ঢাকা ০১:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

৬৬টি নির্বাচনী আইনের ৫৫টিই আমরা করেছি, ইইউকে আ.লীগ

দেশের আওয়াজ ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৯:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুলাই ২০২৩ ৪০ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে সফররত ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের কাছে দেশের নির্বাচনী আইনের ফিরিস্তি তুলে ধরেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ সময় দলটির নেতারা দাবি করেছেন, এদেশের নির্বাচনব্যবস্থা শক্তিশালী করতে যত আইন ও অধ্যাদেশ এর সিংহভাগই করেছে আওয়ামী লীগ। ভোটে কারচুপির পথ বন্ধের ব্যবস্থাও তাদের নেওয়া।

শনিবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের বৈঠক হয়। এতে নেতৃত্ব দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বৈঠকে নির্বাচনী আইন ছাড়াও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে ঢাকা মেইলকে জানিয়েছেন সেখানে উপস্থিত আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা।

বৈঠকে উপস্থিত নেতারা জানান, ইইউ প্রতিনিধি দল আওয়ামী লীগের কাছে বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা, নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ইইউ প্রতিনিধি দলকে নির্বাচন সংস্কারের জন্য তাদের কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। এসময় আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ৬৬টি আইন ও অধ্যাদেশ প্রণীত হয়েছে। এর মধ্যে ৫৫টি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন হয়েছে। পাঁচটি অধ্যাদেশ জারি করেছে এক-এগারোর সরকার। বাকি ছয়টি বিএনপি ও জাতীয় পার্টির আমলে হয়েছে বলে বৈঠকে আওয়ামী লীগ নেতারা দাবি করেন।

বৈঠকে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলকে বলেন, নির্বাচনব্যবস্থাকে টেকসই ও আমূল সংস্কারের কাজ আমরাই করেছি।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ইইউ প্রতিনিধিদের জানানো হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের একক ক্ষমতা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। কিন্তু গত বছর এই আইন সংশোধন করে সরকার। যেখানে সিইসি ও ইসি নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা খর্ব করা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমরা বলেছি স্বাধীনভাবে সিইসি ও ইসি নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রী নিজের ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ইইউ আমাদের উৎসাহ দিয়েছে। সাহসী সিদ্ধান্ত বলেও উল্লেখ করেছে।’

এদিকে সর্বশেষ সংসদ অধিবেশনে আরপিও সংশোধনী বিল পাসের কথা ইইউকে জানায় ক্ষমতাসীন দল। সেখানে তারা বলেন- ভোটের সময় পর্যবেক্ষক, গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর কেউ হামলা করলে শাস্তির বিধানের কথা রয়েছে।

আওয়ামী লীগের এক নেতা প্রতিনিধি দলকে জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ভোটের কারচুপি করেছিলেন। সেই সময় ব্যালট পেপারে শুধু সিল থাকলেও চলত। কিন্তু সেটার পরিবর্তন হয়েছে নতুন আইনের মাধ্যমে। এখানে ব্যালট পেপারে শুধু সিল থাকলেই হবে না, স্বাক্ষর থাকার বাধ্যবাধকতা আছে। এতে ভোটের কারচুপি বন্ধ হবে।

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে ইইউ কোনো কথা বলেনি বলে দাবি আওয়ামী লীগের নেতাদের। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষমতাসীন দলের এক কেন্দ্রীয় নেতা ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘ওরা (ইউরোপীয় ইউনিয়ন) নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা নিয়েই বিষয় আলোচনা করেছে। তারা আমাদের ব্যবস্থাপনায় আশ্বস্ত।’

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া উপনির্বাচন, পাঁচ সিটি নির্বাচনের কথা ইইউ প্রতিনিধি দলের কাছে তুলে ধরেন আওয়ামী লীগ নেতারা। এসময় দলটির কার্যনির্বাহী সদস্য ও ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনের নৌকার প্রার্থী মোহাম্মদ এ আরাফাত কথা বলেন।

এ সময় প্রতিনিধি দলকে আরাফাত জানান, ঢাকা-১৭ আসনে সরকারি দলের প্রার্থী হিসেবে তিনি কোনো ধরনের অগ্রাধিকার নিচ্ছেন না। আইনের কারণে তার লেমিনেটেড পোস্টার নামিয়ে ফেলা হয়েছে। অন্যান্য অনেক প্রার্থীর ওই ধরনের পোস্টার এখনো আছে বলে দাবি করেন আরাফাত। সুত্রঃ ঢাকা মেইল

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

৬৬টি নির্বাচনী আইনের ৫৫টিই আমরা করেছি, ইইউকে আ.লীগ

আপডেট সময় : ০৫:৫৯:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুলাই ২০২৩

বাংলাদেশে সফররত ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের কাছে দেশের নির্বাচনী আইনের ফিরিস্তি তুলে ধরেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ সময় দলটির নেতারা দাবি করেছেন, এদেশের নির্বাচনব্যবস্থা শক্তিশালী করতে যত আইন ও অধ্যাদেশ এর সিংহভাগই করেছে আওয়ামী লীগ। ভোটে কারচুপির পথ বন্ধের ব্যবস্থাও তাদের নেওয়া।

শনিবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের বৈঠক হয়। এতে নেতৃত্ব দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বৈঠকে নির্বাচনী আইন ছাড়াও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে ঢাকা মেইলকে জানিয়েছেন সেখানে উপস্থিত আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা।

বৈঠকে উপস্থিত নেতারা জানান, ইইউ প্রতিনিধি দল আওয়ামী লীগের কাছে বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা, নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ইইউ প্রতিনিধি দলকে নির্বাচন সংস্কারের জন্য তাদের কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। এসময় আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ৬৬টি আইন ও অধ্যাদেশ প্রণীত হয়েছে। এর মধ্যে ৫৫টি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন হয়েছে। পাঁচটি অধ্যাদেশ জারি করেছে এক-এগারোর সরকার। বাকি ছয়টি বিএনপি ও জাতীয় পার্টির আমলে হয়েছে বলে বৈঠকে আওয়ামী লীগ নেতারা দাবি করেন।

বৈঠকে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলকে বলেন, নির্বাচনব্যবস্থাকে টেকসই ও আমূল সংস্কারের কাজ আমরাই করেছি।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ইইউ প্রতিনিধিদের জানানো হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের একক ক্ষমতা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। কিন্তু গত বছর এই আইন সংশোধন করে সরকার। যেখানে সিইসি ও ইসি নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা খর্ব করা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমরা বলেছি স্বাধীনভাবে সিইসি ও ইসি নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রী নিজের ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ইইউ আমাদের উৎসাহ দিয়েছে। সাহসী সিদ্ধান্ত বলেও উল্লেখ করেছে।’

এদিকে সর্বশেষ সংসদ অধিবেশনে আরপিও সংশোধনী বিল পাসের কথা ইইউকে জানায় ক্ষমতাসীন দল। সেখানে তারা বলেন- ভোটের সময় পর্যবেক্ষক, গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর কেউ হামলা করলে শাস্তির বিধানের কথা রয়েছে।

আওয়ামী লীগের এক নেতা প্রতিনিধি দলকে জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ভোটের কারচুপি করেছিলেন। সেই সময় ব্যালট পেপারে শুধু সিল থাকলেও চলত। কিন্তু সেটার পরিবর্তন হয়েছে নতুন আইনের মাধ্যমে। এখানে ব্যালট পেপারে শুধু সিল থাকলেই হবে না, স্বাক্ষর থাকার বাধ্যবাধকতা আছে। এতে ভোটের কারচুপি বন্ধ হবে।

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে ইইউ কোনো কথা বলেনি বলে দাবি আওয়ামী লীগের নেতাদের। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষমতাসীন দলের এক কেন্দ্রীয় নেতা ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘ওরা (ইউরোপীয় ইউনিয়ন) নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা নিয়েই বিষয় আলোচনা করেছে। তারা আমাদের ব্যবস্থাপনায় আশ্বস্ত।’

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া উপনির্বাচন, পাঁচ সিটি নির্বাচনের কথা ইইউ প্রতিনিধি দলের কাছে তুলে ধরেন আওয়ামী লীগ নেতারা। এসময় দলটির কার্যনির্বাহী সদস্য ও ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনের নৌকার প্রার্থী মোহাম্মদ এ আরাফাত কথা বলেন।

এ সময় প্রতিনিধি দলকে আরাফাত জানান, ঢাকা-১৭ আসনে সরকারি দলের প্রার্থী হিসেবে তিনি কোনো ধরনের অগ্রাধিকার নিচ্ছেন না। আইনের কারণে তার লেমিনেটেড পোস্টার নামিয়ে ফেলা হয়েছে। অন্যান্য অনেক প্রার্থীর ওই ধরনের পোস্টার এখনো আছে বলে দাবি করেন আরাফাত। সুত্রঃ ঢাকা মেইল