ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বাগমারায় ইট ভাটায় পুড়ছে কাঠ, হুমকির মুখে পরিবেশ ও ফসলী জমি

নাজিম হাসান, নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ০৯:৪১:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ২৬ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীর বাগমারায় বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে ব্যাঙ্গের ছাতার মতো নির্মাণ করা হয়েছে অবৈধ ইট ভাটা। বছরের পর বছর ধরে অবৈধ ইট ভাটার কার্যক্রম পরিচালিত হলেও অদৃশ্য কারণে তাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেনা প্রশাসন।

২০১৩ সালের সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী ড্রাম চিমনী ইট ভাটা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারপরও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ১৭টি অবৈধ ড্রাম চিমনী ইট ভাটা চলমান রয়েছে। ওই সকল ইট ভাটায় পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে দিব্যি পুড়ানো হচ্ছে কাঠ। ফলে ওই সকল ড্রাম চিমনী ইট ভাটার জন্য বাধ্য হয়ে কাঠ সংগ্রহ করতে হচ্ছে ভাটা মালিকদের। অভিযোগ রয়েছে সরকারি রাস্তার গাছ কেটে কয়েকটি সংঘবদ্ধ চক্র এসব ভাটায় কাঠ সরবরাহ করছে। ভাটা মালিকদের সাথে সরকারি রাস্তার গাছ কাটা চক্রের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। সেই সাথে বসতবাড়ির আশপাশে ড্রাম চিমনী ইট ভাটা নির্মাণ করায় জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ পড়েছে হুমকীর মুখে পড়েছে। এ সকল ড্রাম চিমনী ইট ভাটার মালিকরা সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে চালিয়ে যাচ্ছে সরকার নিষিদ্ধ ইট ভাটা। স্থানীয় জনসাধারণ অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা ড্রাম চিমনী ইট ভাটার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত করলেও রহস্যজনক কারণে তা বন্ধ করা হয়নি। এ নিয়ে জনগণের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অনেকেই বলেন, অবৈধ ড্রাম চিমনী ইট ভাটার কারণে পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় দিন দিন বেড়ে চলেছে বিভিন্ন প্রকার রোগব্যাধি। সেই সাথে ফলজ গাছে দেখা যাচ্ছে না ফল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ১৭টি ড্রাম চিমনী ইট ভাটার কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। সরকারি নিয়ম ভেঙ্গে এ সকল ইট ভাটা পরিচালনা করা হলেও আইনগত ভাবে তাদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান না করে ওই সকল ইট ভাটা পরিচালনা করতে সহযোগীতা করছে স্থানীয় প্রশাসন। অবৈধ ইট ভাটাগুলোর মধ্যে গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নে খোরশেদ আলমের বিআরবি ব্রিক্স, সাইফুল ইসলামের এএনএএম ব্রিক্স, আফসার আলীর এসটিএআর ব্রিক্স, বাবুল হোসেনের এআরআইএফ ব্রিক্স, শহিদুল ইসলামের এমআইএসজি ব্রিক্স, নরদাশ ইউনিয়নের আব্দুস সামাদ প্রাং এর এমআরএবি ব্রিক্স, একই ইউনিয়নের আবুল কাশেমের ২০২২ ব্রিক্স জয়পুর, শফিকুল ইসলামের এমএস-২ ব্রিক্স, কাউসার হাবিব এর মনির ব্রিক্স, মঞ্জুর রহমানের মমেনা ব্রিক্স, জাহিদুল ইসলামের কেজেএ ব্রিক্স, দ্বীপপুর ইউনিয়নের সোহরাব হোসেন তোতার এমএমবি ব্রিক্স, আউচপাড়া ইউনিয়নের দুলাল হোসেনের এসটিবি ব্রিক্স, একই ইউনিয়নের জিএম হাফিজুর ইসলামের একতা ব্রিক্স, আনছার আলীর এমএসবি ব্রিক্স, বাসুপাড়া ইউনিয়নের রেজাউল হকের এমএবি ব্রিক্স, শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের কালাম হোসেনের রুমা ব্রিক্স।

সরেজমিনে ওই সকল ড্রাম চিমনী ইট ভাটায় দিয়ে দেখা গেছে, ব্যক্তি মালিকানা ইট ভাটার পাশাপাশি সরকারী রাস্তার বিভিন্ন গাছপালা কেটে পুড়ানো হচ্ছে। এ ব্যাপারেও অভিযোগ করা হলে প্রশাসন কোন ভূমিকা নিচ্ছেনা। ফলে দিনের পর দিন ওই সকল ইট ভাটার মালিকরা বেপরোয়া ভাবে তাদের অবৈধ ইট ভাটার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে জনমনে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে পরিবেশ ও মানুষের ক্ষতিকারী অবৈধ ড্রাম চিমনী ইট ভাটা উচ্ছেদের জন্য দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় জনসাধারণ।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উজ্জল হোসেন বলেন, আমরা অবৈধ ড্রাম চিমনী ইট ভাটার তালিকা তৈরি করছি। কোনভাবেই পরিবেশ ও ফসলের ক্ষতিকারক কিছু করতে দেয়া হবে না। জরুরী ভাবে অবৈধ ইট ভাটাগুলোতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত করা হবে। সরকারী আইন অমান্য করে কোন ইট ভাটা নির্মাণ করা যাবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাগমারায় ইট ভাটায় পুড়ছে কাঠ, হুমকির মুখে পরিবেশ ও ফসলী জমি

আপডেট সময় : ০৯:৪১:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

রাজশাহীর বাগমারায় বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে ব্যাঙ্গের ছাতার মতো নির্মাণ করা হয়েছে অবৈধ ইট ভাটা। বছরের পর বছর ধরে অবৈধ ইট ভাটার কার্যক্রম পরিচালিত হলেও অদৃশ্য কারণে তাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেনা প্রশাসন।

২০১৩ সালের সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী ড্রাম চিমনী ইট ভাটা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারপরও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ১৭টি অবৈধ ড্রাম চিমনী ইট ভাটা চলমান রয়েছে। ওই সকল ইট ভাটায় পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে দিব্যি পুড়ানো হচ্ছে কাঠ। ফলে ওই সকল ড্রাম চিমনী ইট ভাটার জন্য বাধ্য হয়ে কাঠ সংগ্রহ করতে হচ্ছে ভাটা মালিকদের। অভিযোগ রয়েছে সরকারি রাস্তার গাছ কেটে কয়েকটি সংঘবদ্ধ চক্র এসব ভাটায় কাঠ সরবরাহ করছে। ভাটা মালিকদের সাথে সরকারি রাস্তার গাছ কাটা চক্রের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। সেই সাথে বসতবাড়ির আশপাশে ড্রাম চিমনী ইট ভাটা নির্মাণ করায় জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ পড়েছে হুমকীর মুখে পড়েছে। এ সকল ড্রাম চিমনী ইট ভাটার মালিকরা সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে চালিয়ে যাচ্ছে সরকার নিষিদ্ধ ইট ভাটা। স্থানীয় জনসাধারণ অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা ড্রাম চিমনী ইট ভাটার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত করলেও রহস্যজনক কারণে তা বন্ধ করা হয়নি। এ নিয়ে জনগণের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অনেকেই বলেন, অবৈধ ড্রাম চিমনী ইট ভাটার কারণে পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় দিন দিন বেড়ে চলেছে বিভিন্ন প্রকার রোগব্যাধি। সেই সাথে ফলজ গাছে দেখা যাচ্ছে না ফল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ১৭টি ড্রাম চিমনী ইট ভাটার কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। সরকারি নিয়ম ভেঙ্গে এ সকল ইট ভাটা পরিচালনা করা হলেও আইনগত ভাবে তাদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান না করে ওই সকল ইট ভাটা পরিচালনা করতে সহযোগীতা করছে স্থানীয় প্রশাসন। অবৈধ ইট ভাটাগুলোর মধ্যে গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নে খোরশেদ আলমের বিআরবি ব্রিক্স, সাইফুল ইসলামের এএনএএম ব্রিক্স, আফসার আলীর এসটিএআর ব্রিক্স, বাবুল হোসেনের এআরআইএফ ব্রিক্স, শহিদুল ইসলামের এমআইএসজি ব্রিক্স, নরদাশ ইউনিয়নের আব্দুস সামাদ প্রাং এর এমআরএবি ব্রিক্স, একই ইউনিয়নের আবুল কাশেমের ২০২২ ব্রিক্স জয়পুর, শফিকুল ইসলামের এমএস-২ ব্রিক্স, কাউসার হাবিব এর মনির ব্রিক্স, মঞ্জুর রহমানের মমেনা ব্রিক্স, জাহিদুল ইসলামের কেজেএ ব্রিক্স, দ্বীপপুর ইউনিয়নের সোহরাব হোসেন তোতার এমএমবি ব্রিক্স, আউচপাড়া ইউনিয়নের দুলাল হোসেনের এসটিবি ব্রিক্স, একই ইউনিয়নের জিএম হাফিজুর ইসলামের একতা ব্রিক্স, আনছার আলীর এমএসবি ব্রিক্স, বাসুপাড়া ইউনিয়নের রেজাউল হকের এমএবি ব্রিক্স, শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের কালাম হোসেনের রুমা ব্রিক্স।

সরেজমিনে ওই সকল ড্রাম চিমনী ইট ভাটায় দিয়ে দেখা গেছে, ব্যক্তি মালিকানা ইট ভাটার পাশাপাশি সরকারী রাস্তার বিভিন্ন গাছপালা কেটে পুড়ানো হচ্ছে। এ ব্যাপারেও অভিযোগ করা হলে প্রশাসন কোন ভূমিকা নিচ্ছেনা। ফলে দিনের পর দিন ওই সকল ইট ভাটার মালিকরা বেপরোয়া ভাবে তাদের অবৈধ ইট ভাটার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে জনমনে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে পরিবেশ ও মানুষের ক্ষতিকারী অবৈধ ড্রাম চিমনী ইট ভাটা উচ্ছেদের জন্য দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় জনসাধারণ।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উজ্জল হোসেন বলেন, আমরা অবৈধ ড্রাম চিমনী ইট ভাটার তালিকা তৈরি করছি। কোনভাবেই পরিবেশ ও ফসলের ক্ষতিকারক কিছু করতে দেয়া হবে না। জরুরী ভাবে অবৈধ ইট ভাটাগুলোতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত করা হবে। সরকারী আইন অমান্য করে কোন ইট ভাটা নির্মাণ করা যাবে না।