ঢাকা ০৫:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

রমজানে কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছি: মির্জা ফখরুল

দেশের আওয়াজ ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৪৬:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মার্চ ২০২৩ ৬১ বার পড়া হয়েছে

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রমজান মাসে রাজনৈতিক কর্মসূচি দেওয়ার কথা নয়, কিন্তু দেশে যে অবস্থা তৈরি হয়েছে তাতে আমরা কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছি।

শুক্রবার (২৪ মার্চ) রাজধানীর লেডিস ক্লাবে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি। আলেম-ওলামা ও এতিমদের সম্মানে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিএনপি।

কর্মসূচি ঘোষণা করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই রমজান মাসেও যে সমস্ত জিনিসগুলো মানুষকে কষ্ট দেয় তার প্রেক্ষিতে বিএনপির চলমান আন্দোলন অব্যাহত রাখবো।

তিনি বলেন, রমজান মাসে রাজনৈতিক কর্মসূচি দেওয়ার কথা নয়। কিন্তু আজকে দেশে যে অবস্থা তৈরি হয়েছে, আমরা বাধ্য হয়েছি এই রমজান মাসেও সাধারণ মানুষকে মুক্ত করার, সর্বোপরি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যে আন্দোলন, তা চলমান রাখতে চাই। সেকারণেই আমরা এসব কর্মসূচি দিয়েছি। আমরা আশা করব সাধারণ মানুষ এসব কর্মসূচি সফল করবে।

ঘোষিত কর্মসূচি হলো
১ এপ্রিল শনিবার সারাদেশের সকল মহানগর ও জেলায় দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি।
৮ এপ্রিল শনিবার সারাদেশের সকল মহানগরের থানা পর্যায়ে ও জেলার উপজেলা পর্যায়ে বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি।
৯ এপ্রিল থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত বিভাগীয় শহরগুলোতে বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সারাদেশের সকল ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রচারপত্র বিলি, মানববন্ধন করা হবে।

৯ এপ্রিল, রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগ।
১০ এপ্রিল, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগ
১১ এপ্রিল, খুলনা ও কুমিল্লা বিভাগ
১২ এপ্রিল, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগ
১৩ এপ্রিল, ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর বিভাগ
এছাড়া ২৮ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশের সকল জেলা/মহানগর, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের সহিত মতবিনিময় সভা, দুস্থ, অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সহায়তাসহ বিভিন্ন গণসংযোগমূলক কর্মসূচিতে বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে অংশগ্রহণের জন্য বলা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, এমন এক সময়ে আমরা ইফতার মাহফিল করছি যখন দেশে সাধারণ মানুষ অত্যন্ত কষ্টে দিন যাপন করছে। ইফতারের সময় ন্যূনতম যে খাদ্যদ্রব্য দরকার, সেগুলোর দাম আকাশচুম্বী যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। প্রতিটি জিনিসের দাম আজকে বেড়ে গেছে। এই দাম বাড়ার মূল কারণ হচ্ছে আওয়ামী সরকারের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি। আওয়ামী লীগের সিন্ডিকেটের কারসাজিতে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। সাধারণ মানুষের শ্বাসরুদ্ধ হয়ে আসছে। আমরা এই দুঃসহ অবস্থার অবসান চাই। এই অবস্থায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যেসব বিষয় মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে, তা নিযে আমরা আমাদের কর্মসূচি চলমান রাখবো।

অনুষ্ঠানে শুরুতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ঘুরে-ঘুরে বিভিন্ন টেবিলে গিয়ে হাত মিলান ও শিশুদের খোঁজ নেন। ইফতারে প্রায় ১৬০ জনের মতো বিভিন্ন মাদরাসাছাত্র এবং শতাধিক শিক্ষক অংশ নেয়। ২০১৮ সালে খালেদ জিয়ার কারাগারে যাওয়ার পর তার সম্মানে বিএনপির আয়োজিত প্রতিটি ইফতারে মঞ্চে একটি আসন ফাঁকা রাখা হতো। কিন্তু আজকের ইফতারে সেটি রাখা হয়নি।

ইফতারে অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার ও শায়রুল কবির খান প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রমজানে কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছি: মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় : ০২:৪৬:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মার্চ ২০২৩

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রমজান মাসে রাজনৈতিক কর্মসূচি দেওয়ার কথা নয়, কিন্তু দেশে যে অবস্থা তৈরি হয়েছে তাতে আমরা কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছি।

শুক্রবার (২৪ মার্চ) রাজধানীর লেডিস ক্লাবে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি। আলেম-ওলামা ও এতিমদের সম্মানে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিএনপি।

কর্মসূচি ঘোষণা করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই রমজান মাসেও যে সমস্ত জিনিসগুলো মানুষকে কষ্ট দেয় তার প্রেক্ষিতে বিএনপির চলমান আন্দোলন অব্যাহত রাখবো।

তিনি বলেন, রমজান মাসে রাজনৈতিক কর্মসূচি দেওয়ার কথা নয়। কিন্তু আজকে দেশে যে অবস্থা তৈরি হয়েছে, আমরা বাধ্য হয়েছি এই রমজান মাসেও সাধারণ মানুষকে মুক্ত করার, সর্বোপরি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যে আন্দোলন, তা চলমান রাখতে চাই। সেকারণেই আমরা এসব কর্মসূচি দিয়েছি। আমরা আশা করব সাধারণ মানুষ এসব কর্মসূচি সফল করবে।

ঘোষিত কর্মসূচি হলো
১ এপ্রিল শনিবার সারাদেশের সকল মহানগর ও জেলায় দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি।
৮ এপ্রিল শনিবার সারাদেশের সকল মহানগরের থানা পর্যায়ে ও জেলার উপজেলা পর্যায়ে বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি।
৯ এপ্রিল থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত বিভাগীয় শহরগুলোতে বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সারাদেশের সকল ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রচারপত্র বিলি, মানববন্ধন করা হবে।

৯ এপ্রিল, রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগ।
১০ এপ্রিল, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগ
১১ এপ্রিল, খুলনা ও কুমিল্লা বিভাগ
১২ এপ্রিল, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগ
১৩ এপ্রিল, ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর বিভাগ
এছাড়া ২৮ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশের সকল জেলা/মহানগর, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের সহিত মতবিনিময় সভা, দুস্থ, অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সহায়তাসহ বিভিন্ন গণসংযোগমূলক কর্মসূচিতে বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে অংশগ্রহণের জন্য বলা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, এমন এক সময়ে আমরা ইফতার মাহফিল করছি যখন দেশে সাধারণ মানুষ অত্যন্ত কষ্টে দিন যাপন করছে। ইফতারের সময় ন্যূনতম যে খাদ্যদ্রব্য দরকার, সেগুলোর দাম আকাশচুম্বী যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। প্রতিটি জিনিসের দাম আজকে বেড়ে গেছে। এই দাম বাড়ার মূল কারণ হচ্ছে আওয়ামী সরকারের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি। আওয়ামী লীগের সিন্ডিকেটের কারসাজিতে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। সাধারণ মানুষের শ্বাসরুদ্ধ হয়ে আসছে। আমরা এই দুঃসহ অবস্থার অবসান চাই। এই অবস্থায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যেসব বিষয় মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে, তা নিযে আমরা আমাদের কর্মসূচি চলমান রাখবো।

অনুষ্ঠানে শুরুতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ঘুরে-ঘুরে বিভিন্ন টেবিলে গিয়ে হাত মিলান ও শিশুদের খোঁজ নেন। ইফতারে প্রায় ১৬০ জনের মতো বিভিন্ন মাদরাসাছাত্র এবং শতাধিক শিক্ষক অংশ নেয়। ২০১৮ সালে খালেদ জিয়ার কারাগারে যাওয়ার পর তার সম্মানে বিএনপির আয়োজিত প্রতিটি ইফতারে মঞ্চে একটি আসন ফাঁকা রাখা হতো। কিন্তু আজকের ইফতারে সেটি রাখা হয়নি।

ইফতারে অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার ও শায়রুল কবির খান প্রমুখ।