ঢাকা ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আসতেই অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব ৯৫ লাখ

দেশের আওয়াজ ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় : ০১:২০:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মার্চ ২০২৪ ৫৫ বার পড়া হয়েছে

ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আসা স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু এর আড়ালে বড় ধরনের প্রতারণার জাল রয়েছে তা টের পান না অনেকেই। যার ফলে সর্বহারা হতে হয়। এমনই প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে প্রতিবেশি দেশ ভারতে।

ফেসবুকে আসা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট থেকে অনেকেই অনেক ভালো বন্ধু পেয়েছেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও রয়েছে। এমনই এক ঘটনার সাক্ষী থাকলেন গুজরাতের এক ব্যবসায়ী। ফেসবুকে এক মহিলার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট অ্যাকসেপ্টে করার পর সেই আলাপচারিতা হোয়াটসঅ্যাপ অবধি গড়ায়। তারপরই ভয়ঙ্কর সাইবার প্রতারণার ফাঁদে পড়েন তিনি। খোয়া যায় ৯৫ লাখ রুপি।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, গুজরাতের পরাগ দেশাই নামক এক ব্যক্তি সন্দেহজনক এক ঘটনার মুখে পড়েন। তারপর সেটি সাইবার ক্রাইম বিভাগে রিপোর্ট করেন। জানা গিয়েছে গত বছর অক্টোবরে তিনি স্টেফ মিজ নামের এক মহিলার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট অ্যাকসেপ্টে করেন। তারপর দেওয়া নেওয়া হয় হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর।

ফেসবুকে ওই ব্যক্তির সঙ্গে কী হয়েছিল?

রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তি দেশ থেকে ১ লাখ রুপি মূল্যের ভেষজ পণ্য কেনেন তারপর সেটি স্টেফ মিজের কোম্পানির কাছে ২ লাখ রুপিতে বিক্রি করেন। ওই পণ্যগুলো লেনদেনের জন্য ডা. বীরেন্দ্র নামে একজন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন স্টেফ মিজ। ইমেইলের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন দেশাই এবং ডা. বীরেন্দ্র ও পরাগ।

ওই মহিলা পরাগ দেশাইকে ১ লাখ টাকার স্যাম্পেল পাঠান। তিনি সেই বক্স খুলে দেখেননি। বরং ওই মহিলার উপর ভরসা করে আরও অর্ডার দিতে থাকেন। পরে সেই বক্স খুলে তিনি দেখেন তাতে নেই কোনও ভেষজ পণ্য, বদলে রয়েছে পাউডার এবং চিপস। তারপরই তার টনক নড়ে তার সঙ্গে প্রতারণা হয়েছে।

ঠকতে পারেন আপনিও

সোশ্যাল মিডিয়া ইউজাররাই মূল টার্গেট হচ্ছেন, বিশেষ করে বয়স্ক মানুষেরা। যারা সদ্য ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ বা ইনস্টাগ্রামে অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। ভুয়ো অ্যাকাউন্ট বানিয়ে তাদের পাঠানো হচ্ছে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট। এমনকী সেই প্রোফাইল এমন ভাবেই বানানো হয়েছে যে তা আসল না ভুয়ো চেনা যায় না। তারপর আলাপচারিতা বাড়িয়ে ফোন নম্বর দেওয়া নেওয়া শুরু হয়।

আর এখান থেকেই সূত্রপাত হয় জালিয়াতির। সোশ্যাল মিডিয়া এই ধরনের ফিশিং স্ক্যাম চিন্তা বাড়িয়েছে সাইবার বিভাগের। কারণ ফোন এবং ইন্টারনেট সহজলভ্য হয়ে ওঠায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ফেসবুকে জুড়ছেন। এই ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট যাচাই না করে অ্যাকসেপ্টে করা উচিত নয়। পাশাপাশি পরিচয় যাচাই না করে কোনওরূপ আর্থিক লেনদেন, ফোন নম্বর দেওয়া উচিত নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আসতেই অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব ৯৫ লাখ

আপডেট সময় : ০১:২০:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মার্চ ২০২৪

ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আসা স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু এর আড়ালে বড় ধরনের প্রতারণার জাল রয়েছে তা টের পান না অনেকেই। যার ফলে সর্বহারা হতে হয়। এমনই প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে প্রতিবেশি দেশ ভারতে।

ফেসবুকে আসা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট থেকে অনেকেই অনেক ভালো বন্ধু পেয়েছেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও রয়েছে। এমনই এক ঘটনার সাক্ষী থাকলেন গুজরাতের এক ব্যবসায়ী। ফেসবুকে এক মহিলার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট অ্যাকসেপ্টে করার পর সেই আলাপচারিতা হোয়াটসঅ্যাপ অবধি গড়ায়। তারপরই ভয়ঙ্কর সাইবার প্রতারণার ফাঁদে পড়েন তিনি। খোয়া যায় ৯৫ লাখ রুপি।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, গুজরাতের পরাগ দেশাই নামক এক ব্যক্তি সন্দেহজনক এক ঘটনার মুখে পড়েন। তারপর সেটি সাইবার ক্রাইম বিভাগে রিপোর্ট করেন। জানা গিয়েছে গত বছর অক্টোবরে তিনি স্টেফ মিজ নামের এক মহিলার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট অ্যাকসেপ্টে করেন। তারপর দেওয়া নেওয়া হয় হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর।

ফেসবুকে ওই ব্যক্তির সঙ্গে কী হয়েছিল?

রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তি দেশ থেকে ১ লাখ রুপি মূল্যের ভেষজ পণ্য কেনেন তারপর সেটি স্টেফ মিজের কোম্পানির কাছে ২ লাখ রুপিতে বিক্রি করেন। ওই পণ্যগুলো লেনদেনের জন্য ডা. বীরেন্দ্র নামে একজন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন স্টেফ মিজ। ইমেইলের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন দেশাই এবং ডা. বীরেন্দ্র ও পরাগ।

ওই মহিলা পরাগ দেশাইকে ১ লাখ টাকার স্যাম্পেল পাঠান। তিনি সেই বক্স খুলে দেখেননি। বরং ওই মহিলার উপর ভরসা করে আরও অর্ডার দিতে থাকেন। পরে সেই বক্স খুলে তিনি দেখেন তাতে নেই কোনও ভেষজ পণ্য, বদলে রয়েছে পাউডার এবং চিপস। তারপরই তার টনক নড়ে তার সঙ্গে প্রতারণা হয়েছে।

ঠকতে পারেন আপনিও

সোশ্যাল মিডিয়া ইউজাররাই মূল টার্গেট হচ্ছেন, বিশেষ করে বয়স্ক মানুষেরা। যারা সদ্য ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ বা ইনস্টাগ্রামে অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। ভুয়ো অ্যাকাউন্ট বানিয়ে তাদের পাঠানো হচ্ছে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট। এমনকী সেই প্রোফাইল এমন ভাবেই বানানো হয়েছে যে তা আসল না ভুয়ো চেনা যায় না। তারপর আলাপচারিতা বাড়িয়ে ফোন নম্বর দেওয়া নেওয়া শুরু হয়।

আর এখান থেকেই সূত্রপাত হয় জালিয়াতির। সোশ্যাল মিডিয়া এই ধরনের ফিশিং স্ক্যাম চিন্তা বাড়িয়েছে সাইবার বিভাগের। কারণ ফোন এবং ইন্টারনেট সহজলভ্য হয়ে ওঠায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ফেসবুকে জুড়ছেন। এই ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট যাচাই না করে অ্যাকসেপ্টে করা উচিত নয়। পাশাপাশি পরিচয় যাচাই না করে কোনওরূপ আর্থিক লেনদেন, ফোন নম্বর দেওয়া উচিত নয়।