ঢাকা ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিমান হামলার সাইরেন বাজার মধ্যেই কিয়েভে বাইডেন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় : ১২:০৭:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ৮৪ বার পড়া হয়েছে

আকস্মিক সফরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার এক বছরে প্রথমবারের মতো সেখানে গেলেন বাইডেন।

সোমবার যুদ্ধ-বিধ্বস্ত ইউক্রেনে ঐতিহাসিক সফর করেন বাইডেন। লড়াইয়ে সমর্থন ও সংহতির জানাতেই এই সফর করেন বাইডেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকসহ বাইডেনের কিয়েভে আসার আগ পর্যন্ত বিষয়টি কঠোর গোপনীয়তার সঙ্গে রাখা হয়। এর আগে শুক্রবার হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তাকে সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছিলেন যে, বাইডেন ইউক্রেনে যাচ্ছে কি না? এর উত্তরে ওই কর্মকর্তা শুধু একটি শব্দ উচ্চারণ করেন। সেটি হলো ‘না’।

ইউক্রেনে রাশিয়ার ক্রমাগত বিমান হামলার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ডার-ইন-চীফ ইউক্রেন সফরের বিপদের দিকে ইঙ্গিত করেন এবং বিষয়টি অতি গোপন রাখা হয়। বাইডেন যখন কিয়েভে ছিলেন তখন বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে।

আধুনিক ইতিহাসে এটাই প্রথম যে, কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট এমন একটি যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করেছেন যেখানে কোনো সক্রিয় আমেরিকান সামরিক উপস্থিতি নেই।

এক টুইটবার্তায় স্পেক্টেটর ইনডেক্স জানিয়েছে, ভিআইপি প্রটোকলের কারণে কিয়েভের অনেকটা জায়গা লকডাউনে রাখা হয়েছে।

গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন জেলেনস্কি। সেসময় মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দিয়েছিলেন তিনি। বৈঠক করেছিলেন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সঙ্গেও।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আরও অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-১৬ এর জন্য ওয়াশিংটনকে চাপ দিচ্ছেন জেলেনস্কি। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি এড়িয়ে গেছে।

জানুয়ারিতে বাইডেন ঘোষণা করেছিলেন যে, ইউক্রেনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৩১টি আব্রামস ট্যাংক পাঠাবে। যদিও শুরুতে তিনি এই ট্যাংক পাঠানোর বিষয়ে রাজি ছিলেন না। এজন্য ইউক্রেনীয় বাহিনীকে প্রশিক্ষণও দেবে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে ইউক্রেনে সহযোগিতা করার জন্য রক্ষণশীল রিপাবলিকানদের চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন বাইডেন। তারা বিশ্বাস করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইউক্রেনকে যথেষ্ট অর্থ এবং অস্ত্র দিয়েছে। এখন একটি শান্তি চুক্তির জন্য চাপ দেওয়া উচিত।

ইউক্রেনে আমেরিকান সামরিক সহায়তার পরিমাণ প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার। তবে ধীরে ধীরে ইউক্রেনীয়দের প্রতি মার্কিনিদের সমর্থন কমছে। ২০২২ সালের মে মাসে ৬০ শতাংশ আমেরিকান ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহের পক্ষে ছিল। গত সপ্তাহে প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চ অনুসারে জানুয়ারি পর্যন্ত এই সংখ্যাটি ৪৮ শতাংশে নেমে এসেছে।

ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ পশ্চিমাদের প্রত্যাশিত সময়ের চেয়ে দীর্ঘায়িত হয়েছে। মনে করা হচ্ছিল কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহেই এই যুদ্ধ শেষ হবে। তবে শেষ পর্যন্ত তা দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে এবং এক বছর পার করে ফেলেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিমান হামলার সাইরেন বাজার মধ্যেই কিয়েভে বাইডেন

আপডেট সময় : ১২:০৭:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

আকস্মিক সফরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার এক বছরে প্রথমবারের মতো সেখানে গেলেন বাইডেন।

সোমবার যুদ্ধ-বিধ্বস্ত ইউক্রেনে ঐতিহাসিক সফর করেন বাইডেন। লড়াইয়ে সমর্থন ও সংহতির জানাতেই এই সফর করেন বাইডেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকসহ বাইডেনের কিয়েভে আসার আগ পর্যন্ত বিষয়টি কঠোর গোপনীয়তার সঙ্গে রাখা হয়। এর আগে শুক্রবার হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তাকে সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছিলেন যে, বাইডেন ইউক্রেনে যাচ্ছে কি না? এর উত্তরে ওই কর্মকর্তা শুধু একটি শব্দ উচ্চারণ করেন। সেটি হলো ‘না’।

ইউক্রেনে রাশিয়ার ক্রমাগত বিমান হামলার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ডার-ইন-চীফ ইউক্রেন সফরের বিপদের দিকে ইঙ্গিত করেন এবং বিষয়টি অতি গোপন রাখা হয়। বাইডেন যখন কিয়েভে ছিলেন তখন বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে।

আধুনিক ইতিহাসে এটাই প্রথম যে, কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট এমন একটি যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করেছেন যেখানে কোনো সক্রিয় আমেরিকান সামরিক উপস্থিতি নেই।

এক টুইটবার্তায় স্পেক্টেটর ইনডেক্স জানিয়েছে, ভিআইপি প্রটোকলের কারণে কিয়েভের অনেকটা জায়গা লকডাউনে রাখা হয়েছে।

গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন জেলেনস্কি। সেসময় মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দিয়েছিলেন তিনি। বৈঠক করেছিলেন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সঙ্গেও।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আরও অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-১৬ এর জন্য ওয়াশিংটনকে চাপ দিচ্ছেন জেলেনস্কি। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি এড়িয়ে গেছে।

জানুয়ারিতে বাইডেন ঘোষণা করেছিলেন যে, ইউক্রেনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৩১টি আব্রামস ট্যাংক পাঠাবে। যদিও শুরুতে তিনি এই ট্যাংক পাঠানোর বিষয়ে রাজি ছিলেন না। এজন্য ইউক্রেনীয় বাহিনীকে প্রশিক্ষণও দেবে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে ইউক্রেনে সহযোগিতা করার জন্য রক্ষণশীল রিপাবলিকানদের চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন বাইডেন। তারা বিশ্বাস করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইউক্রেনকে যথেষ্ট অর্থ এবং অস্ত্র দিয়েছে। এখন একটি শান্তি চুক্তির জন্য চাপ দেওয়া উচিত।

ইউক্রেনে আমেরিকান সামরিক সহায়তার পরিমাণ প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার। তবে ধীরে ধীরে ইউক্রেনীয়দের প্রতি মার্কিনিদের সমর্থন কমছে। ২০২২ সালের মে মাসে ৬০ শতাংশ আমেরিকান ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহের পক্ষে ছিল। গত সপ্তাহে প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চ অনুসারে জানুয়ারি পর্যন্ত এই সংখ্যাটি ৪৮ শতাংশে নেমে এসেছে।

ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ পশ্চিমাদের প্রত্যাশিত সময়ের চেয়ে দীর্ঘায়িত হয়েছে। মনে করা হচ্ছিল কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহেই এই যুদ্ধ শেষ হবে। তবে শেষ পর্যন্ত তা দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে এবং এক বছর পার করে ফেলেছে।