• শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

ফুলকপির ভেজাল বীজে কৃষকের কোটি টাকার ক্ষতি

দেশের আওয়াজ ডেস্কঃ / ১৪৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৩

আগাম জাতের ফুলকপি আবাদ করে সর্বস্বান্ত হয়েছেন রাজবাড়ীর বালিয়াাকন্দি উপজেলার দেড় শতাধিক কৃষক। তাদের অভিযোগ, ভেজাল বীজের কারণে এ বছর ফুলকপিতে ফুল আসেনি। কেটে ফেলতে হচ্ছে গাছ। ক্ষতি হয়েছে কোটি টাকা। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগ বলছে, বিষয়টি অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের নলিয়া মাঠে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক অমল মণ্ডল কপিগাছ কেটে জমি পরিষ্কার করছেন।

তিনি বলেন, তিন মাস আগে কপির চারা মাঠে রোপণ করি। প্রতি বছর ৬০ থেকে ৭৫ দিনের মধ্যেই আমরা কপি বিক্রি শুরু করি। এ বছর লাগানোর ৯০ থেকে ১০০ দিন পার হলেও কোনো গাছে কপির ফুল আসেনি। গাছ পচে যাচ্ছে। এখন কপির গাছ কেটে জমি পরিষ্কার করছি।

মাঠ ঘুরে দেখা যায়, অমল মণ্ডলের মতো অধিকাংশ কৃষকের কপিখেতে কোনো ফুল আসেনি। অনেক কৃষক এরই মধ্যে কপিগাছ কেটে নতুন চারা রোপণ করছেন। কেউ আবার জমি পরিষ্কার করছেন।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় জামালপুর বাজারের স্বাধীন বীজ ভাণ্ডার থেকে সিলভার ক্রাউন-৫০ নামে ফুলকপির বীজ কিনে চারা দেন তারা। বীজতলায় ৯০ ভাগ বীজ থেকে চারা জন্ম নেয়। সিলভার ক্রাউন-৫০ নামের ফুলকপির জাত বৃষ্টিসহনশীল এবং আগাম জাতের। কয়েক বছর ধরে এ অঞ্চলের কৃষক সিলভার ক্রাউন নামের এ জাতের কপির আবাদ করে থাকেন। অতীতে কোনো সমস্যা হয়নি। এ বছর এমন ক্ষতির জন্য বীজ ব্যবসায়ীকে দায়ী করছেন তারা।

কৃষকদের অভিযোগ, সিলভার ক্রাউন-৫০ বীজের বদলে ভেজাল ও নিম্নমানের বীজ বিক্রি করেছে ব্যবসায়ী। ফলে কোনো গাছে ফুল আসেনি। চাষিরা সর্বস্বান্ত হয়েছেন।

কৃষক নাসির উদ্দিন বলেন, সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে ১২০ শতক জমিতে কপির আবাদ করেছি। এক লাখ টাকার ওপরে খরচ। এখন মাঠে এলে বুক ফেটে কান্না আসে। আমার বাবা এ পরিস্থিতি দেখে দুবার অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। লাভ দূরে থাক, এ বছর সমিতির টাকা কীভাবে পরিশোধ করব তা নিয়েই রাতে ঘুম আসে না।

হাজরা বৈরাগী বলেন, জেলার মধ্যে আমাদের জামালপুর ইউনিয়ন কপি চাষে বিখ্যাত। আমরা ভাদ্র মাস থেকে কপি বিক্রি করি। এ বছর এ ইউনিয়নের দেড় শতাধিক কৃষক এ বীজের কারণে এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আসলে আমরা প্রতিকার চাইব কোথায়? কৃষি অফিসের লোকজন এসে ঘুরে যায়। যে দোকান থেকে কিনেছি তারাও এখন তেমন গুরুত্ব দেয় না। এ গ্রামের কৃষকদের কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে।

অভিযুক্ত ব্যবসায়ী স্বাধীন বীজ ভাণ্ডারের মালিক নূর মো. সফিউদ্দোলাহ বলেন, বীজে কোনো সমস্যা নেই। কপির বীজে সমস্যা থাকলে সেটি বীজতলাতেই বোঝা যায়। এ বছর তাপমাত্রা বেশি হওয়ার কারণে কপিতে ফুল আসেনি। সিলভার ক্রাইন-৫০ জাত ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ফলন ভালো হয়। এ বছর তাপমাত্রা বেশি ছিল।

কয়েক বছর একই সময় এ জাতের বীজে কপি আবাদ হতো। তাহলে কীভাবে এমন হলো? এমন প্রশ্ন করলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।

বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে মাঠে গিয়েছিলাম। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং বিক্রেতার সঙ্গেও কথা বলেছি। কী কারণে ফুলকপিতে এমন বিপর্যয় এলো বিষয়টি অনুসন্ধানে আমরা তিন সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করেছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ