ঢাকা ০১:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বগুড়ার ঐতিহ্যবাহি আকবরিয়াতেই পচাবাসি খাবার, তিন লাখ জরিমানা

বগুড়া প্রতিবেদকঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৮:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৩ ৮৪ বার পড়া হয়েছে

আগের দিনের মিষ্টি-মাখন বিক্রি ও সংরক্ষণ, মেয়াদোত্তীর্ণ রসমালাই বিক্রি, পরিষ্কার-অপরিচ্ছন্নতা, নোংরা ফ্রিজিং ব্যবস্থা, অপরিচ্ছন্ন খাবার সংরক্ষণ রুম থাকার অভিযোগে বগুড়ার ঐতিহ্যবাহি আকবরিয়া গ্র্যান্ড হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বগুড়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইফতেখারুল আলম ও বগুড়া জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. রাসেল এ যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন। শহরের থানা মোড় এলাকায় বগুড়ার আকবরিয়া গ্র্যান্ড হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টএ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ইফতেখারুল ইসলাম রিজভী জানান, বিভিন্ন সময়ে ভোক্তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আকবরিয়া গ্রান্ড হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পুরো প্রতিষ্ঠানে অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্নতা দেখা যায়।

এছাড়া ফ্রিজিং ব্যবস্থা নোংরা অবস্থায়। খাবার সংরক্ষণ কক্ষটি অপরিচ্ছন্ন, একই সঙ্গে বাসি মিষ্টি ও মাখন বিক্রি ও সংরক্ষণ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ রসমলাই বিক্রি করতে দেখা যায়। এ কারণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন আইন,২০০৯ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তারা তাৎক্ষণিক এই টাকা পরিশোধ করেন। এ সময় তাদের হোটেল ব্যবস্থাপনা উন্নত করার জন্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে তাদের। পরবর্তীতে এমন ভুল পেলে হোটেল সিলগালা করা হবে ওই কর্মকর্তা জানান।

আভিযানিক দলটি জানায়, আকবরিয়া হোটেলে অন্তত পাঁচশ নিয়মিত কর্মচারি রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে হোটেলটির কর্মচারিদের নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল। এ ছাড়াও প্রতি প্রশিক্ষণে আকবরিয়া হোটেলের কয়েকজন করে প্রতিনিধি রাখা হয়। তারপরেও তাদের মধ্যে অসচেতনতা রয়েই গেছে।

এ সময় আকবরিয়া হোটেলের হেড অব সেলস মো. রমজান জানান, আমাদের চেয়ারম্যান হোটেলের মান নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আমাদের কাছেও ভোক্তাদের অভিযোগ আসে। সেগুলো গুরুত্ব সহকারে দেখার চেষ্টা করি। কিন্তু এখানে অনেক কর্মচারি থাকায় অনেক সময় ভুল-ত্রুটি হয়ে যায়। যৌথ এ অভিযানে জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও জেলা পুলিশের সদস্যরা সহযোগীতা করেন।

তাছাড়া গত জানুয়ারিতে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও মান নিয়ন্ত্রণ রাখার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিলেও কার্যত কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রশিক্ষণের তিন মাসের মাথায় মেয়াদহীন, পচা-বাসি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ খাবার তৈরি-সংরক্ষণসহ তাও আবার বগুড়ার আকবরিয়া গ্র্যান্ড হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের মত প্রতিষ্ঠান সত্যি ভাবিয়ে তুলছে সচেতনমহলদের।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বগুড়ার ঐতিহ্যবাহি আকবরিয়াতেই পচাবাসি খাবার, তিন লাখ জরিমানা

আপডেট সময় : ০৪:৪৮:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৩

আগের দিনের মিষ্টি-মাখন বিক্রি ও সংরক্ষণ, মেয়াদোত্তীর্ণ রসমালাই বিক্রি, পরিষ্কার-অপরিচ্ছন্নতা, নোংরা ফ্রিজিং ব্যবস্থা, অপরিচ্ছন্ন খাবার সংরক্ষণ রুম থাকার অভিযোগে বগুড়ার ঐতিহ্যবাহি আকবরিয়া গ্র্যান্ড হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বগুড়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইফতেখারুল আলম ও বগুড়া জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. রাসেল এ যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন। শহরের থানা মোড় এলাকায় বগুড়ার আকবরিয়া গ্র্যান্ড হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টএ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ইফতেখারুল ইসলাম রিজভী জানান, বিভিন্ন সময়ে ভোক্তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আকবরিয়া গ্রান্ড হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পুরো প্রতিষ্ঠানে অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্নতা দেখা যায়।

এছাড়া ফ্রিজিং ব্যবস্থা নোংরা অবস্থায়। খাবার সংরক্ষণ কক্ষটি অপরিচ্ছন্ন, একই সঙ্গে বাসি মিষ্টি ও মাখন বিক্রি ও সংরক্ষণ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ রসমলাই বিক্রি করতে দেখা যায়। এ কারণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন আইন,২০০৯ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তারা তাৎক্ষণিক এই টাকা পরিশোধ করেন। এ সময় তাদের হোটেল ব্যবস্থাপনা উন্নত করার জন্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে তাদের। পরবর্তীতে এমন ভুল পেলে হোটেল সিলগালা করা হবে ওই কর্মকর্তা জানান।

আভিযানিক দলটি জানায়, আকবরিয়া হোটেলে অন্তত পাঁচশ নিয়মিত কর্মচারি রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে হোটেলটির কর্মচারিদের নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল। এ ছাড়াও প্রতি প্রশিক্ষণে আকবরিয়া হোটেলের কয়েকজন করে প্রতিনিধি রাখা হয়। তারপরেও তাদের মধ্যে অসচেতনতা রয়েই গেছে।

এ সময় আকবরিয়া হোটেলের হেড অব সেলস মো. রমজান জানান, আমাদের চেয়ারম্যান হোটেলের মান নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আমাদের কাছেও ভোক্তাদের অভিযোগ আসে। সেগুলো গুরুত্ব সহকারে দেখার চেষ্টা করি। কিন্তু এখানে অনেক কর্মচারি থাকায় অনেক সময় ভুল-ত্রুটি হয়ে যায়। যৌথ এ অভিযানে জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও জেলা পুলিশের সদস্যরা সহযোগীতা করেন।

তাছাড়া গত জানুয়ারিতে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও মান নিয়ন্ত্রণ রাখার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিলেও কার্যত কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রশিক্ষণের তিন মাসের মাথায় মেয়াদহীন, পচা-বাসি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ খাবার তৈরি-সংরক্ষণসহ তাও আবার বগুড়ার আকবরিয়া গ্র্যান্ড হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের মত প্রতিষ্ঠান সত্যি ভাবিয়ে তুলছে সচেতনমহলদের।