাগের ধউর ঘাট, মিল ব্যারাক ঘাট, পোস্তগোলা শ্মশান ঘাট, আমিনবাজার ব্রিজ ঘাট, বসিলা ব্রিজ ঘাট ও বালু নদের কয়েতপাড়া ঘাট।
তবে সবচেয়ে বেশি প্রতিমা বিসর্জন হয় বিনা স্মৃতি স্নান ঘাট, ওয়াইজ ঘাট ও নবাববাড়ি ঘাটে।

রাজশাহীতেও চলছে প্রতিমা বিসর্জন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের ফুদকিপাড়া এলাকায় মুন্নুজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পদ্মা নদীতে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন। বিকেল গড়িয়ে এলে প্রতিমা বিসর্জনের সংখ্যা বাড়তে থাকে।
এদিকে সিঁদুর খেলা শেষে দুপুর থেকে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া শুরু হয় রাজশাহীতে। বেলা তিনটার দিকে নগরের ফুদকিপাড়া এলাকায় পদ্মা নদীতে গিয়ে দেখা যায়, ভ্যানে-ট্রাকে করে প্রতিমা এনে পদ্মার পাড়ে রাখা হচ্ছে। কয়েকটি মন্দিরের প্রতিমা একত্রিত হলেই নৌকায় করে নিয়ে নদীতে বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে। শেষবারের মতো বিদায় দিতে অনেকে নৌকায় উঠছেন।
স্থানীয় অখিল সরকার বলেন, দুপুরের পর থেকে প্রতিমা আসা শুরু হয়েছে। এটি রাত ১২টা পর্যন্ত চলতে পারে।
মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে গত কয়েক দিনের নিরাপত্তা ছিল। আজ প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে বিশেষ ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। নির্বিঘ্নে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। তাদের অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও মাঠে আছেন।
এবার রাজশাহী জেলায় সর্বমোট ৪৬২টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী নগরে আছে ৮০টি মণ্ডপ।
চট্টগ্রামে প্রতিবছরের মতো এবারও বিসর্জনের প্রধান স্থান ছিল পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত। কর্ণফুলি নদীর কালুরঘাট, অভয়মিত্র ঘাট এবং বিভিন্ন এলাকার পুকুরেও হয়েছে বিসর্জন। দুপুরের পর থেকে ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে আসা হয় পতেঙ্গায়। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেও হিন্দু সম্প্রদায় ছাড়াও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীর উপস্থিতি দেখা গেছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নিখিল কুমার নাথ জানান, “এ বছর নগরীর ২৯২টি পূজার মধ্যে শতাধিক মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে পতেঙ্গায়।” জেলায় ১৬ উপজেলায় আরও এক হাজার ৫০৮টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
শাস্ত্র মতে, এবার দেবী দুর্গা কৈলাস থেকে সপরিবারে মর্ত্যে এসেছেন গজে (হাতি) চড়ে, আর ফিরে যাচ্ছেন দোলায় (পালকি) করে। গজে আগমন শান্তি ও সমৃদ্ধির বার্তা দিলেও দোলায় গমন মহামারী বা বড় বিপর্যয়ের ইঙ্গিত বহন করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ