ঢাকা ০৭:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার ৭ বছর, বিচারের আগেই ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১৯ আসামি নিহত

দেশের আওয়াজ ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:২২:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ জুলাই ২০২৩ ৪১ বার পড়া হয়েছে

শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার আজ (৭ জুলাই) সাত বছর। ২০১৬ সালের এই দিনে ঈদুল ফিতরের জামাতের আগে মাঠে প্রবেশপথের সবুজবাগ সংযোগ সড়কে মুফতি মোহাম্মদ আলী জামে মসজিদের সামনের তল্লাশি চৌকিতে জঙ্গি হামলা হয়। এ হামলায় দুইজন পুলিশ সদস্য, এক গৃহবধূ ও এক জঙ্গি নিহত হন।

জঙ্গিরা নির্মমভাবে চাপাতি ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে পুলিশের দুই সদস্য জহিরুল ইসলাম ও আনসারুল হককে। পরে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের ‘বন্দুকযুদ্ধ’ চলে অনেকক্ষণ। এ সময় একটি গুলি সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা গৌরাঙ্গনাথ ভৌমিকের ঘরের টিনের জানালা ভেদ করে তার স্ত্রী ঝর্ণা রানী ভৌমিকের মাথায় গিয়ে লাগে। সঙ্গে সঙ্গেই মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে মারা যান তিনি। এ সময় পুলিশের গুলিতে জঙ্গি আবির রহমান নিহত হন।

এছাড়া জঙ্গিদের গ্রেনেড হামলায় আট পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা তৎকালীন পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সামসুদ্দিন বাদী হয়ে জঙ্গি শফিউল ইসলাম ও জাহিদুল হক তানিমের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা জঙ্গিদেরকে আসামি করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। তবে মোট ২৪ জন আসামির মধ্যে বিভিন্ন সময় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১৯ জন মারা যান।

এই হামলার কথা মনে হলেই স্থানীয়রা এখনো আঁতকে উঠেন। নিহত ঝর্ণা রানী ভৌমিকের স্বামী গৌরাঙ্গ ভৌমিক বলেন, শোলাকিয়া জঙ্গি হামলায় আমার স্ত্রী নিহত হয়েছে। জীবিত থাকা অবস্থায় স্ত্রী হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ বলেন, বর্তমানে মামলাটি আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য রয়েছে। ন্যায়বিচার পাব বলে আশা করি। সেই ঘটনার পর থেকে শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে। শহরের যেকোনো প্রোগ্রামে শোলাকিয়া জঙ্গি হামলার বিষয়টি মাথায় রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নিহত পুলিশ সদস্য আনসারুল হক, জহিরুল ইসলাম ও গৃহবধূ ঝর্ণা রানী ভৌমিকের স্মরণে প্রতি বছর ৭ জুলাই ঘটনাস্থলে অস্থায়ী বেদিতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও কিশোরগঞ্জের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবু নাসের মো. ফারুক সঞ্জু বলেন, জঙ্গি হামলার ঘটনায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতে পাঁচজন আসামি বিচারাধীন রয়েছে। গত ৬ জুন সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ছিল। সেদিন মামলার বাদীসহ মোট ১৭ জন সাক্ষী উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, গত ৬ জুন আসামিদের মধ্যে মিজান ওরফে বড় মিজান, জাহাঙ্গীর, জাহেদুল ও আনোয়ারকে আদালতে উপস্থিত করা হয়। তবে মো. সবুর খান হাসান ওরফে সোহেল রাজশাহীতে অন্য একটি জঙ্গি হামলা মামলায় রাজশাহী কারাগারে থাকায় আইনি বাধ্য বাধকতায় আদালতে হাজির হতে পারেননি। পরবর্তী ২৫ জুলাই আবারো সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। আশা করছি আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণের পর আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হবে।

এদিকে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে এ হামলায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও স্বজনরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার ৭ বছর, বিচারের আগেই ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১৯ আসামি নিহত

আপডেট সময় : ০৮:২২:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ জুলাই ২০২৩

শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার আজ (৭ জুলাই) সাত বছর। ২০১৬ সালের এই দিনে ঈদুল ফিতরের জামাতের আগে মাঠে প্রবেশপথের সবুজবাগ সংযোগ সড়কে মুফতি মোহাম্মদ আলী জামে মসজিদের সামনের তল্লাশি চৌকিতে জঙ্গি হামলা হয়। এ হামলায় দুইজন পুলিশ সদস্য, এক গৃহবধূ ও এক জঙ্গি নিহত হন।

জঙ্গিরা নির্মমভাবে চাপাতি ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে পুলিশের দুই সদস্য জহিরুল ইসলাম ও আনসারুল হককে। পরে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের ‘বন্দুকযুদ্ধ’ চলে অনেকক্ষণ। এ সময় একটি গুলি সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা গৌরাঙ্গনাথ ভৌমিকের ঘরের টিনের জানালা ভেদ করে তার স্ত্রী ঝর্ণা রানী ভৌমিকের মাথায় গিয়ে লাগে। সঙ্গে সঙ্গেই মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে মারা যান তিনি। এ সময় পুলিশের গুলিতে জঙ্গি আবির রহমান নিহত হন।

এছাড়া জঙ্গিদের গ্রেনেড হামলায় আট পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা তৎকালীন পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সামসুদ্দিন বাদী হয়ে জঙ্গি শফিউল ইসলাম ও জাহিদুল হক তানিমের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা জঙ্গিদেরকে আসামি করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। তবে মোট ২৪ জন আসামির মধ্যে বিভিন্ন সময় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১৯ জন মারা যান।

এই হামলার কথা মনে হলেই স্থানীয়রা এখনো আঁতকে উঠেন। নিহত ঝর্ণা রানী ভৌমিকের স্বামী গৌরাঙ্গ ভৌমিক বলেন, শোলাকিয়া জঙ্গি হামলায় আমার স্ত্রী নিহত হয়েছে। জীবিত থাকা অবস্থায় স্ত্রী হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ বলেন, বর্তমানে মামলাটি আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য রয়েছে। ন্যায়বিচার পাব বলে আশা করি। সেই ঘটনার পর থেকে শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে। শহরের যেকোনো প্রোগ্রামে শোলাকিয়া জঙ্গি হামলার বিষয়টি মাথায় রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নিহত পুলিশ সদস্য আনসারুল হক, জহিরুল ইসলাম ও গৃহবধূ ঝর্ণা রানী ভৌমিকের স্মরণে প্রতি বছর ৭ জুলাই ঘটনাস্থলে অস্থায়ী বেদিতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও কিশোরগঞ্জের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবু নাসের মো. ফারুক সঞ্জু বলেন, জঙ্গি হামলার ঘটনায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতে পাঁচজন আসামি বিচারাধীন রয়েছে। গত ৬ জুন সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ছিল। সেদিন মামলার বাদীসহ মোট ১৭ জন সাক্ষী উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, গত ৬ জুন আসামিদের মধ্যে মিজান ওরফে বড় মিজান, জাহাঙ্গীর, জাহেদুল ও আনোয়ারকে আদালতে উপস্থিত করা হয়। তবে মো. সবুর খান হাসান ওরফে সোহেল রাজশাহীতে অন্য একটি জঙ্গি হামলা মামলায় রাজশাহী কারাগারে থাকায় আইনি বাধ্য বাধকতায় আদালতে হাজির হতে পারেননি। পরবর্তী ২৫ জুলাই আবারো সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। আশা করছি আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণের পর আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হবে।

এদিকে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে এ হামলায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও স্বজনরা।