গত ছয় দিনের টানা শৈতপ্রবাহের ফলে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি বীজতলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
কয়েকদিন সূর্যের দেখা নেই, সেইসঙ্গে গুড়িগুড়ি বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ায় পশ্চিম বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় মানুষের রোগ বালাই যেমন বেড়েছে। ঠিক তেমনি কুয়াশায় রবি শস্যের ক্ষেত ও বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে আবহাওয়া ও শৈতপ্রবাহের কারণে অধিকাংশ কৃষকরা ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে দুপচাঁচিয়া উপজেলার ৬ ইউনিয়ন ও ২ পৌরসভায় প্রায় ৪ হাজার ৮শ’ ২০ হেক্টর জমিতে আলু লাগানো হয়েছে।
এছাড়াও সরিষা ৩ হাজার ৪শ’ ৬০ হেক্টর, মরিচ ৩৫ হেক্টর, শাকসবজি ২৩০ হেক্টর, গম ৩০ হেক্টর, মসুর ডাল ৮ হেক্টর, পেঁয়াজ ১৭ হেক্টর, ও রসুন ১০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে।
এছাড়াও বিনাচাষে সরিষার আবাদ শুরু হয়েছে তিনটি ইউনিয়নে। এ বছর প্রায় ৬০০ হেক্টর জমিতে ইরি বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর মধ্যে ৩৬০ হেক্টর জমিতে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ইরি বোরো বীজতলা রোপন করা হয়েছে। গত কয়েকদিনের শৈত্যপ্রবাহের কারণে রবিশস্য ক্ষতির পাশাপাশি বীজতলা লালচে হয়ে যাচ্ছে।
কৃষকরা তাদের বীজতলা রক্ষা করতে কৃষি অফিসের পরামর্মে বীজতলা সাদা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখেছে। এভাবে যদি শৈতপ্রবাহ, ঘন কুয়াশা ও গুড়িগুড়ি বৃষ্টির মতো কুয়াশা হলে বীজতলা নষ্ট হয়ে যাবে। পাশাপাশি ইরি বোরো চাষ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিবে।
দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদর পূর্ব আলোহালী গ্রামের কৃষক জিল্লুর রহমান, সুলতান আহমেদ ও নুর ইসলামসহ কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমের শুরুতে তেমন কোনো শীত লক্ষ করা যায়নি। গত দুই সপ্তাহে ব্যাপক শৈতপ্রবাহ শুরু হয়েছে। এই তীব্র শৈতপ্রবাহের কারণে আমাদের ইরি ধানের বীজতলার গাছ লালচে রঙের হয়ে মরে যাচ্ছে। শৈতপ্রবাহ দীর্ঘ দিন ধরে থাকলে আমাদের ইরি ধান রোপনে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হবে এবং আমরা ক্ষতির সম্মুখীন হব।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল আবেদীন জানান, আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের ইরি ধানের বীজতলার ওপরে পলিথন দিয়ে ঢেকে রাখাসহ বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিয়েছি।
তিনি আরও জানান, এ উপজেলায় ২০টি ব্লক তৈরি করে, সেখানে ১৬ জন কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তারা পর্যবেক্ষণ করছেন।