ঢাকা ০৯:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হিজড়া পরিচয়েই সংসদ নির্বাচনে লড়াইয়ের সুযোগ দিল ইসি

দেশের আওয়াজ ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৩:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ মার্চ ২০২৩ ৭৮ বার পড়া হয়েছে

আগে শুধু নারী-পুরুষ লেখার সুযোগ থাকলেও এবার সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্রে লিঙ্গ পরিচিতির জায়গায় প্রথমবারের মতো ‘হিজড়া’ শব্দটি যুক্ত করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন থেকে ‘হিজড়া’ পরিচয়েই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীরা।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা-২০০৮ সংশোধন করে সম্প্রতি এই বিধানটি যুক্ত করেছে কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন ইসি। এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে ইসির পক্ষ থেকে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর ৯৪ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিধিমালার ১১ বিধি অধিকতর সংশোধন করল নির্বাচন কমিশন।

এতে আরও বলা হয়, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র অংশের দ্বিতীয় খণ্ডে ১১ নম্বর বিধিটি টিক চিহ্ন দিয়ে পূরণ করতে হয়। এই বিধিতে প্রার্থীর লিঙ্গ পরিচিত উল্লেখ করার বিধান রয়েছে। যেখানে আগে পুরুষ ও মহিলা ছিল, এখন যুক্ত হলো ‘হিজড়া’।

সবশেষ ঘোষিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, দেশে হিজড়া ভোটার রয়েছে ৮৩৭ জন। ২০১৯ সালের আগে হিজড়াদের ভোটার হতে হলে মহিলা কিংবা পুরুষ, এই দু’টির যে কোনো একটি লিঙ্গ বেঁছে নিতে হত। এতে পরিচয় শনাক্তের জন্য সিভিল সার্জনে প্রত্যয়ন প্রয়োজন হতো, যা তাদের নানা বিড়ম্বনায় ফেলত।
হিজড়া জনগোষ্ঠী দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালে কে এম নূরুল হুদার নির্বাচন কমিশন প্রথমবারের মতো আইন সংশোধন করে ‘হিজড়া’ শব্দটি ভোটার নিবন্ধন ফরমে যোগ করেন। পরবর্তীতে হিজড়া জনগোষ্ঠীর পক্ষে সংসদ নির্বাচনে লড়াই করার দাবি জানানো হয় বর্তমান কমিশনের কাছে। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালের সাক্ষাৎ করে ‘হিজড়া’ সম্প্রদায়ের উন্নয়ন সংগঠন ‘সুস্থ জীবন’ এই দাবি জানান।

জানা গেছে, ওই বৈঠকের পর কমিশন বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসে। পরবর্তীতে আইনে কীভাবে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সে বিষয়টিও খুঁজে বের করা হয়। যার ফলশ্রুতিতেই সংসদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় সংশোধন আনা হলো।

এই সংশোধনের ফলে হিজড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা তাদের নিজস্ব পরিচয়েই সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র থেকেও যেমন প্রার্থী হতে পারবেন, তেমনি কোনো দল থেকেও এই পরিচয়ে প্রার্থী হতে পারবেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

হিজড়া পরিচয়েই সংসদ নির্বাচনে লড়াইয়ের সুযোগ দিল ইসি

আপডেট সময় : ০৬:৪৩:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ মার্চ ২০২৩

আগে শুধু নারী-পুরুষ লেখার সুযোগ থাকলেও এবার সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্রে লিঙ্গ পরিচিতির জায়গায় প্রথমবারের মতো ‘হিজড়া’ শব্দটি যুক্ত করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন থেকে ‘হিজড়া’ পরিচয়েই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীরা।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা-২০০৮ সংশোধন করে সম্প্রতি এই বিধানটি যুক্ত করেছে কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন ইসি। এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে ইসির পক্ষ থেকে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর ৯৪ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিধিমালার ১১ বিধি অধিকতর সংশোধন করল নির্বাচন কমিশন।

এতে আরও বলা হয়, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র অংশের দ্বিতীয় খণ্ডে ১১ নম্বর বিধিটি টিক চিহ্ন দিয়ে পূরণ করতে হয়। এই বিধিতে প্রার্থীর লিঙ্গ পরিচিত উল্লেখ করার বিধান রয়েছে। যেখানে আগে পুরুষ ও মহিলা ছিল, এখন যুক্ত হলো ‘হিজড়া’।

সবশেষ ঘোষিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, দেশে হিজড়া ভোটার রয়েছে ৮৩৭ জন। ২০১৯ সালের আগে হিজড়াদের ভোটার হতে হলে মহিলা কিংবা পুরুষ, এই দু’টির যে কোনো একটি লিঙ্গ বেঁছে নিতে হত। এতে পরিচয় শনাক্তের জন্য সিভিল সার্জনে প্রত্যয়ন প্রয়োজন হতো, যা তাদের নানা বিড়ম্বনায় ফেলত।
হিজড়া জনগোষ্ঠী দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালে কে এম নূরুল হুদার নির্বাচন কমিশন প্রথমবারের মতো আইন সংশোধন করে ‘হিজড়া’ শব্দটি ভোটার নিবন্ধন ফরমে যোগ করেন। পরবর্তীতে হিজড়া জনগোষ্ঠীর পক্ষে সংসদ নির্বাচনে লড়াই করার দাবি জানানো হয় বর্তমান কমিশনের কাছে। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালের সাক্ষাৎ করে ‘হিজড়া’ সম্প্রদায়ের উন্নয়ন সংগঠন ‘সুস্থ জীবন’ এই দাবি জানান।

জানা গেছে, ওই বৈঠকের পর কমিশন বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসে। পরবর্তীতে আইনে কীভাবে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সে বিষয়টিও খুঁজে বের করা হয়। যার ফলশ্রুতিতেই সংসদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় সংশোধন আনা হলো।

এই সংশোধনের ফলে হিজড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা তাদের নিজস্ব পরিচয়েই সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র থেকেও যেমন প্রার্থী হতে পারবেন, তেমনি কোনো দল থেকেও এই পরিচয়ে প্রার্থী হতে পারবেন তারা।