ঢাকা ১২:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

“রাসেল ভাইপার” সাপের আতঙ্কে এখনো বরেন্দ্র অঞ্চলের মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক//
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৬:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪ ৫২ বার পড়া হয়েছে

বরেন্দ্র অঞ্চলে ভয়ঙ্কর বিষধর সাপ ‘রাসেল ভাইপার ’ নিয়ে এখনো আতঙ্ক কাটছেনা কৃষকসহ সাধারণ মানুষের। বোরো ধান কাটার সময় ‘রাসেল ভাইপার ’ এ আঞ্চলে দেখা মিলে বেশী। এই বিষধর সাপকে চঁন্দ্রো বোরা বা আইল বোরা নামে চিনে এ অঞ্চলের সাধারন মানুষ। ‘রাসেল ভাইপার ’ এর বৈশিষ্ট লেজের উপর ভর করে চলতে পারে। এমনকি মানুষকে তেড়ে গিয়ে কামড়ায়। কামড় দেওয়ার সাথে সাথে আক্রান্ত ব্যাক্তি অচেতন হয়ে যায়। এ সাপের গর্জন খুব ভয়ঙ্কর। এ অঞ্চলে সাপের কামড়ে কারো মৃত্যু হলে মনে করছে ‘রাসেল ভাইপার ’ সাপে কামড়িয়েছে। চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকদের কাছে আতঙ্কের বিষয় হয়ে উঠেছে রাসেল ভাইপার। আতঙ্কের ফলে কৃষি শ্রমকিরা জমিতে ধান কাটতে চাচ্ছেনা। পাওয়া যাচ্ছেনা কিছু কিছু এলাকায় ধান কাটা শ্রমীক। এ মৌসুমে ইতিমধ্যে একজনের প্রাণ নিয়েছে রাসেল ভাইপার।
দীর্ঘ ২৫ বছর বিলুপ্ত থাকার পর ২০১৩ সালে হঠাৎ এ সাপটির দেখা মিলছে এ অঞ্চলে। ওই বছরই ভয়ঙ্কর এ সাপটি তিনজনের প্রাণ কেড়ে নেয়। এরপর থেকে নিয়মিত প্রাণসংহার করে যাচ্ছে এই সাপ। হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, রাসেল ভাইপার যে মানুষকে কামড়ায় তাকে বাঁচানো খুবই কষ্টকর। কিডনি খুব দ্রুত আক্রান্ত হয় এ সাপের কামড়ে। অনেক সময় রাসেল ভাইপারের বিষ নিস্ক্রিয় করা গেলেও কিছুদিন পর দংশিত স্থানে পচন ধরে। তারপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ওই রোগী মারা যান।
মে মাসে প্রায়টি ১০টি রাসেল ভাইপার সাপকে পিটিয়ে মেরেছে কৃষকরা। এর মধ্যে সামাউন নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
জানা যায়, গোদাগাড়ী উপজেলার চম্পকনগর গ্রামের বাসিন্দা সামাউন গত (৫ মে বুধবার) পদ্মা নদীর উপাওে চর এলাকায পাকা ধান কাটতে গিয়ে রাসেল ভাইপারের কামড়ালে সাথে সাথে তার মূত্যু হয়।
রোববার (১৬ মে) গোদাগাড়ী পৌরসভার সুলতানগঞ্জ উ”চ বিদ্যালয় এর পাশে সারাংপুর কাচারীপাড়া কৃষকরা বোরো পাকা ধান কাটছিল এসময় ফারুক নামের এক কৃষক সাপটি দেখতে পেলে সবাই মিলে সাপটি পিটিয়ে মেরে ফেলে। ১৮ মে ও ১৯ মে দুপুরে গোদাগাড়ী পৌরসভার কুঠিপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে থেকে দুইদিনে রাসেল ভাইপার সাপ দেখতে পেলে স্থানীয়রা সাপ মেরে ফেলে। এছাড়াও মঙ্গলবার (১৮ মে) পোতাহার (পালসা) এলাকায় ধান ক্ষেতে কৃষকরা রাসেল ভাইপার সাপ দেখতে পেলে সাপটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা জায়, ২০১৬ ইং সালে এপ্রিল মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে মেহেদি হাসান (১০) মাঠে ঘাস কাটার সময় তার বাম পায়ে কামড়ায় রাসেল ভাইপার। শিবগঞ্জ উপজেলার জামাই পাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে বাবু (৮) কে কামড়ায় রাসেল ভাইপার।
মার্চ (২০১৬ ইং) মাসে রাজশাহীর পবা উপজেলার গহমাবুনা গ্রামের কৃষক গোলাব হোসেনকে এ সাপে কামড়ায়। ২৭ এপ্রিল (২০১৬ ইং)মাসে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার নিমতলা গ্রামের কৃষক নাইমুল ইসলাম (২৫) ধানের জমিতে কাজ করার সময় রাসেল ভাইপারের কামড়ায়। ৭ দিন পর তার মৃত্যু হয়।
২১ এপ্রিল (২০১৬ ইং) মাসে একই গ্রামের মৌসুমী খাতুন ধানি জমির আইলে ছাগল চরাতে গেলে তাকে রাসেল ভাইপার কামড়ায়। ৯ দিন পর তার মৃত্যু হয়।
তথ্য অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, ১ জুন/১৪ ইং নওগাঁর ধামইড় হাট উপজেলার আগ্রাদ্বিগুন গ্রামের জামার নামের এক কৃসককে এই সাপে কামড়ালে রামেক হাসপাতালে ৮ দিন চিকিৎসার পর তিনি মারা যান। জুলাই/ ১৪ইং চাপাই নবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার বরেন্দ্রা গ্রামে আব্বাস আলীর ছেলে আক্কাসের (১৮) হাতের আঙ্গুলে কামড় দিলে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসার পর সে মারা যান। ২৪ নভেম্বর/ ১৪ ইং রাজশাহীর তানোর উপজেলার শিবরাম পুর গ্রামের নওসাদ আলীর ছেলে তজিমুদ্দিনকে (২৫) কামড়ালে সে মারা যান। ১৫ অক্টোবর/১৫ইং রাজশাহীর তানোর উপজেলার সাইধাড়া গ্রামের কৃষক ইয়ামিন কালু এ সাপের কামড়ে মারা যান। ২০১৫ ইং সালে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মোল্লাাপাড়া গ্রামে বিপ্লব (২০) এবং সাহেব আলী (৫৫) নামে দুজনের মৃত্যু হয় এই সাপের কামড়ে। ২০১৯ সালে ২২ সেপ্টেম্বর গোদাগাড়ী পৌর এলাকার বাসিন্দা মোমিন আলী ধান ক্ষেতে পরিচর্যা করছিল এমন সময় তাকে এই সাপে কামড়ালে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৫ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
১৯৮৫ সালের দিকে এ অঞ্চলে ‘রাসেল ভাইপার ’ সাপটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। কিন্তু ২০১৩ সালের দিক থেকে আবারো হঠাৎ করে দেখা যায় ভয়ঙ্কর বিষধর এই সাপ। ওই বছর জার্মানির আন্তর্জাতিক বিষ গবেষণা কেন্দ্রের একটি দল গবেষণার জন্য এস রাজশাহীর তানোর উপজেলা থেকে দুটি রাসেল ভাইপার ধরে নিয়ে যায়। এর একটি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের তৎকালীন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ আজিজুল হক আজাদ নিজের কাছে রাখেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অশোক ফাউন্ডেশনের ফেলো এবং বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ আবু সাইদ মতে, বাংলাদেশে প্রায় ১০০ প্রজাতির সাপ আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিষধর তিন প্রজাতির সাপের মধ্যে রাসেল ভাইপার একটি। দুই থেকে তিন ফুট লম্বা এই সাপটি বেশিরভাগ সময় গর্তেই ঘাপটি মেরে থাকে। তবে খিদে পেলে এটি ইদুর ও ঘাস ফড়িং জাতীয় বিভিন্ন পোকামাকড় শিকারের জন্য বের হয়। সাপটির মাথার দিক অনেক চিকন এবং ছোট হওয়ায় দ্রুত গতিতে সে মানুষকে দংশন করতে পারে। অন্যান্য সাপের চেয়ে এটির দাঁতও বেশ বড়। একবার কামড়েই ২৬০ মিলিগ্রাম বিষ প্রয়োগ করতে পারে। তবে মাত্র ৪০ মিলিগ্রাম বিষ প্রয়োগ করতে পারলেই মানুষের মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত।
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের তৎকালীন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ আজিজুল হক আজাদ মতে, প্রায় ২৫ বছর আগে বরেন্দ্র অঞ্চলে বিলুপ্ত হয়ে যায় এই সাপ। এরপর ২০১৩ সালে আবারো দেখা মিলেছে এই সাপের। অত্যন্ত বিষধর এই সাপে কামড়ালে অনেক সময় চিকিৎসা দেওয়ার মতো সময় পাওয়া যায় না। সাপে কামড়ার কিছু সময়ের মধ্যেই রোগীর রক্ত জমাট বাঁধে। আবার সঠিক চিকিৎসায় রোগী সুস্থ হয়ে ওঠার পরও দংশিত স্থানে পচনের সৃষ্টি হয়ে রোগী মারা যাওয়ার নজিরও আছে। ধানের ক্ষেতে বা চর অঞ্চলে গেলে গাং বুট পরে যাওয়া উচিৎ। সাপে কামড়ালে ওঝা বা কবিরাজ দিয়ে ঝাড় ফুক না করে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া উচিৎ বলে তিনি আরো জানাই।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহমেদ বলেন, মাঠে সাপের উৎপাতের বিষয়টি আমি শুনেছি। কৃষকরা আমাদের কাছে বিষয়টি বলছেন। আমরা তাদেরকে ভীত না হতে বলেছি। মাঠে ধানক্ষেতে যাওয়ার জন্য লাঠি রাখার পরামর্শ দিয়েছি। কয়েকজনকে কৃষককে ড্রাম বুট দেয়া হয়েছে। এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউএনও স্যার কৃষকদের জন্য একটি প্রকল্প করে ২৫-৩০ হাজার কৃষককে ড্রাম বুট(জুতা) দেয়া হবে তিনি জানান।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রাসেল ভাইপারের কামড়ের রোগীদের চিকিৎসার জন্য মেডিক্যালে দ্রুত নেওয়া দরকার। এই সাপের কামড়ালে চিকিৎসার জন্য মেডিক্যালে যন্ত্র রয়েছে। তবে যন্ত্রটি চালানোর জন্য প্রতি ৭২ ঘণ্টায় ১টি করে সার্কিট প্রয়োজন। যার প্রতিটির দাম ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

“রাসেল ভাইপার” সাপের আতঙ্কে এখনো বরেন্দ্র অঞ্চলের মানুষ

আপডেট সময় : ০৩:৩৬:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪

বরেন্দ্র অঞ্চলে ভয়ঙ্কর বিষধর সাপ ‘রাসেল ভাইপার ’ নিয়ে এখনো আতঙ্ক কাটছেনা কৃষকসহ সাধারণ মানুষের। বোরো ধান কাটার সময় ‘রাসেল ভাইপার ’ এ আঞ্চলে দেখা মিলে বেশী। এই বিষধর সাপকে চঁন্দ্রো বোরা বা আইল বোরা নামে চিনে এ অঞ্চলের সাধারন মানুষ। ‘রাসেল ভাইপার ’ এর বৈশিষ্ট লেজের উপর ভর করে চলতে পারে। এমনকি মানুষকে তেড়ে গিয়ে কামড়ায়। কামড় দেওয়ার সাথে সাথে আক্রান্ত ব্যাক্তি অচেতন হয়ে যায়। এ সাপের গর্জন খুব ভয়ঙ্কর। এ অঞ্চলে সাপের কামড়ে কারো মৃত্যু হলে মনে করছে ‘রাসেল ভাইপার ’ সাপে কামড়িয়েছে। চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকদের কাছে আতঙ্কের বিষয় হয়ে উঠেছে রাসেল ভাইপার। আতঙ্কের ফলে কৃষি শ্রমকিরা জমিতে ধান কাটতে চাচ্ছেনা। পাওয়া যাচ্ছেনা কিছু কিছু এলাকায় ধান কাটা শ্রমীক। এ মৌসুমে ইতিমধ্যে একজনের প্রাণ নিয়েছে রাসেল ভাইপার।
দীর্ঘ ২৫ বছর বিলুপ্ত থাকার পর ২০১৩ সালে হঠাৎ এ সাপটির দেখা মিলছে এ অঞ্চলে। ওই বছরই ভয়ঙ্কর এ সাপটি তিনজনের প্রাণ কেড়ে নেয়। এরপর থেকে নিয়মিত প্রাণসংহার করে যাচ্ছে এই সাপ। হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, রাসেল ভাইপার যে মানুষকে কামড়ায় তাকে বাঁচানো খুবই কষ্টকর। কিডনি খুব দ্রুত আক্রান্ত হয় এ সাপের কামড়ে। অনেক সময় রাসেল ভাইপারের বিষ নিস্ক্রিয় করা গেলেও কিছুদিন পর দংশিত স্থানে পচন ধরে। তারপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ওই রোগী মারা যান।
মে মাসে প্রায়টি ১০টি রাসেল ভাইপার সাপকে পিটিয়ে মেরেছে কৃষকরা। এর মধ্যে সামাউন নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
জানা যায়, গোদাগাড়ী উপজেলার চম্পকনগর গ্রামের বাসিন্দা সামাউন গত (৫ মে বুধবার) পদ্মা নদীর উপাওে চর এলাকায পাকা ধান কাটতে গিয়ে রাসেল ভাইপারের কামড়ালে সাথে সাথে তার মূত্যু হয়।
রোববার (১৬ মে) গোদাগাড়ী পৌরসভার সুলতানগঞ্জ উ”চ বিদ্যালয় এর পাশে সারাংপুর কাচারীপাড়া কৃষকরা বোরো পাকা ধান কাটছিল এসময় ফারুক নামের এক কৃষক সাপটি দেখতে পেলে সবাই মিলে সাপটি পিটিয়ে মেরে ফেলে। ১৮ মে ও ১৯ মে দুপুরে গোদাগাড়ী পৌরসভার কুঠিপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে থেকে দুইদিনে রাসেল ভাইপার সাপ দেখতে পেলে স্থানীয়রা সাপ মেরে ফেলে। এছাড়াও মঙ্গলবার (১৮ মে) পোতাহার (পালসা) এলাকায় ধান ক্ষেতে কৃষকরা রাসেল ভাইপার সাপ দেখতে পেলে সাপটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা জায়, ২০১৬ ইং সালে এপ্রিল মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে মেহেদি হাসান (১০) মাঠে ঘাস কাটার সময় তার বাম পায়ে কামড়ায় রাসেল ভাইপার। শিবগঞ্জ উপজেলার জামাই পাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে বাবু (৮) কে কামড়ায় রাসেল ভাইপার।
মার্চ (২০১৬ ইং) মাসে রাজশাহীর পবা উপজেলার গহমাবুনা গ্রামের কৃষক গোলাব হোসেনকে এ সাপে কামড়ায়। ২৭ এপ্রিল (২০১৬ ইং)মাসে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার নিমতলা গ্রামের কৃষক নাইমুল ইসলাম (২৫) ধানের জমিতে কাজ করার সময় রাসেল ভাইপারের কামড়ায়। ৭ দিন পর তার মৃত্যু হয়।
২১ এপ্রিল (২০১৬ ইং) মাসে একই গ্রামের মৌসুমী খাতুন ধানি জমির আইলে ছাগল চরাতে গেলে তাকে রাসেল ভাইপার কামড়ায়। ৯ দিন পর তার মৃত্যু হয়।
তথ্য অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, ১ জুন/১৪ ইং নওগাঁর ধামইড় হাট উপজেলার আগ্রাদ্বিগুন গ্রামের জামার নামের এক কৃসককে এই সাপে কামড়ালে রামেক হাসপাতালে ৮ দিন চিকিৎসার পর তিনি মারা যান। জুলাই/ ১৪ইং চাপাই নবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার বরেন্দ্রা গ্রামে আব্বাস আলীর ছেলে আক্কাসের (১৮) হাতের আঙ্গুলে কামড় দিলে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসার পর সে মারা যান। ২৪ নভেম্বর/ ১৪ ইং রাজশাহীর তানোর উপজেলার শিবরাম পুর গ্রামের নওসাদ আলীর ছেলে তজিমুদ্দিনকে (২৫) কামড়ালে সে মারা যান। ১৫ অক্টোবর/১৫ইং রাজশাহীর তানোর উপজেলার সাইধাড়া গ্রামের কৃষক ইয়ামিন কালু এ সাপের কামড়ে মারা যান। ২০১৫ ইং সালে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মোল্লাাপাড়া গ্রামে বিপ্লব (২০) এবং সাহেব আলী (৫৫) নামে দুজনের মৃত্যু হয় এই সাপের কামড়ে। ২০১৯ সালে ২২ সেপ্টেম্বর গোদাগাড়ী পৌর এলাকার বাসিন্দা মোমিন আলী ধান ক্ষেতে পরিচর্যা করছিল এমন সময় তাকে এই সাপে কামড়ালে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৫ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
১৯৮৫ সালের দিকে এ অঞ্চলে ‘রাসেল ভাইপার ’ সাপটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। কিন্তু ২০১৩ সালের দিক থেকে আবারো হঠাৎ করে দেখা যায় ভয়ঙ্কর বিষধর এই সাপ। ওই বছর জার্মানির আন্তর্জাতিক বিষ গবেষণা কেন্দ্রের একটি দল গবেষণার জন্য এস রাজশাহীর তানোর উপজেলা থেকে দুটি রাসেল ভাইপার ধরে নিয়ে যায়। এর একটি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের তৎকালীন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ আজিজুল হক আজাদ নিজের কাছে রাখেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অশোক ফাউন্ডেশনের ফেলো এবং বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ আবু সাইদ মতে, বাংলাদেশে প্রায় ১০০ প্রজাতির সাপ আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিষধর তিন প্রজাতির সাপের মধ্যে রাসেল ভাইপার একটি। দুই থেকে তিন ফুট লম্বা এই সাপটি বেশিরভাগ সময় গর্তেই ঘাপটি মেরে থাকে। তবে খিদে পেলে এটি ইদুর ও ঘাস ফড়িং জাতীয় বিভিন্ন পোকামাকড় শিকারের জন্য বের হয়। সাপটির মাথার দিক অনেক চিকন এবং ছোট হওয়ায় দ্রুত গতিতে সে মানুষকে দংশন করতে পারে। অন্যান্য সাপের চেয়ে এটির দাঁতও বেশ বড়। একবার কামড়েই ২৬০ মিলিগ্রাম বিষ প্রয়োগ করতে পারে। তবে মাত্র ৪০ মিলিগ্রাম বিষ প্রয়োগ করতে পারলেই মানুষের মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত।
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের তৎকালীন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ আজিজুল হক আজাদ মতে, প্রায় ২৫ বছর আগে বরেন্দ্র অঞ্চলে বিলুপ্ত হয়ে যায় এই সাপ। এরপর ২০১৩ সালে আবারো দেখা মিলেছে এই সাপের। অত্যন্ত বিষধর এই সাপে কামড়ালে অনেক সময় চিকিৎসা দেওয়ার মতো সময় পাওয়া যায় না। সাপে কামড়ার কিছু সময়ের মধ্যেই রোগীর রক্ত জমাট বাঁধে। আবার সঠিক চিকিৎসায় রোগী সুস্থ হয়ে ওঠার পরও দংশিত স্থানে পচনের সৃষ্টি হয়ে রোগী মারা যাওয়ার নজিরও আছে। ধানের ক্ষেতে বা চর অঞ্চলে গেলে গাং বুট পরে যাওয়া উচিৎ। সাপে কামড়ালে ওঝা বা কবিরাজ দিয়ে ঝাড় ফুক না করে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া উচিৎ বলে তিনি আরো জানাই।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহমেদ বলেন, মাঠে সাপের উৎপাতের বিষয়টি আমি শুনেছি। কৃষকরা আমাদের কাছে বিষয়টি বলছেন। আমরা তাদেরকে ভীত না হতে বলেছি। মাঠে ধানক্ষেতে যাওয়ার জন্য লাঠি রাখার পরামর্শ দিয়েছি। কয়েকজনকে কৃষককে ড্রাম বুট দেয়া হয়েছে। এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউএনও স্যার কৃষকদের জন্য একটি প্রকল্প করে ২৫-৩০ হাজার কৃষককে ড্রাম বুট(জুতা) দেয়া হবে তিনি জানান।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রাসেল ভাইপারের কামড়ের রোগীদের চিকিৎসার জন্য মেডিক্যালে দ্রুত নেওয়া দরকার। এই সাপের কামড়ালে চিকিৎসার জন্য মেডিক্যালে যন্ত্র রয়েছে। তবে যন্ত্রটি চালানোর জন্য প্রতি ৭২ ঘণ্টায় ১টি করে সার্কিট প্রয়োজন। যার প্রতিটির দাম ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা।