• শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২৮ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অজ্ঞাত ১১৪ শহীদের মরদেহ উত্তোলন শুরু

দেশের আওয়াজ ডেস্ক : / ৮৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশ : রবিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শাহাদাৎবরণকারী পরিচয়হীন শহীদদের পরিচয় শনাক্তে আনুষ্ঠানিকভাবে মরদেহ উত্তোলন শুরু করেছে সিআইডি। রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধসংলগ্ন কবরস্থানে এই কার্যক্রম শুরু হয়। সিআইডি প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ উপস্থিত থেকে উত্তোলন কাজের সূচনা করেন।

কার্যক্রম শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আনাসসহ যারা বুকের রক্ত ঢেলে দেশের জন্য রাজপথে নেমেছিল, তারা আমাদের গর্ব। এই কবরস্থানে যারা পরিচয়হীন অবস্থায় শুয়ে আছেন তাদের পরিচয় উদঘাটন করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব।”

তিনি জানান, জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থার (ওএইচসিএইচআর) মাধ্যমে আর্জেন্টিনার আন্তর্জাতিক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ লুইস ফন্ডিব্রাইডার ঢাকায় এসে পুরো প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গত ৪০ বছরে তিনি বিশ্বের ৬৫টি দেশে একই ধরনের মানবাধিকারভিত্তিক তদন্ত পরিচালনা করেছেন।

সিআইডি প্রধান আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে—মিনেসোটা প্রোটোকল অনুসরণ করে মরদেহ উত্তোলন, পোস্টমর্টেম, ডিএনএ স্যাম্পল সংগ্রহ ও প্রোফাইলিং করা হবে।” এই কাজে সিটি করপোরেশন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, ডিএমপি ও বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ১১৪টি কবর শনাক্ত হয়েছে। মরদেহ উত্তোলনের পর বোন/টিস্যু স্যাম্পল সংগ্রহ, ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি ও পরিচয় নিশ্চিতের পর ধর্মীয় সম্মান বজায় রেখে পুনঃদাফনের ব্যবস্থা করা হবে।

পরিচয় শনাক্তের পর স্বজনরা চাইলে লাশ গ্রহণ করতে পারবেন বলেও জানান তিনি। এ পর্যন্ত ১০ জন স্বজন আবেদন করেছেন; আরও কেউ চাইলে সিআইডির হটলাইনে যোগাযোগ করে ডিএনএ স্যাম্পল দিতে পারবেন।

সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক প্রোটোকল অনুযায়ী মরদেহের কোনো ছবি বা সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করা যাবে না।”

আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞের আশ্বাস ইউনাইটেড নেশনস হাইকমিশনার ফর হিউম্যান রাইটসের হয়ে কাজ করা আর্জেন্টাইন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ লুইস ফন্ডিব্রাইডার বলেন, “গত তিন মাস ধরে সিআইডির সঙ্গে কাজ করছি। আন্তর্জাতিক ফরেনসিক মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করেই এই অপারেশন পরিচালিত হবে—আমি তার গ্যারান্টি দিচ্ছি।”

শেষে সিআইডি প্রধান সব সংস্থা, চিকিৎসক, সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, ডিএমপি এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ