ঢাকা ১২:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশি কিশোরকে ধরে অমানবিক নির্যাতন, বিএসএফের দুঃখ প্রকাশ

দেশের আওয়াজ ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:৪২:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ মে ২০২৩ ৫৩ বার পড়া হয়েছে

ফেনীর পরশুরামে মো. ইউনুস হোসেন অন্তর (১৫) নামে বাংলাদেশি এক কিশোরকে সীমান্তে ঢুকে ধরে নিয়ে চার ঘণ্টা আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে। পরে তাকে আহত অবস্থায় সীমান্তে ফেলে গেলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
নির্যাতনের শিকার কিশোর মো. ইউনুস হোসেন অন্তর পরশুরাম পৌর এলাকার উত্তর বাউরখুমা গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে।

এ ঘটনায় বুধবার (১০ মে) বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বিএসএফের পক্ষ থেকে এ ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এমন ঘটনার আর ঘটবে না বলে বিএসএফের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজিবি ৪ ব্যাটালিয়ন ফেনীর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রকিব হাসান।

কিশোর ইউনুসের মা আকলিমা আক্তার বলেন, ‘গত মঙ্গলবার দুপুরে তার ছেলে ইউনুস ছাগল চরাতে ভারত সীমান্তবর্তী ২৬১ নম্বর পিলারসংলগ্ন এলাকায় যায়। এ সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ভারতের কাঁটাতারের গেট দিয়ে বাংলাদেশের অংশে প্রবেশ করে ইউনুসকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তার হাত-পা বেঁধে লাঠি ও বন্দুকের বাঁট দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটায়। এতে কিশোর ইউনুসের একটি হাত ভেঙে যায়। নির্মম নির্যাতনে তার শরীরে, পিঠে ও পায়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। আঘাত করে ইউনুসের দুই হাতের আঙুল থেঁতলে দিয়েছে। একপর্যায়ে বিএসএফ তাকে মৃত ভেবে ফেলে চলে যায়।’

নির্যাতনের শিকার আহত ইউনুস বলেন, ‘বিএসএফের কয়েকজন আমাকে ধরে নিয়ে কোনো কিছু জিজ্ঞেস না করে চার-পাঁচজন সদস্য লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ডান হাত ভেঙে দেয়। একপর্যায়ে শার্ট-প্যান্ট খুলে বন্দুকের বাঁট দিয়ে আমাকে নির্মমভাবে পেটাতে থাকে।’

স্থানীয় কৃষক হারুন মজুমদার বলেন, ঘটনার সময় তিনি ওই স্থানে ধান কাটছিলেন। এ সময় চার-পাঁজজন বিএসএফ সদস্য বাংলাদেশের অংশে ঢুকে ইউনুসকে ধরে ফেলে এবং লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় ইউনুসের চিৎকার শুনে তাকে উদ্ধারের জন্য এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিএসএফ গুলি করবে বলে হুমকি দেয়ায় তিনিসহ বাংলাদেশি একাধিক কৃষকেরা পিছু হটেন।

স্থানীয় একাধিক কৃষকের বরাত দিয়ে পরশুরাম পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর খোরশেদ আলম বলেন, বিএসএফ জোয়ানরা কিশোর ইউনুসকে চার ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতনের পর ওইদিন বিকেলে বাংলাদেশের অংশে ফেলে রেখে চলে যায়। এ সময় গ্রামের লোকজন তাকে উদ্ধার করে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যায়। আহত ইউনুসের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৪ ব্যাটালিয়ন ফেনী’র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রকিব হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশি কিশোর নির্যাতনের বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত। এ জন্য তারা দুঃখ প্রকাশ করেছে। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলাদেশি কিশোরকে ধরে অমানবিক নির্যাতন, বিএসএফের দুঃখ প্রকাশ

আপডেট সময় : ০৮:৪২:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ মে ২০২৩

ফেনীর পরশুরামে মো. ইউনুস হোসেন অন্তর (১৫) নামে বাংলাদেশি এক কিশোরকে সীমান্তে ঢুকে ধরে নিয়ে চার ঘণ্টা আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে। পরে তাকে আহত অবস্থায় সীমান্তে ফেলে গেলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
নির্যাতনের শিকার কিশোর মো. ইউনুস হোসেন অন্তর পরশুরাম পৌর এলাকার উত্তর বাউরখুমা গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে।

এ ঘটনায় বুধবার (১০ মে) বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বিএসএফের পক্ষ থেকে এ ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এমন ঘটনার আর ঘটবে না বলে বিএসএফের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজিবি ৪ ব্যাটালিয়ন ফেনীর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রকিব হাসান।

কিশোর ইউনুসের মা আকলিমা আক্তার বলেন, ‘গত মঙ্গলবার দুপুরে তার ছেলে ইউনুস ছাগল চরাতে ভারত সীমান্তবর্তী ২৬১ নম্বর পিলারসংলগ্ন এলাকায় যায়। এ সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ভারতের কাঁটাতারের গেট দিয়ে বাংলাদেশের অংশে প্রবেশ করে ইউনুসকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তার হাত-পা বেঁধে লাঠি ও বন্দুকের বাঁট দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটায়। এতে কিশোর ইউনুসের একটি হাত ভেঙে যায়। নির্মম নির্যাতনে তার শরীরে, পিঠে ও পায়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। আঘাত করে ইউনুসের দুই হাতের আঙুল থেঁতলে দিয়েছে। একপর্যায়ে বিএসএফ তাকে মৃত ভেবে ফেলে চলে যায়।’

নির্যাতনের শিকার আহত ইউনুস বলেন, ‘বিএসএফের কয়েকজন আমাকে ধরে নিয়ে কোনো কিছু জিজ্ঞেস না করে চার-পাঁচজন সদস্য লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ডান হাত ভেঙে দেয়। একপর্যায়ে শার্ট-প্যান্ট খুলে বন্দুকের বাঁট দিয়ে আমাকে নির্মমভাবে পেটাতে থাকে।’

স্থানীয় কৃষক হারুন মজুমদার বলেন, ঘটনার সময় তিনি ওই স্থানে ধান কাটছিলেন। এ সময় চার-পাঁজজন বিএসএফ সদস্য বাংলাদেশের অংশে ঢুকে ইউনুসকে ধরে ফেলে এবং লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় ইউনুসের চিৎকার শুনে তাকে উদ্ধারের জন্য এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিএসএফ গুলি করবে বলে হুমকি দেয়ায় তিনিসহ বাংলাদেশি একাধিক কৃষকেরা পিছু হটেন।

স্থানীয় একাধিক কৃষকের বরাত দিয়ে পরশুরাম পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর খোরশেদ আলম বলেন, বিএসএফ জোয়ানরা কিশোর ইউনুসকে চার ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতনের পর ওইদিন বিকেলে বাংলাদেশের অংশে ফেলে রেখে চলে যায়। এ সময় গ্রামের লোকজন তাকে উদ্ধার করে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যায়। আহত ইউনুসের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৪ ব্যাটালিয়ন ফেনী’র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রকিব হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশি কিশোর নির্যাতনের বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত। এ জন্য তারা দুঃখ প্রকাশ করেছে। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।