ঢাকা ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ৫ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভারতীয় সিরাপ খেয়েই গাম্বিয়ায় ৭০ শিশুর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় : ১০:৫৪:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ জুলাই ২০২৩ ৬৩ বার পড়া হয়েছে

গত বছর কাশির সিরাপ খেয়ে কয়েকটি শিশু মারা যায় পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ায়। সে সময় অভিযোগ উঠে ভারত থেকে আমদানি করা কাশির সিরাপে প্রাণ গেছে শিশুদের।

সেই গুরুতর অভিযোগকে সামনে রেখে তদন্তে নামে দেশটির সরকার। গঠন করা হয় এক তদন্ত কমিটি। অবশেষে গাম্বিয়ান সরকার গঠিত সেই তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, ভারতীয় কোম্পানির উৎপাদিত চারটি সিরাপ খাওয়ার পরই কিডনি বিকল হয়ে অন্তত ৭০ শিশু মারা গেছে দেশটিতে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (২১ জুলাই) এ ঘোষণা দেয় তদন্ত কমিটি। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এ ঘটনায় গাম্বিয়ার মেডিসিন কন্ট্রোল এজেন্সি (এমসিএ) এর নির্বাহী পরিচালক এবং উপ-পরিচালককে বরখাস্ত করেছে দেশটির সরকার। এ ছাড়া ওষুধগুলোর ঝুঁকি যাচাই-বাছাই না করে আমদানির অনুমতি দেওয়ায় তত্ত্বাবধানকারী ফার্মাসিস্টের ওপর দায় চাপিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ আহমাদউ লামিন সামাতেহ জানান, যে ওষুধের নিয়ন্ত্রক আমদানি পরীক্ষায় ব্যর্থতা রয়েছে।

ইতিমধ্যে গাম্বিয়ার সরকার ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক মেডেন ফার্মাসিউটিক্যালস এবং বিষাক্ত কাশির সিরাপের স্থানীয় পরিবেশকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপে অনেক অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত করতে এক মার্কিন আইন সংস্থাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে সিরাপ সেবনের পর শিশু মৃত্যুর ঘটনাটি প্রথম সামনে আসে। এরপর দেশটির সরকার কয়েকটি কাশির সিরাপ ও ঠান্ডার ওষুধ পরীক্ষার নির্দেশ দেয়। যেটির মধ্যে ছিল ভারতের মেইডেন ফার্মাসিউটিক্যালসের পণ্য। এ প্রতিষ্ঠানটিই এই ভেজাল সিরাপ তৈরি করেছিল।

পরবর্তীতে ভারতীয় সংস্থার সমস্ত পণ্য নিষিদ্ধ করে দেশটি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, ওই সিরাপগুলোতে ‘অগ্রহণযোগ্য পরিমাণ’ ডাইথেলিন গ্লাইকোল এবং ইথিলেন গ্লাইকোল মেশানো হয়েছিল। এগুলো জমাটবিরোধী পদার্থ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আর এই বিষাক্ত পণ্য কেউ পান করলে জীবনহানিকর হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভারতীয় সিরাপ খেয়েই গাম্বিয়ায় ৭০ শিশুর মৃত্যু

আপডেট সময় : ১০:৫৪:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ জুলাই ২০২৩

গত বছর কাশির সিরাপ খেয়ে কয়েকটি শিশু মারা যায় পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ায়। সে সময় অভিযোগ উঠে ভারত থেকে আমদানি করা কাশির সিরাপে প্রাণ গেছে শিশুদের।

সেই গুরুতর অভিযোগকে সামনে রেখে তদন্তে নামে দেশটির সরকার। গঠন করা হয় এক তদন্ত কমিটি। অবশেষে গাম্বিয়ান সরকার গঠিত সেই তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, ভারতীয় কোম্পানির উৎপাদিত চারটি সিরাপ খাওয়ার পরই কিডনি বিকল হয়ে অন্তত ৭০ শিশু মারা গেছে দেশটিতে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (২১ জুলাই) এ ঘোষণা দেয় তদন্ত কমিটি। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এ ঘটনায় গাম্বিয়ার মেডিসিন কন্ট্রোল এজেন্সি (এমসিএ) এর নির্বাহী পরিচালক এবং উপ-পরিচালককে বরখাস্ত করেছে দেশটির সরকার। এ ছাড়া ওষুধগুলোর ঝুঁকি যাচাই-বাছাই না করে আমদানির অনুমতি দেওয়ায় তত্ত্বাবধানকারী ফার্মাসিস্টের ওপর দায় চাপিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ আহমাদউ লামিন সামাতেহ জানান, যে ওষুধের নিয়ন্ত্রক আমদানি পরীক্ষায় ব্যর্থতা রয়েছে।

ইতিমধ্যে গাম্বিয়ার সরকার ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক মেডেন ফার্মাসিউটিক্যালস এবং বিষাক্ত কাশির সিরাপের স্থানীয় পরিবেশকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপে অনেক অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত করতে এক মার্কিন আইন সংস্থাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে সিরাপ সেবনের পর শিশু মৃত্যুর ঘটনাটি প্রথম সামনে আসে। এরপর দেশটির সরকার কয়েকটি কাশির সিরাপ ও ঠান্ডার ওষুধ পরীক্ষার নির্দেশ দেয়। যেটির মধ্যে ছিল ভারতের মেইডেন ফার্মাসিউটিক্যালসের পণ্য। এ প্রতিষ্ঠানটিই এই ভেজাল সিরাপ তৈরি করেছিল।

পরবর্তীতে ভারতীয় সংস্থার সমস্ত পণ্য নিষিদ্ধ করে দেশটি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, ওই সিরাপগুলোতে ‘অগ্রহণযোগ্য পরিমাণ’ ডাইথেলিন গ্লাইকোল এবং ইথিলেন গ্লাইকোল মেশানো হয়েছিল। এগুলো জমাটবিরোধী পদার্থ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আর এই বিষাক্ত পণ্য কেউ পান করলে জীবনহানিকর হতে পারে।