ঢাকা ১২:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

সহকর্মীর গুলিতে নিহত পুলিশ কনস্টেবল মনিরুলের দাফন সম্পন্ন

দেশের আওয়াজ ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় : ১০:৫৯:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ জুন ২০২৪ ৯ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনে ফিলিস্তিন দূতাবাসের সামনে সহকর্মীর গুলিতে নিহত পুলিশ কনস্টেবল মনিরুল হকের (২৭) দাফন সম্পন্ন হয়েছে নেত্রকোনার গ্রামের বাড়িতে।

সোমবার (১০ জুন) সকালে গ্রামের ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মনিরুলের দাফন সম্পন্ন হয়।

এ সময় জেলা পুলিশ সুপার মো. ফয়েজ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। মনিরুলের মরদেহে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

এর আগে, রাতেই গ্রামের বাড়ি এসে পৌঁছে মনিরুলের লাশ। মনিরুলের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত মনিরুল হকের চাচা আনিছুল হক তাহের জানান, গত রমজান ঈদে ছুটি না পাওয়ায় বাড়িতে আসেনি মনিরুল। তাই এবার ১৫ দিনের ছুটিতে আজ সোমবার বাড়িতে আসার কথা ছিল তার। বাড়িতে এসে পরিবারের সবার সঙ্গে কোরবানির ঈদে আনন্দ করার কথা ছিল। কিন্তু সোমবার বাড়িতে এসেছে মনিরুলের লাশ।

মনিরুল বিষ্ণুপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত শামসুল হকের ছেলে। মনিরুলদের তিন ভাই তিন বোন। সবার ছোট মনিরুল।

পরিবার ও স্বজনরা জানায়, ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসবে বলে ছেলের জন্য বই-খেলনা সহ নানা রকমের জিনিসপত্র কিনেছিল মনিরুল। কিন্তু তার মৃত্যু সব আনন্দ শেষ করে দিয়েছে। মনিরুলের বৃদ্ধা মা দেলোয়ারা হক ছেলের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

২০১৪ সালে নেত্রকোনার আঞ্জুমান সরকারি উচ্চ থেকে এসএসসি পাশ করে মনিরুল। পরে ময়মনসিংহে একটি বেসরকারি পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটে ভর্তি হয়ে ৪র্থ সেমিস্টার পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। এর মধ্যে ২০১৬ সালের শেষের দিকে পুলিশের চাকরিতে যোগ দেন মনিরুল।

তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট মনিরুল। চাকরিতে থাকা অবস্থায় তিন বছর আগে জেলার পূর্বধলা উপজেলায় বিয়ে করেন মনিরুল। তার স্ত্রীর নাম তানিয়া আক্তার তন্বী। ত্বাকী নামে তাদের দুই বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

মনিরুলের বড় ভাই মাহবুব আলম টিটু পুলিশের একজন সদস্য। তিনি ঢাকা মেট্রো পলিটন পুলিশে (ডিএমপি) কর্মরত।

মনিরুলের বড় ভাই আমিনুল হক মিঠু জানান, মনিরুল আমাদের সবার ছোট। সে আমাদের সবার আদরের। আজ সোমবার (১০ জুন) ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসার কথা ছিল। একসঙ্গে সবাই মিলে ঈদ করার কথা ছিল। কিন্তু সোমবার এসেছে মনিরুলের নিথর দেহ। ভাইকে তো আর ফিরে পাব না, তবে গুলিবর্ষণকারী কাওছারের দৃষ্টান্তমূলক সাজা চাই।

মনিরুলের স্কুল সহপাঠী ও প্রতিবেশী ইবাদ হোসেন জানান, মনিরুলদের ছয় ভাই-বোনের মধ্যে এক ভাই ছাড়া বাকি পাঁচজনই চাকরিজীবী। মনিরুল খুবই মিশুক ধরনের ছিল। পরিচিত ও বন্ধু-বান্ধবসহ সবার সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক ছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সহকর্মীর গুলিতে নিহত পুলিশ কনস্টেবল মনিরুলের দাফন সম্পন্ন

আপডেট সময় : ১০:৫৯:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ জুন ২০২৪

রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনে ফিলিস্তিন দূতাবাসের সামনে সহকর্মীর গুলিতে নিহত পুলিশ কনস্টেবল মনিরুল হকের (২৭) দাফন সম্পন্ন হয়েছে নেত্রকোনার গ্রামের বাড়িতে।

সোমবার (১০ জুন) সকালে গ্রামের ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মনিরুলের দাফন সম্পন্ন হয়।

এ সময় জেলা পুলিশ সুপার মো. ফয়েজ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। মনিরুলের মরদেহে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

এর আগে, রাতেই গ্রামের বাড়ি এসে পৌঁছে মনিরুলের লাশ। মনিরুলের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত মনিরুল হকের চাচা আনিছুল হক তাহের জানান, গত রমজান ঈদে ছুটি না পাওয়ায় বাড়িতে আসেনি মনিরুল। তাই এবার ১৫ দিনের ছুটিতে আজ সোমবার বাড়িতে আসার কথা ছিল তার। বাড়িতে এসে পরিবারের সবার সঙ্গে কোরবানির ঈদে আনন্দ করার কথা ছিল। কিন্তু সোমবার বাড়িতে এসেছে মনিরুলের লাশ।

মনিরুল বিষ্ণুপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত শামসুল হকের ছেলে। মনিরুলদের তিন ভাই তিন বোন। সবার ছোট মনিরুল।

পরিবার ও স্বজনরা জানায়, ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসবে বলে ছেলের জন্য বই-খেলনা সহ নানা রকমের জিনিসপত্র কিনেছিল মনিরুল। কিন্তু তার মৃত্যু সব আনন্দ শেষ করে দিয়েছে। মনিরুলের বৃদ্ধা মা দেলোয়ারা হক ছেলের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

২০১৪ সালে নেত্রকোনার আঞ্জুমান সরকারি উচ্চ থেকে এসএসসি পাশ করে মনিরুল। পরে ময়মনসিংহে একটি বেসরকারি পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটে ভর্তি হয়ে ৪র্থ সেমিস্টার পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। এর মধ্যে ২০১৬ সালের শেষের দিকে পুলিশের চাকরিতে যোগ দেন মনিরুল।

তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট মনিরুল। চাকরিতে থাকা অবস্থায় তিন বছর আগে জেলার পূর্বধলা উপজেলায় বিয়ে করেন মনিরুল। তার স্ত্রীর নাম তানিয়া আক্তার তন্বী। ত্বাকী নামে তাদের দুই বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

মনিরুলের বড় ভাই মাহবুব আলম টিটু পুলিশের একজন সদস্য। তিনি ঢাকা মেট্রো পলিটন পুলিশে (ডিএমপি) কর্মরত।

মনিরুলের বড় ভাই আমিনুল হক মিঠু জানান, মনিরুল আমাদের সবার ছোট। সে আমাদের সবার আদরের। আজ সোমবার (১০ জুন) ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসার কথা ছিল। একসঙ্গে সবাই মিলে ঈদ করার কথা ছিল। কিন্তু সোমবার এসেছে মনিরুলের নিথর দেহ। ভাইকে তো আর ফিরে পাব না, তবে গুলিবর্ষণকারী কাওছারের দৃষ্টান্তমূলক সাজা চাই।

মনিরুলের স্কুল সহপাঠী ও প্রতিবেশী ইবাদ হোসেন জানান, মনিরুলদের ছয় ভাই-বোনের মধ্যে এক ভাই ছাড়া বাকি পাঁচজনই চাকরিজীবী। মনিরুল খুবই মিশুক ধরনের ছিল। পরিচিত ও বন্ধু-বান্ধবসহ সবার সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক ছিল।