ঢাকা ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে যা বললেন ফখরুল

দেশের আওয়াজ ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ মার্চ ২০২৩ ৬৮ বার পড়া হয়েছে

কাতার সম্মেলন নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, ‘তার ওপর কোনো চাপই কাজ করবে না। এখানেই বুঝা যায়, তার এই দেশের এবং দেশের মানুষের ওপর কোন রকম দায়িত্ব নেই। তার যে কোনো সম্মান নেই, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রকে নিয়ে একটি কার্যকর রাষ্ট্র করার চিন্তা এটা তাদের নেই।

মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনীতি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের এমন সমালোচনা করেন বিএনপির মহাসচিব।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘এমন কোনো চাপ নেই, যেটা শেখ হাসিনাকে দিতে পারে। এটা মাথায় রাখতে হবে। বিদেশিদের যে চাপই আসুক না কেন, জনগণের স্বার্থে যা করা দরকার, সরকার সেটাই করবে’।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গত দুটো নির্বাচন তারা করেছেন সম্পূর্ণ একতরফাভাবে, তাদেরকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য। যত রকমের ভোট জালিয়াতি, যত রকমের কারচুপি, যত রকমের সন্ত্রাস, সেই সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দিয়ে, ভোটার শূন্য রেখে তারা ফলাফল ঘোষণা করে বেআইনিভাবে ক্ষমতায় গিয়েছেন। এখন আবার সামনের নির্বাচন আসছে; এখন তারা দেখছেন জনগণ তাদের সঙ্গে নেই। যদি সত্যিকার অর্থে একটি নির্বাচন হয় তাহলে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। ক্ষমতায় যেতে পারবেনা। এ কারণে তারা যেটা করছেন আগে থেকেই একটা অবস্থা তৈরি করছেন, যে অবস্থার হচ্ছে আমাদের দেশের নির্বাচনের বিষয়ে কেউ হস্তক্ষেপ করবে না। কেউ কথা বলবে না আমরা আমাদের মতো করে করব। তারাই তাদের কাছে যাচ্ছে বলা হচ্ছে আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চাই। যারা যাচ্ছে তারা মনে করছে ঠিক আছে তো।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে শুধু বিএনপি নয় সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলো কেন বলছে এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়া যাবে না। এমনকি সিপিবি পর্যন্ত বলছেন এই নির্বাচনে যাওয়া যাবে না।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি প্রচণ্ড রকম দাম্ভিকতায় ভুগছেন।

তিনি বলেন, যারা বেগম খালেদা জিয়াকে বিনা কারণে ১৮ সালের নির্বাচনের আগে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে জেলের মধ্যে আটকে রাখে, এ ধরনের মামলায় প্রত্যেক জনকে সাত দিনের মধ্যে জামিন দেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়াকে এখন পর্যন্ত জামিন দেওয়া হয়নি, নাটক চলছেই। একজন বলেন তিনি রাজনীতি করতে পারবেন আর একজন বলেন তিনি রাজনীতি করতে পারবেন না। একজন বলেন তিনি নির্বাচন করতে পারবেন আর একজন বলেন তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না।

ফখরুল বলেন, আমাদের কথা খুব পরিষ্কার এতই যদি সাহস থাকে, এতই যদি উন্নয়ন করে থাকেন, জনগণের সমর্থন থাকে, তাহলে পদত্যাগ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে দায়িত্ব দিন নির্বাচন করার জন্য। যে ক্ষমতায় আসবে আমরা মাথা পেতে মেনে নেব।

সরকারের উদ্দেশ্য করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, যদি গণতন্ত্র দিতে চান, ত্যাগ স্বীকার করুন, পদত্যাগ করুন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। তত্ত্বাবধায় সরকার সমস্ত দলগুলোর সঙ্গে মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচন করবে।

দুর্নীতির সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ওরা লুট করবে, ওরা ভোগ করবে আর আমাদের পায়ের নিচে পিষিয়ে মারবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাঈল জবিউল্যাহ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন।

এছাড়াও জেড খান রিয়াজ উদ্দীন নসু, সাঈদ সোহরাব, বাবুল আহমেদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার, মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবীর খান ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. হানিফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে যা বললেন ফখরুল

আপডেট সময় : ০৯:০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ মার্চ ২০২৩

কাতার সম্মেলন নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, ‘তার ওপর কোনো চাপই কাজ করবে না। এখানেই বুঝা যায়, তার এই দেশের এবং দেশের মানুষের ওপর কোন রকম দায়িত্ব নেই। তার যে কোনো সম্মান নেই, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রকে নিয়ে একটি কার্যকর রাষ্ট্র করার চিন্তা এটা তাদের নেই।

মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনীতি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের এমন সমালোচনা করেন বিএনপির মহাসচিব।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘এমন কোনো চাপ নেই, যেটা শেখ হাসিনাকে দিতে পারে। এটা মাথায় রাখতে হবে। বিদেশিদের যে চাপই আসুক না কেন, জনগণের স্বার্থে যা করা দরকার, সরকার সেটাই করবে’।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গত দুটো নির্বাচন তারা করেছেন সম্পূর্ণ একতরফাভাবে, তাদেরকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য। যত রকমের ভোট জালিয়াতি, যত রকমের কারচুপি, যত রকমের সন্ত্রাস, সেই সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দিয়ে, ভোটার শূন্য রেখে তারা ফলাফল ঘোষণা করে বেআইনিভাবে ক্ষমতায় গিয়েছেন। এখন আবার সামনের নির্বাচন আসছে; এখন তারা দেখছেন জনগণ তাদের সঙ্গে নেই। যদি সত্যিকার অর্থে একটি নির্বাচন হয় তাহলে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। ক্ষমতায় যেতে পারবেনা। এ কারণে তারা যেটা করছেন আগে থেকেই একটা অবস্থা তৈরি করছেন, যে অবস্থার হচ্ছে আমাদের দেশের নির্বাচনের বিষয়ে কেউ হস্তক্ষেপ করবে না। কেউ কথা বলবে না আমরা আমাদের মতো করে করব। তারাই তাদের কাছে যাচ্ছে বলা হচ্ছে আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চাই। যারা যাচ্ছে তারা মনে করছে ঠিক আছে তো।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে শুধু বিএনপি নয় সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলো কেন বলছে এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়া যাবে না। এমনকি সিপিবি পর্যন্ত বলছেন এই নির্বাচনে যাওয়া যাবে না।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি প্রচণ্ড রকম দাম্ভিকতায় ভুগছেন।

তিনি বলেন, যারা বেগম খালেদা জিয়াকে বিনা কারণে ১৮ সালের নির্বাচনের আগে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে জেলের মধ্যে আটকে রাখে, এ ধরনের মামলায় প্রত্যেক জনকে সাত দিনের মধ্যে জামিন দেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়াকে এখন পর্যন্ত জামিন দেওয়া হয়নি, নাটক চলছেই। একজন বলেন তিনি রাজনীতি করতে পারবেন আর একজন বলেন তিনি রাজনীতি করতে পারবেন না। একজন বলেন তিনি নির্বাচন করতে পারবেন আর একজন বলেন তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না।

ফখরুল বলেন, আমাদের কথা খুব পরিষ্কার এতই যদি সাহস থাকে, এতই যদি উন্নয়ন করে থাকেন, জনগণের সমর্থন থাকে, তাহলে পদত্যাগ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে দায়িত্ব দিন নির্বাচন করার জন্য। যে ক্ষমতায় আসবে আমরা মাথা পেতে মেনে নেব।

সরকারের উদ্দেশ্য করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, যদি গণতন্ত্র দিতে চান, ত্যাগ স্বীকার করুন, পদত্যাগ করুন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। তত্ত্বাবধায় সরকার সমস্ত দলগুলোর সঙ্গে মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচন করবে।

দুর্নীতির সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ওরা লুট করবে, ওরা ভোগ করবে আর আমাদের পায়ের নিচে পিষিয়ে মারবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাঈল জবিউল্যাহ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন।

এছাড়াও জেড খান রিয়াজ উদ্দীন নসু, সাঈদ সোহরাব, বাবুল আহমেদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার, মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবীর খান ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. হানিফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।