ঢাকা ১২:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বরেন্দ্র অঞ্চলে গ্রীন চেরি ফলের চাষ

সেলিম সানোয়ার পলাশ
  • আপডেট সময় : ০৫:৩২:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জুন ২০২৩ ১৮৩ বার পড়া হয়েছে

ফলটির রং সবুজ, দেখতে বাঙ্গীর মত, গাছের পাতা অনেকটা রক মেলন এর মত, ফলটি খেতে খুবই সুস্বাদু মিষ্টি। ফলটির নাম গ্রীন চেরি। বরেন্দ্র অঞ্চল রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে গ্রীন চেরির চাষ হয়েছে। উপজেলার গোলাই এলাকাই এ গ্রীন চেরির চাষ করে কৃষক আবেদ আলী। গ্রীন চেরি বাঙ্গী,তরমুজ, রকমেলন গোত্রের উদ্ভিদ। ফলটি খুবই সুস্বাদু পুষ্টিকর ও এনটি- অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। শরীরে পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের ব্যালেন্স তৈরীতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। শরীরের ওজন কমাতে সহায়তা করে। খোশা সহ ফলের সম্পূর্ন অংশ খাওয়া যায়।
আবেদ আলী মালচিং পদ্ধতিতে ৪০ টি গ্রীন চেরি ফলের গাছ লাগিয়েছে। গাছে এখন তার ফল ঝুলছে। দুর দুরান্ত থেকে এ ফল দেখতে আসছে অনেক কৃষক। তার এ গ্রীন চেরি ফল দেখে অনেক কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে এ ফল চাষের জন্য।
গ্রীন চেরি ফলটি সারা বছর চাষ করা যায়। তবে শীতকালে ফেব্রুয়ারীর মাঝামাঝি ( ফ্লাগুনের ১ ম সপ্তাহে) বপন করলে ভাল ফলন পাওয়া যায়। বপনের ২০ থেকে ২৫ দিনের মাথায় ফুল আসে। ৪০-৪৫ দিনের মাথায় ফল ধরে। ৭০-৭৫ দিনে ফল সংগ্রহ করা যায়। ফলের গড় ওজন ৭৫০ গ্রাম থেকে ১ কেজি পর্যন্ত হয়। এটি গাছে ১৫-২০ টি ফল ধরে।


কথা হয় কৃষক আবেদ আলীর সাথে। সে বলে এ অঞ্চলে আমি প্রথম এ গ্রীন চেরি ফলের চাষ করি। গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার অতনু সরকার আমাকে এ ফল চাষ করার জন্য আগ্রহী করে তোলে। সেই আমাকে গ্রীন চেরি ফলরে বীজ সংগ্রহ করে দেয়। এবারই প্রথম ৪০ টি গাছ লাগিয়েছি। গাছে ফল এসেছে। অনেকে আমার এ ফল চাষ দেকেতে আসছে। আমার দেখে অনেকে এ ফল চাষ করবে বলে আমাকে জানিয়েছে। এ ফল মাটিতে ও মাছায় চাষ করা যায়। আমি মাছায় চাষ করেছি। প্রতিটি গাছে ১৫ থেকে ২০ টি করে ফল এসেছে। একটি ফলের ওজন ৬শ’ গ্রাম থেকে ৮শ’ গ্রাম পর্যন্ত হয়েছে। ফলটি খেতে খুবই সুস্বাদ ও মিষ্টি। তরমুজ ফলের চাইতে মিষ্টি। খেতে খচখচে ভাব, তরনুজের মত নরম নয়। খোশা সহ ফলের সম্পূর্ন অংশ খাওয়া যায়। ফলটি ভিতর বাহির সবুজ। ফলটি কাটলে ভিতরে বীজের চারিপার্শে হালকা হলুদ। কৃষক আবেদ আলী আরো বলেন, আগামীতে সে ১ বিঘা জমিতে গ্রীন চেরি চাষ করবে।
আবেদ আলীর জমিতে চাষ করা গ্রীন চেরি ফল দেখতে আসা কৃষক মনিরুজ্জামান মনির বলেন, এটা মেলন জাতের ফল। এর আগে আমি রক মেলন এর চাষ করে ছিলাল। তাই গ্রীন চেরি ফলটি দেখতে এসেছি। অল্প পরিসারে চাষ করবো। যদি বাজার জাত করা যায় তাহলে ব্যাপক ভাবে এই ফল চাষ করবো।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার অতনু সরকার বলেন, এই ফলটি রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলে চাষের জন্যে উপযোগী। ফলটি শীতকালে মাটিতে ও গ্রীষ্মকালে মাচায় চাষ করলে ভাল ফলন পাওয়া যায়। এ ফল চাষে কৃষকেরা লাভবান হবে। কৃষি অফিস কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। আগামীতে এ অঞ্চলে গ্রীন চেরি ফল চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বরেন্দ্র অঞ্চলে গ্রীন চেরি ফলের চাষ

আপডেট সময় : ০৫:৩২:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জুন ২০২৩

ফলটির রং সবুজ, দেখতে বাঙ্গীর মত, গাছের পাতা অনেকটা রক মেলন এর মত, ফলটি খেতে খুবই সুস্বাদু মিষ্টি। ফলটির নাম গ্রীন চেরি। বরেন্দ্র অঞ্চল রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে গ্রীন চেরির চাষ হয়েছে। উপজেলার গোলাই এলাকাই এ গ্রীন চেরির চাষ করে কৃষক আবেদ আলী। গ্রীন চেরি বাঙ্গী,তরমুজ, রকমেলন গোত্রের উদ্ভিদ। ফলটি খুবই সুস্বাদু পুষ্টিকর ও এনটি- অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। শরীরে পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের ব্যালেন্স তৈরীতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। শরীরের ওজন কমাতে সহায়তা করে। খোশা সহ ফলের সম্পূর্ন অংশ খাওয়া যায়।
আবেদ আলী মালচিং পদ্ধতিতে ৪০ টি গ্রীন চেরি ফলের গাছ লাগিয়েছে। গাছে এখন তার ফল ঝুলছে। দুর দুরান্ত থেকে এ ফল দেখতে আসছে অনেক কৃষক। তার এ গ্রীন চেরি ফল দেখে অনেক কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে এ ফল চাষের জন্য।
গ্রীন চেরি ফলটি সারা বছর চাষ করা যায়। তবে শীতকালে ফেব্রুয়ারীর মাঝামাঝি ( ফ্লাগুনের ১ ম সপ্তাহে) বপন করলে ভাল ফলন পাওয়া যায়। বপনের ২০ থেকে ২৫ দিনের মাথায় ফুল আসে। ৪০-৪৫ দিনের মাথায় ফল ধরে। ৭০-৭৫ দিনে ফল সংগ্রহ করা যায়। ফলের গড় ওজন ৭৫০ গ্রাম থেকে ১ কেজি পর্যন্ত হয়। এটি গাছে ১৫-২০ টি ফল ধরে।


কথা হয় কৃষক আবেদ আলীর সাথে। সে বলে এ অঞ্চলে আমি প্রথম এ গ্রীন চেরি ফলের চাষ করি। গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার অতনু সরকার আমাকে এ ফল চাষ করার জন্য আগ্রহী করে তোলে। সেই আমাকে গ্রীন চেরি ফলরে বীজ সংগ্রহ করে দেয়। এবারই প্রথম ৪০ টি গাছ লাগিয়েছি। গাছে ফল এসেছে। অনেকে আমার এ ফল চাষ দেকেতে আসছে। আমার দেখে অনেকে এ ফল চাষ করবে বলে আমাকে জানিয়েছে। এ ফল মাটিতে ও মাছায় চাষ করা যায়। আমি মাছায় চাষ করেছি। প্রতিটি গাছে ১৫ থেকে ২০ টি করে ফল এসেছে। একটি ফলের ওজন ৬শ’ গ্রাম থেকে ৮শ’ গ্রাম পর্যন্ত হয়েছে। ফলটি খেতে খুবই সুস্বাদ ও মিষ্টি। তরমুজ ফলের চাইতে মিষ্টি। খেতে খচখচে ভাব, তরনুজের মত নরম নয়। খোশা সহ ফলের সম্পূর্ন অংশ খাওয়া যায়। ফলটি ভিতর বাহির সবুজ। ফলটি কাটলে ভিতরে বীজের চারিপার্শে হালকা হলুদ। কৃষক আবেদ আলী আরো বলেন, আগামীতে সে ১ বিঘা জমিতে গ্রীন চেরি চাষ করবে।
আবেদ আলীর জমিতে চাষ করা গ্রীন চেরি ফল দেখতে আসা কৃষক মনিরুজ্জামান মনির বলেন, এটা মেলন জাতের ফল। এর আগে আমি রক মেলন এর চাষ করে ছিলাল। তাই গ্রীন চেরি ফলটি দেখতে এসেছি। অল্প পরিসারে চাষ করবো। যদি বাজার জাত করা যায় তাহলে ব্যাপক ভাবে এই ফল চাষ করবো।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার অতনু সরকার বলেন, এই ফলটি রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলে চাষের জন্যে উপযোগী। ফলটি শীতকালে মাটিতে ও গ্রীষ্মকালে মাচায় চাষ করলে ভাল ফলন পাওয়া যায়। এ ফল চাষে কৃষকেরা লাভবান হবে। কৃষি অফিস কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। আগামীতে এ অঞ্চলে গ্রীন চেরি ফল চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।