• বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৭:০৮ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

দলিল নিবন্ধনে যুগান্তকারী পরিবর্তন, চালু হচ্ছে ই-রেজিস্ট্রেশন

দেশের আওয়াজ ডেস্ক : / ১৮৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশ : শনিবার, ৩ জানুয়ারী, ২০২৬

দেশের দলিল নিবন্ধন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও ডিজিটাল রূপ দিতে শতবর্ষ পুরোনো নিবন্ধন আইন, ১৯০৮ সংশোধন করা হয়েছে। নতুন ‘নিবন্ধন (সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারির ফলে এখন থেকে দলিল নিবন্ধনে চালু হচ্ছে ইলেকট্রনিক রেজিস্ট্রেশন (ই-রেজিস্ট্রেশন) ব্যবস্থা। সরকারি অনুমোদিত সফটওয়্যার ব্যবহার করে ডিজিটাল পদ্ধতিতেই দলিল দাখিল ও নিবন্ধন করা যাবে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সংসদ ভেঙে যাওয়ায় জরুরি পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশ জারি করেছেন, যা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।

সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, নিবন্ধন আইন ১৯০৮-এর ধারা ১৭ক-ছ-এর অধীনে দলিল নিবন্ধনের সময়সীমা ৩০ দিনের পরিবর্তে ৬০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ধারা ২৬-এর অনুচ্ছেদ (খ)-এ বর্ণিত সময়সীমা ৪ মাস থেকে বাড়িয়ে ৬ মাস করা হয়েছে।

হেবা ও দান সংক্রান্ত নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। ধারা ৫২ক সংশোধনের মাধ্যমে বিক্রয়ের পাশাপাশি মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) অনুযায়ী হেবা ঘোষণা এবং হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ ব্যক্তিগত আইনের অধীনে দানের ঘোষণাকেও নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়েছে। এ জন্য ‘বিক্রেতা’ শব্দের সঙ্গে ‘অথবা দাতার’ শব্দ যুক্ত করা হয়েছে।

নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম রোধে কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতা বাড়ানো হয়েছে। ধারা ৬৮ সংশোধন করে নতুন উপধারা (৩) সংযোজন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো নিবন্ধন কর্মকর্তা নির্ধারিত ফি, কর, সার্ভিস চার্জ বা শুল্ক আদায় না করে দলিল নিবন্ধন করলে তা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে এবং অনাদায়ী অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছ থেকেই আদায় করা হবে।

আপিল ও আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সংশোধিত ধারা ৭২ অনুযায়ী, আপিল দাখিলের ৪৫ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রারকে আপিল নিষ্পত্তি করতে হবে। একইভাবে ধারা ৭৩-এ নতুন উপধারা যুক্ত করে আবেদন দাখিলের ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির বিধান রাখা হয়েছে।

ই-রেজিস্ট্রেশন কার্যকর করতে অধ্যাদেশে নতুন অংশ দ্বাদশ (ক) সংযোজন করে ধারা ৭৭(ক) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার অনুমোদিত সফটওয়্যার ব্যবহার করে দলিল উপস্থাপন, গ্রহণ ও ডিজিটাল নিবন্ধনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত বিধিমালা সরকার গেজেটের মাধ্যমে প্রণয়ন করবে।

এছাড়া ধারা ৮০ প্রতিস্থাপন করে বলা হয়েছে, দলিল উপস্থাপনের সময়ই সব ধরনের ফি, কর, সার্ভিস চার্জ ও শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। এসব অর্থ আদায়ের পদ্ধতি এবং সার্ভিস চার্জ ব্যবহারের নিয়মও গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ