ঢাকা ০৩:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ৫ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রমজানের প্রথম ১০ দিনের ফজিলত

দেশের আওয়াজ ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:৫০:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ মার্চ ২০২৩ ৬৯ বার পড়া হয়েছে

মুসলমানদের গুরুত্বপূর্ণ মাসের নাম রমজান। রমজান মাসে রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মহান রাব্বুল আলামিন। একজন মুসলমানের জন্য অন্যান্য ফরজ ইবাদতের মতো রোজা রাখা আবশ্যক। ইসলামের মূল পাঁচটি ভিত্তির অন্যতম এটি।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন—‘হে ইমানদারগণ! তোমাদের প্রতি রোজা (রমজানের রোজা) ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের আগের লোকদের প্রতি ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পারো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৩)।অন্য আয়াতে ইরশাদ করেন—‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তিই এ মাস পাবে, সে যেন অবশ্যই রোজা রাখে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৫) বরকতময় এ মাসে রোজা পালনকারীর মর্যাদাই আলাদা। অন্যান্য মাসব্যাপী রোজা রাখলেও রমজান মাসের একটি রোজার সমতুল্য হবে না।

রোজা মুমিন ব্যক্তিকে যাবতীয় ত্রুটি থেকে মুক্ত রাখে। মহানবী (সা.) হাদিসে এ বিষয়ে ইরশাদ করেন। সুনানে নাসাঈ ও ইবনে খুযাইমা’র যৌথ বর্ণনায় এসেছে- ‘হজরত আবু উবায়দা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাওম (রোজা) ঢালস্বরূপ যতক্ষণ পর্যন্ত সে তা ভেঙ্গে না ফেলে, আর তা হলো- মিথ্যা ও গিবত (বলা দ্বারা)। (সুনানে নাসাঈ ২২৩৫, সহিহ ইবনে খুযাইমা ১৮৯২)।

আল্লাহর পূর্ণ আদেশ পালন, রাসুল (সা.)-এর দেখানো পথ অনুসরণের মাধ্যমে রমজান মাসের রোজাদারকে আল্লাহ তায়ালা যেভাবে সহযোগিতা করবেন, তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- ‘রমজান মাসের প্রথম ১০ দিন রহমতের, দ্বিতীয় ১০ দিন মাগফিরাত লাভের এবং তৃতীয় ১০ দিন জাহান্নাম থেকে নাজাত প্রাপ্তির।’ (কানযুল উম্মাল, ৮ম খণ্ড ৪৬৩ পৃষ্ঠা, হাদিস: ২৩৬৬৮)। হাদিস অনুযায়ী রমজান শুরু হওয়ার দিন থেকে অর্থাৎ প্রথম দশ দিনের প্রথম রোজা রাখার সাথে সাথে পেছনের সব পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

হাদিসের ভাষায়- ‘হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুজুর (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যখন কেউ রমজানের প্রথম দিন রোজা রাখে তখন তার পূর্বেকার সকল গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। এমনিভাবে রমজান মাসের সমস্ত দিন চলতে থাকে এবং প্রতি দিন তার জন্য সত্তর হাজার ফেরেশতা সকালের নামাজ থেকে শুরু করে তাদের পর্দার অন্তরালে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তার ক্ষমার জন্য দোয়া করতে থাকে।’ (কানযুল উম্মাল, ৮ম খণ্ড ৪৭১ পৃষ্ঠা, হাদিস: ২৩৭০৬)।

রোজাদার যেন একাগ্রচিত্তে মহান প্রভুর ইবাদত করতে পারেন সেজন্য রমজানের প্রথম রাতেই অর্থাৎ প্রথম দশকে শয়তানকে বন্দি করা হয়। জান্নাতের শীতল বাতাস প্রবাহের মাধ্যমে রহমত স্বরূপ রোজাদাররা প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করে কোনও রোজাই তার জন্য কষ্টসাধ্য মনে হয় না। হাদিসের ভাষায়- ‘হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন যে, রমজানের প্রথম রাতে শয়তান ও অবাধ্য জিনগুলোকে বন্দি করা হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করা হয়। কোনও দরজা খোলা রাখা হয় না। জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। কোনও দরজা বন্ধ রাখা হয় না।’ (জামে আত-তিরমিজি, হাদিস: ৬৮২)।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রমজানের প্রথম ১০ দিনের ফজিলত

আপডেট সময় : ০৭:৫০:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ মার্চ ২০২৩

মুসলমানদের গুরুত্বপূর্ণ মাসের নাম রমজান। রমজান মাসে রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মহান রাব্বুল আলামিন। একজন মুসলমানের জন্য অন্যান্য ফরজ ইবাদতের মতো রোজা রাখা আবশ্যক। ইসলামের মূল পাঁচটি ভিত্তির অন্যতম এটি।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন—‘হে ইমানদারগণ! তোমাদের প্রতি রোজা (রমজানের রোজা) ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের আগের লোকদের প্রতি ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পারো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৩)।অন্য আয়াতে ইরশাদ করেন—‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তিই এ মাস পাবে, সে যেন অবশ্যই রোজা রাখে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৫) বরকতময় এ মাসে রোজা পালনকারীর মর্যাদাই আলাদা। অন্যান্য মাসব্যাপী রোজা রাখলেও রমজান মাসের একটি রোজার সমতুল্য হবে না।

রোজা মুমিন ব্যক্তিকে যাবতীয় ত্রুটি থেকে মুক্ত রাখে। মহানবী (সা.) হাদিসে এ বিষয়ে ইরশাদ করেন। সুনানে নাসাঈ ও ইবনে খুযাইমা’র যৌথ বর্ণনায় এসেছে- ‘হজরত আবু উবায়দা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাওম (রোজা) ঢালস্বরূপ যতক্ষণ পর্যন্ত সে তা ভেঙ্গে না ফেলে, আর তা হলো- মিথ্যা ও গিবত (বলা দ্বারা)। (সুনানে নাসাঈ ২২৩৫, সহিহ ইবনে খুযাইমা ১৮৯২)।

আল্লাহর পূর্ণ আদেশ পালন, রাসুল (সা.)-এর দেখানো পথ অনুসরণের মাধ্যমে রমজান মাসের রোজাদারকে আল্লাহ তায়ালা যেভাবে সহযোগিতা করবেন, তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- ‘রমজান মাসের প্রথম ১০ দিন রহমতের, দ্বিতীয় ১০ দিন মাগফিরাত লাভের এবং তৃতীয় ১০ দিন জাহান্নাম থেকে নাজাত প্রাপ্তির।’ (কানযুল উম্মাল, ৮ম খণ্ড ৪৬৩ পৃষ্ঠা, হাদিস: ২৩৬৬৮)। হাদিস অনুযায়ী রমজান শুরু হওয়ার দিন থেকে অর্থাৎ প্রথম দশ দিনের প্রথম রোজা রাখার সাথে সাথে পেছনের সব পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

হাদিসের ভাষায়- ‘হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুজুর (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যখন কেউ রমজানের প্রথম দিন রোজা রাখে তখন তার পূর্বেকার সকল গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। এমনিভাবে রমজান মাসের সমস্ত দিন চলতে থাকে এবং প্রতি দিন তার জন্য সত্তর হাজার ফেরেশতা সকালের নামাজ থেকে শুরু করে তাদের পর্দার অন্তরালে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তার ক্ষমার জন্য দোয়া করতে থাকে।’ (কানযুল উম্মাল, ৮ম খণ্ড ৪৭১ পৃষ্ঠা, হাদিস: ২৩৭০৬)।

রোজাদার যেন একাগ্রচিত্তে মহান প্রভুর ইবাদত করতে পারেন সেজন্য রমজানের প্রথম রাতেই অর্থাৎ প্রথম দশকে শয়তানকে বন্দি করা হয়। জান্নাতের শীতল বাতাস প্রবাহের মাধ্যমে রহমত স্বরূপ রোজাদাররা প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করে কোনও রোজাই তার জন্য কষ্টসাধ্য মনে হয় না। হাদিসের ভাষায়- ‘হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন যে, রমজানের প্রথম রাতে শয়তান ও অবাধ্য জিনগুলোকে বন্দি করা হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করা হয়। কোনও দরজা খোলা রাখা হয় না। জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। কোনও দরজা বন্ধ রাখা হয় না।’ (জামে আত-তিরমিজি, হাদিস: ৬৮২)।