ঢাকা ০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুৎ সরবারহ বন্ধ, ভোগান্তিতে হাজী মুহাম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক//
  • আপডেট সময় : ০৭:০০:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ জুলাই ২০২৩ ৫৭ বার পড়া হয়েছে

নগরীতে কয়েকদিন ধরে বেড়েছে গরমের তীব্রতা। তীব্র গরমে অতিষ্ঠ মানুষ। এর মধ্যে বিভিন্ন স্কুল-কলেজগুলোতে ক্লাস করছেন শিক্ষার্থীরা। স্কুল-কলেজগুলোতে ফ্যান থাকলেও তাতে গরমের তীব্রতা তেমন কমেনা। ফলে এক প্রকার কষ্ট করেই ক্লাস করতে হয় শিক্ষার্থীদের। এর মধ্যে নগরীর হাজী মুহাম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রি-পেইড মিটারে টাকা রিসার্চ না করায় অটোমেটিক ভাবে বিদ্যুৎ সরবারহ বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে এ বিদ্যুৎ সরবারহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ভোগান্তীতে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তীব্র গরমে ক্লাস করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী। তবে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থর কথা স্কুল কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, আমদের ছেলেদের ভর্তির সময় টাকা তো ঠিকই নেওয়া হয়। অথচ স্কুলের প্রি-প্রেইড মিটারে টাকা থাকেনা অনেক সময়। শুধু আজকে না এর আগেও এরকম ঘটনা ঘটেছে। যদি প্রি-প্রেইড মিটারে টাকা রিচার্জ করা নিয়ে ঝামেলা হয় তাহলে প্রি-প্রেইড মিটার লাগানো কি দরকার ছিলো। গরমে যদি আমাদের সন্তানরা অসুস্থ হয়ে যায় তাহলে এর দায়ভার কে নিবে।

গতকাল সরেজমিনে দুপুর স্কুলে গিয়ে দেখা যায় স্কুলে বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা গরমের মধ্যে ক্লাস করছেন ও শিক্ষকরাও গরমের মধ্যে বাধ্য হয়ে ক্লাস নিচ্ছেন। কোন শিক্ষার্থী গরমে স্কুলের সার্ট ঘামে ভিজে গেছে। কোন কোন শিক্ষার্থী বই বা খাতা দিয়ে বাতাস করছেন।

এ ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো: মোস্তাক হাবিবের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য স্কুলে গেলে স্কুল এর শিক্ষকবৃন্দ জানান, স্কুলের কাজে তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড রাজশাহীতে গেছেন। মেবাাইলে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ না করায় প্রধান শিক্ষকের কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করলে সিনিয়র শিক্ষক (ইংরেজি) মো: মামুন উর রহমান বলেন, এটা সরকারি স্কুল। পানি, বিদ্যুৎ যাবতীয় বিল টেজারি শাখার মাধ্যমে দেওয়া হয়। আমাদের আগে এনালগ মিটার ছিলো। যার বিল দিলে আমরা টেজারি শাখায় জমা দিলে ট্রেজারি নেসকোর নামে চেক দিতো, তারা সেই চেক ক্যাশ করে নিতেন। কিন্তু নেসকো এক প্রকার জোর করে আমাদের ডিজিটাল মিটার দিয়ে গেছে। এই মিটারে আমাদের টাকা আগে রিচার্জ করতে হয়। রিচার্জ করার পর সেই ভাওচার ট্রেজারি শাখায় দিলে তারা নেসকোর নামে চেক দেন। কিন্তু নেসকো কর্তৃপক্ষতো সেই চেক ভাঙ্গিয়ে আমাদের টাকা ক্যাশ করে দিয়ে যায়না। ইতিমধ্যে প্রায় ৪০ হাজার টাকার মতো আমাদের প্রধান শিক্ষকসহ আমরা শিক্ষকরা রিসার্চ করেছি। কিন্তু এখনো সেই টাকা পায়নি। তবে আমাদের প্রধান শিক্ষক বাইরে আছেন তিনি আসলে বিকেলের মধ্যে আসলে সমাধান হতে পারে।

এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহী অঞ্চলের সহকারী পরিদর্শক মো: আসমত আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমাদের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহী অঞ্চলের উপ-পরিচালক বরাবর একটি দরখাস্ত করলে এ বিষয়টি সামাধান হবে এবং তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহী অঞ্চলের উপ-পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহী অঞ্চলের উপ-পরিচালক ড. শারমিন ফেরদৌসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি একটি মিটিং এর জন্য ঢাকায় অবস্থান করছি। স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমাদের সঙ্গে কোন প্রকার যোগাযোগ করেননি এ ব্যাপারে। তিনি কার অনুমতি নিয়ে ডিজিটাল মিটার লাগালেন, আর কেন তিনি রিসার্চ করছেন না সেই বিষয়ে কিছু বলেননি আমাদেরকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিদ্যুৎ সরবারহ বন্ধ, ভোগান্তিতে হাজী মুহাম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় : ০৭:০০:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ জুলাই ২০২৩

নগরীতে কয়েকদিন ধরে বেড়েছে গরমের তীব্রতা। তীব্র গরমে অতিষ্ঠ মানুষ। এর মধ্যে বিভিন্ন স্কুল-কলেজগুলোতে ক্লাস করছেন শিক্ষার্থীরা। স্কুল-কলেজগুলোতে ফ্যান থাকলেও তাতে গরমের তীব্রতা তেমন কমেনা। ফলে এক প্রকার কষ্ট করেই ক্লাস করতে হয় শিক্ষার্থীদের। এর মধ্যে নগরীর হাজী মুহাম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রি-পেইড মিটারে টাকা রিসার্চ না করায় অটোমেটিক ভাবে বিদ্যুৎ সরবারহ বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে এ বিদ্যুৎ সরবারহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ভোগান্তীতে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তীব্র গরমে ক্লাস করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী। তবে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থর কথা স্কুল কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, আমদের ছেলেদের ভর্তির সময় টাকা তো ঠিকই নেওয়া হয়। অথচ স্কুলের প্রি-প্রেইড মিটারে টাকা থাকেনা অনেক সময়। শুধু আজকে না এর আগেও এরকম ঘটনা ঘটেছে। যদি প্রি-প্রেইড মিটারে টাকা রিচার্জ করা নিয়ে ঝামেলা হয় তাহলে প্রি-প্রেইড মিটার লাগানো কি দরকার ছিলো। গরমে যদি আমাদের সন্তানরা অসুস্থ হয়ে যায় তাহলে এর দায়ভার কে নিবে।

গতকাল সরেজমিনে দুপুর স্কুলে গিয়ে দেখা যায় স্কুলে বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা গরমের মধ্যে ক্লাস করছেন ও শিক্ষকরাও গরমের মধ্যে বাধ্য হয়ে ক্লাস নিচ্ছেন। কোন শিক্ষার্থী গরমে স্কুলের সার্ট ঘামে ভিজে গেছে। কোন কোন শিক্ষার্থী বই বা খাতা দিয়ে বাতাস করছেন।

এ ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো: মোস্তাক হাবিবের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য স্কুলে গেলে স্কুল এর শিক্ষকবৃন্দ জানান, স্কুলের কাজে তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড রাজশাহীতে গেছেন। মেবাাইলে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ না করায় প্রধান শিক্ষকের কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করলে সিনিয়র শিক্ষক (ইংরেজি) মো: মামুন উর রহমান বলেন, এটা সরকারি স্কুল। পানি, বিদ্যুৎ যাবতীয় বিল টেজারি শাখার মাধ্যমে দেওয়া হয়। আমাদের আগে এনালগ মিটার ছিলো। যার বিল দিলে আমরা টেজারি শাখায় জমা দিলে ট্রেজারি নেসকোর নামে চেক দিতো, তারা সেই চেক ক্যাশ করে নিতেন। কিন্তু নেসকো এক প্রকার জোর করে আমাদের ডিজিটাল মিটার দিয়ে গেছে। এই মিটারে আমাদের টাকা আগে রিচার্জ করতে হয়। রিচার্জ করার পর সেই ভাওচার ট্রেজারি শাখায় দিলে তারা নেসকোর নামে চেক দেন। কিন্তু নেসকো কর্তৃপক্ষতো সেই চেক ভাঙ্গিয়ে আমাদের টাকা ক্যাশ করে দিয়ে যায়না। ইতিমধ্যে প্রায় ৪০ হাজার টাকার মতো আমাদের প্রধান শিক্ষকসহ আমরা শিক্ষকরা রিসার্চ করেছি। কিন্তু এখনো সেই টাকা পায়নি। তবে আমাদের প্রধান শিক্ষক বাইরে আছেন তিনি আসলে বিকেলের মধ্যে আসলে সমাধান হতে পারে।

এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহী অঞ্চলের সহকারী পরিদর্শক মো: আসমত আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমাদের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহী অঞ্চলের উপ-পরিচালক বরাবর একটি দরখাস্ত করলে এ বিষয়টি সামাধান হবে এবং তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহী অঞ্চলের উপ-পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহী অঞ্চলের উপ-পরিচালক ড. শারমিন ফেরদৌসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি একটি মিটিং এর জন্য ঢাকায় অবস্থান করছি। স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমাদের সঙ্গে কোন প্রকার যোগাযোগ করেননি এ ব্যাপারে। তিনি কার অনুমতি নিয়ে ডিজিটাল মিটার লাগালেন, আর কেন তিনি রিসার্চ করছেন না সেই বিষয়ে কিছু বলেননি আমাদেরকে।