ঢাকা ০৬:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জে মসজিদের কাঁঠাল নিলাম নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ৩

দেশের আওয়াজ ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় : ১১:২১:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ জুলাই ২০২৩ ৪৪ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে মসজিদের কাঁঠাল নিলাম নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষের তিনজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ ৩ জনকে আটক করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহ্‌সান শাহ্।
সোমবার দুপুরে উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের হাসনাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- হাসনাবাদ গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে নুরুল হক (৪৫), আব্দুস সুফির ছেলে বাবুল মিয়া (৫০) এবং আব্দুল বাসিরের ছেলে শাহজাহান মিয়া (৫৫)। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আরও ২/৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে হাসনাবাজ গ্রামের মসজিদে এক ব্যক্তি একটি কাঁঠাল দান করেন। মসজিদে গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে ওই কাঁঠালটি নিলামে তোলা হয় এবং দাম হাকাঁনো হয়। এতে গ্রামের দ্বীন ইসলামের পক্ষের লোকজন দামের কথা শুনা যাচ্ছে না বলে আওয়াজ তুললে প্রতিপক্ষ একই গ্রামের সুনু মিয়া ও জুনাব আলী গংরা বলে উঠেন মসজিদের ভেতরে অবস্থানকারী সবাই শুনলেও তোমরা কেন শুনতে পাওনি? এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাাকটি হয়। একপর্যয়ে সরাইমরল ও মালদার পরিবারের লোকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে সোমবার সকালে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় তারা দেশীয় ও ধারাল অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে ঘটনাস্থলে সরাইমরল গ্রুপের নুরুল হক ও বাবুল মিয়া নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মালাদার গ্রপের শাহজাহান মিয়া। সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

তবে জমি নিয়ে এই দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ব বিরোধ ছিল উল্লেখ করে জয়কলস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল বাছিত সুজন জানান, রোববার রাতে এবং আজকে ভোরে হাসনাবাজ গ্রামে গিয়ে উভয়পক্ষের লোকজনের সাথে আলাদা আলাদাভাবে বৈঠক করে কথা বলেছি। উভয়পক্ষের লোকজন আমাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে কোন পক্ষই মারাামরিতে যাবেন না। এমন আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের শান্ত করে উপজেলা পরিষদের মিটিং চলে যাই। সেখানে আমি শুনতে পাই উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে।

শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালেদ চৌধুরী জানান, সোমবার দুপুরে শান্তিগঞ্জ উপজেলায় মসজিদের কাঁঠাল নিলামকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে পুলিশ আটক করেছে বলেও জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সুনামগঞ্জে মসজিদের কাঁঠাল নিলাম নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ৩

আপডেট সময় : ১১:২১:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ জুলাই ২০২৩

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে মসজিদের কাঁঠাল নিলাম নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষের তিনজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ ৩ জনকে আটক করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহ্‌সান শাহ্।
সোমবার দুপুরে উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের হাসনাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- হাসনাবাদ গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে নুরুল হক (৪৫), আব্দুস সুফির ছেলে বাবুল মিয়া (৫০) এবং আব্দুল বাসিরের ছেলে শাহজাহান মিয়া (৫৫)। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আরও ২/৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে হাসনাবাজ গ্রামের মসজিদে এক ব্যক্তি একটি কাঁঠাল দান করেন। মসজিদে গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে ওই কাঁঠালটি নিলামে তোলা হয় এবং দাম হাকাঁনো হয়। এতে গ্রামের দ্বীন ইসলামের পক্ষের লোকজন দামের কথা শুনা যাচ্ছে না বলে আওয়াজ তুললে প্রতিপক্ষ একই গ্রামের সুনু মিয়া ও জুনাব আলী গংরা বলে উঠেন মসজিদের ভেতরে অবস্থানকারী সবাই শুনলেও তোমরা কেন শুনতে পাওনি? এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাাকটি হয়। একপর্যয়ে সরাইমরল ও মালদার পরিবারের লোকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে সোমবার সকালে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় তারা দেশীয় ও ধারাল অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে ঘটনাস্থলে সরাইমরল গ্রুপের নুরুল হক ও বাবুল মিয়া নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মালাদার গ্রপের শাহজাহান মিয়া। সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

তবে জমি নিয়ে এই দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ব বিরোধ ছিল উল্লেখ করে জয়কলস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল বাছিত সুজন জানান, রোববার রাতে এবং আজকে ভোরে হাসনাবাজ গ্রামে গিয়ে উভয়পক্ষের লোকজনের সাথে আলাদা আলাদাভাবে বৈঠক করে কথা বলেছি। উভয়পক্ষের লোকজন আমাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে কোন পক্ষই মারাামরিতে যাবেন না। এমন আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের শান্ত করে উপজেলা পরিষদের মিটিং চলে যাই। সেখানে আমি শুনতে পাই উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে।

শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালেদ চৌধুরী জানান, সোমবার দুপুরে শান্তিগঞ্জ উপজেলায় মসজিদের কাঁঠাল নিলামকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে পুলিশ আটক করেছে বলেও জানান তিনি।