ঢাকায় শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার পর ফের ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে এর উৎপত্তিস্থল ও মাত্রা জানা যায়নি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির জানান, কিছুক্ষণের মধ্যেই ভূমিকম্পের মাত্রা ও উৎপত্তিস্থল জানা যাবে।
এর আগে সকাল ১০টা ৩৬ মিনিট ১২ সেকেন্ডে ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৩ মাত্রার ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়।
বাংলাদেশ ভূমিকম্পের উচ্চঝুঁকির দেশ হিসেবে বিবেচিত। আবহাওয়া অধিদপ্তর ভূমিকম্প ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে দেশকে তিনটি জোনে ভাগ করেছে-জোন ১ সর্বোচ্চ ঝুঁকি, জোন ২ মাঝারি ঝুঁকি এবং জোন ৩ নিম্ন ঝুঁকিপ্রবণ এলাকা।
প্রকাশিত মানচিত্র অনুযায়ী, দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলা সর্বোচ্চ ঝুঁকির জোন–১-এ রয়েছে। বিশেষ করে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের মোট নয়টি জেলা, ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও নরসিংদীর কিছু অংশ, পুরো কিশোরগঞ্জ জেলা, কুমিল্লা বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া, এছাড়া পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বেশ কিছু এলাকা উচ্চঝুঁকিপূর্ণ।
১৯৭৬ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত অন্তত পাঁচটি বড় ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। অধিকাংশের উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেট, মৌলভীবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজার। ফলে ভবিষ্যতেও এসব এলাকায় বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়ে গেছে।
ভূতাত্ত্বিকভাবে, বাংলাদেশের চারপাশে অন্তত পাঁচটি সক্রিয় ফল্ট লাইন রয়েছে। মিয়ানমার থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত প্লেট বাউন্ডারি-১, নোয়াখালী থেকে সিলেট পর্যন্ত প্লেট বাউন্ডারি–২, সিলেট থেকে ভারতের দিকে প্লেট বাউন্ডারি–৩। এছাড়া ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট অঞ্চলে ডাউকি ফল্ট এবং মধুপুর এলাকায় মধুপুর ফল্ট ভূমিকম্পের প্রধান উৎপত্তিস্থল হিসেবে বিবেচিত।
রাজধানী ঢাকায় বিপুল সংখ্যক উচ্চভবন থাকায় বড় ধরনের ভূমিকম্পে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। রাজউকের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় প্রায় ২১ লাখ ভবনের মধ্যে ৬ লাখ ভবন চার তলা থেকে ৩০ তলা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বিল্ডিং কোড না মানা হলে বড় ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও আগাম প্রস্তুতি ও সচেতনতা বড় ক্ষতি কমাতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করার তাগিদ দিচ্ছেন তারা।