ঢাকা ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পাহাড় ছেড়ে সমতলে সংগঠিতের চেষ্টায় জামাতুল আনসার

দেশের আওয়াজ ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় : ১০:৫৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জুন ২০২৩ ৫১ বার পড়া হয়েছে

* পাহাড়ে অভিযান-নজরদারি, সমতলে স্থিতিশীল হওয়ার চিন্তা
* সশস্ত্র হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমতলে ছড়াচ্ছে ছোট ছোট গ্রুপ
*অর্থের বড় জোগান আসে ইউরোপের একটি দেশ থেকে
* জঙ্গিবাদের অর্থায়নে মুন্সিগঞ্জে গবাদির পশুর খামার
* জামাতুল আনসারের আমির মাহমুদের অবস্থান দেশের অভ্যন্তরেই
* মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার কথা বলে ঘর ছেড়েছিল জাকারিয়া

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা, অভিযানের কারণে পাহাড় ছেড়ে সমতলে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া। ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। সংগঠনটির শূরা সদস্য ও অর্থ শাখার প্রধান মোশারফ হোসেন ওরফে রাকিবের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর বনাঞ্চলে আত্মগোপনের উদ্দেশ্যে আসে।

গোয়েন্দা কার্যক্রমের ভিত্তিতে সোমবার (৫ জুন) দিবাগত রাতে রাকিবসহ তিন সদস্যকে বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ অর্থসহ গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

র‍্যাব বলছে, রাকিব ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র অন্যতম শূরা সদস্য ও অর্থ শাখার প্রধান। তিনি রাজধানীর মুগদা এলাকায় থাকাকালীন হিজামা সেন্টারের আড়ালে সাংগঠনিক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। ঢাকার সকল শূরা কমিটির মিটিং তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো। দেশ ও দেশের বাহির হতে সংগঠনের জন্য সংগৃহীত অর্থ জমা থাকতো তার কাছে। সংগঠনের অর্থায়নে মুন্সিগঞ্জে গবাদি পশুর খামার স্থাপন করেন তিনি।

মঙ্গলবার (৬ জুন) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, সম্প্রতি র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা জানতে পারে, নতুন এ জঙ্গি সংগঠনের অন্যতম শুরা সদস্য ও অর্থ শাখার প্রধান মোশারফ হোসেন ওরফে রাকিব সংগঠনের কয়েকজন সদস্যসহ গাজীপুর হয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুরের দিকে যাচ্ছে।

ওই তথ্যের ভিত্তিতে গত রাতে র‌্যাব-১ ও ৭ এর সমন্বিত দল গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করে। একটি সিএনজি হতে সংগঠনের শুরা সদস্য ও অর্থ শাখার প্রধান মোশারফ হোসেন ওরফে রাকিব (৩৪), জাকারিয়া হোসাইন (২৯) ও আহাদুল ইসলাম মজুমদার ওরফে সিফাত ওরফে মামিদকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়। তবে পালাতে সক্ষম হয় কিছু সদস্য। উদ্ধার করা হয় ১টি বিদেশি পিস্তল ও নগদ ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন উগ্রবাদী লিফলেট।

কমান্ডার মঈন বলেন, গ্রেপ্তার মোশারফ হোসেন ওরফে রাকিব ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র অন্যতম শূরা সদস্য ও অর্থ শাখার প্রধান। তিনি ২০১৫ সালে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে অবস্থানকালীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আনসার আল ইসলামের শীর্ষ এক জঙ্গির মাধ্যমে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়। ২০১৬ সালে দেশে ফিরে তিনি আনসার আল ইসলামে যোগদান করেন এবং পাশাপাশি গার্মেন্টস পণ্যের ব্যবসা শুরু করেন।

জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র প্রতিষ্ঠাকালীন হতে সে সংগঠনের অর্থ সংগ্রহ ও সরবরাহ সংক্রান্ত কার্যক্রম এবং সমতলের যাবতীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করতেন রাকিব। আনসার আল ইসলাম থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা তার নিকট জমা ছিল।

ইতোপূর্বে গ্রেপ্তার সংগঠনের শূরা সদস্য মায়মুনসহ অন্যান্যরা দেশ ও দেশের বাহির হতে সংগঠনের জন্য সংগৃহীত অর্থও তার নিকট জমা থাকত। মুন্সিগঞ্জে গবাদি পশুর খামার স্থাপন করে এবং তথাকথিত হিজরতকৃত অধিকাংশ সদস্য তার খামারে বিভিন্ন সময়ে অবস্থান করতেন এবং তাদের শারীরিক কসরত ও তাত্ত্বিক জ্ঞান প্রদান করতেন।

সংগঠনের আমির মাহমুদের নির্দেশনায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, অস্ত্র ও রসদ ক্রয়সহ সংগঠনের অন্যান্য কার্যক্রমের জন্য অর্থ সরবরাহ করতেন এবং শুকনা খাবারসহ পাহাড়ে টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয় করে পার্বত্য প্রশিক্ষণ শিবিরে প্রেরণ করতেন। এছাড়াও স্বেচ্ছায় নিরুদ্ধেশ সদস্যদের পাহাড়ে প্রেরণের সামগ্রিক কার্যক্রম সে তত্ত্বাবধান করতেন। তিনি বিভিন্ন সময় প্রশিক্ষণ পরিচালনা ও সাংগঠনিক কাজে পার্বত্য অঞ্চলে প্রশিক্ষণ শিবিরে গিয়েছেন।

পাহাড়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান শুরু হলে সংগঠনের আমির মাহমুদের নির্দেশনায় তিনি সমতলের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। আত্মগোপনে থেকে তিনি সংগঠনের অন্যান্য আত্মগোপনকৃত সদস্যদের সাথে যোগাযোগ রেখে সংগঠনের সদস্যদের সংগঠিত করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।

ইতোপূর্বে আনসার আল ইসলামের সদস্য থাকায় সংগঠনের সাথে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন তিনি। পাহাড় ছেড়ে সমতলে আসার সময় তার কাছে ছিল ২০ লাখের বেশি টাকা। প্রায় ৭ লাখের বেশি টাকা তিনি খরচও করেছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে কমান্ডার মঈন বলেন, এখন পর্যন্ত নতুন এই সংগঠনটি তাদের পরিকল্পনা, টার্গেট কিলিং বা নাশকতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তারা ভিডিও তৈরি করছিল, সেটিও শেষ করতে পারেনি। তবে গ্রেপ্তার অপর দুই সদস্যকে নিয়ে গাজীপুর হয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুরের জঙ্গল এলাকায় অবস্থান করে রাকিবের সমন্বয়ে সংগঠনের আত্মগোপনকৃত অন্যান্য সদস্যদের একত্রিত করে আমিরের নেতৃত্বে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার পরিকল্পনা চলছিল।

মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার কথা বলে ঘর ছেড়েছিল জাকারিয়া

গ্রেপ্তার জাকারিয়া সম্পর্কে র‍্যাব মুখপাত্র বলেন, ২০০৮ সালে স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে হিফজ সম্পন্ন করে ফরিদপুরে একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন তিনি। ২০২১ সালে সংগঠনের শুরা সদস্য ও অর্থ শাখার প্রধান রাকিবের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সংগঠনে যোগদান করেন। মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে যাচ্ছেন এমন কথা পরিবারকে জানিয়ে ঘর ছেড়েছিলেন জাকারিয়া।

২০২২ সালের প্রথম দিকে রাকিবের মাধ্যমে বান্দরবানের থানচি ও বাকলাইপাড়া হয়ে কেটিসিতে যায় জাকারিয়া। তিনি পাহাড়ে অস্ত্র চালনাসহ বিভিন্ন ধরনের সশস্ত্র প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পাহাড়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান শুরু হলে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ছেড়ে সমতলে এসে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করেন। আমির মাহমুদের নির্দেশে রাকিবের সঙ্গে সংগঠনের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনকৃত সদস্যদের একত্রিত করার জন্য টাঙ্গাইলের মধুপুরের জঙ্গল এলাকায় গেলে রাজেন্দ্রপুর এলাকা হতে র‌্যাব গ্রেপ্তার হন তিনি।

আত্মীয়ের বাসা বেড়াতে গিয়ে উদ্বুদ্ধ, কথিত হিজরতে আমীরের সাহচর্যে আহাদুল

গ্রেপ্তার আহাদুল কুমিল্লার একটি কলেজে অনার্স ৪র্থ সেমিস্টারে অধ্যয়নরত। তিনি ২০১৮ সালে তার এক আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়ে সংগঠনের আমির মাহমুদের সাথে তার পরিচয় হয়। সংগঠনের আমির মাহমুদের কথায় উদ্বুদ্ধ হয়ে যুক্ত হন। ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে তথাকথিত হিজরতের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে প্রায় দুই মাস আমির মাহমুদের বাসায় অবস্থান করেন এবং আমিরের ব্যক্তিগত সহযোগীর ভূমিকা পালন করেন।

পরে মাহমুদের মাধ্যমে বান্দরবানের থানচি হয়ে কেটিসিতে গিয়ে অস্ত্র চালনা, বোমা তৈরিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পরে পাহাড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান শুরু হলে সে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ত্যাগ করে সমতলে আসে এবং সমতলের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে।

মসজিদ-মাদ্রাসা এতিমখানার কথা বলে সংগঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহ

এ বিষয়ে কমান্ডার মঈন বলেন, নতুন এ সংগঠনটিকে আত্মপ্রকাশে মূল ভূমিকা পালন করে আনসার আল ইসলাম। তারাই প্রথম অর্থের জোগান দেয়। দাওয়াতি শাখার প্রধান মায়মুনকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আমরা তথ্য পাই যে, ইউরোপের একটি দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থের জোগান পেয়েছে সংগঠনটি। তা প্রায় ৫০ লাখের অধিক। বিভিন্ন সময় যোগাযোগের মাধ্যমে মসজিদ মাদ্রাসা এতিমখানাসহ নানা খাতের কথা বলে এই অর্থ সংগ্রহ করে নতুন এ জঙ্গি সংগঠন। সংগঠনটির ডোনার তিন শ্রেণির। ক-শ্রেণির ডোনাররা ১০ থেকে লাখ টাকা দিতেন।

খ-শ্রেণিররা ৩ থেকে-১০ হাজার এবং ৩ হাজার পর্যন্ত অর্থদাতারা গ-ক্যাটাগরির। অর্থ শাখার প্রধান রাকিব এই টাকা কখনো মোবাইল ব্যাংকিং কখনো হাতে হাতে পৌঁছে দিয়েছেন পাহাড়সহ বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থাকা সদস্যদের মাঝে। এর বাইরে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য কেএনএফকে তারা মাসে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা দিত।

পাহাড় ছেড়ে সমতল কেন টার্গেট করল জামাতুল আনসার? জানতে চাইলে কমান্ডার মঈন বলেন, সশস্ত্র হামলার প্রস্তুতির জন্য তারা পাহাড়ে আশ্রয় নেন, সেখানে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নেন। কিন্তু র‍্যাবসহ বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযানের কারণে পাহাড়কে আর নিরাপদ মনে করেননি। ভেস্তে যায় তাদের হামলার প্রস্তুতি পরিকল্পনাও। নতুন করে সংঘটিত ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারা ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত হয়ে পাহাড় ছেড়ে সমতলে চলে আসে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে যাওয়ার একটি তথ্য আমরা পেয়েছিম আত্মগোপন সহজ মনে করেই হয়ত কয়েকটি গ্রুপ গাজীপুরে বনাঞ্চলকে বেছে নিয়ে সেখানে যাচ্ছিলেন।

নির্বাচন আসলেই জঙ্গিবাদী তৎপরতা বক উগ্রবাদি অস্থিরতা তৈরি হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমান্ডার মঈন বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে কোনো গোষ্ঠী পেছন থেকে মদদ দিলেও দিতে পারে। বিদেশের কাছে অস্থিতিশীল দেশ হিসেবে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যও কোনো গোষ্ঠীর থাকতেও পারে। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কাজ করছেন। এ ধরনের কোনো তথ্য যদি আমরা পাই তাহলে আমরা জানাব।

সংগঠনের আমির মাহমুদের অবস্থান সম্পর্কে র‍্যাব কোনো তথ্য পেয়েছে কিনা জানতে চাইলে কমান্ডার মঈন বলেন, এর আগে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র গোলাবারুদসহ এই সংগঠনটি সামরিক শাখার প্রধান রনবীরকে গ্রেপ্তার করেছি। সর্বশেষ গ্রেপ্তার তিনজনসহ ইতোপূর্বে গ্রেপ্তারকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি আমিরের অবস্থান সম্পর্কে। তারা জানিয়েছেন, আমির মাহমুদ দেশের অভ্যন্তরেই আছেন। তবে ঠিক কোথায় সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্বেচ্ছায় হিজরতকারীদের সবাইকে গ্রেপ্তার করতে পারা পর্যন্ত হুমকি

কমান্ডার মঈন বলেন, পাহাড় ছেলে সমতলে আত্মগোপনে করার পেছনের কারণটি হচ্ছে, তারা নতুন করে সংগঠিত হতে চায়। স্বেচ্ছায় নিরুদ্দেশ হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নেওয়া তরুণদের সবাইকে গ্রেপ্তার করতে না পারা পর্যন্ত অবশ্যই হুমকি। আমরা যে ৫৫ জনের তালিকা দিয়েছি এর বাইরেও অনেকে আত্মগোপন বা হিজরত করেছেন। আমরা এখন পর্যন্ত ৭৬ জনকে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি। এর বাইরে পাঁচ-ছয়জন প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে মারা গেছেন। মিলে আমরা ৮০/৮২ জনকে শনাক্ত করেছি। আমরা আত্মতুষ্টিতে ভুগছিনা, তবে আমরা কিন্তু অনেকটাই সফল। সুত্রঃ ঢাকা পোস্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পাহাড় ছেড়ে সমতলে সংগঠিতের চেষ্টায় জামাতুল আনসার

আপডেট সময় : ১০:৫৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জুন ২০২৩

* পাহাড়ে অভিযান-নজরদারি, সমতলে স্থিতিশীল হওয়ার চিন্তা
* সশস্ত্র হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমতলে ছড়াচ্ছে ছোট ছোট গ্রুপ
*অর্থের বড় জোগান আসে ইউরোপের একটি দেশ থেকে
* জঙ্গিবাদের অর্থায়নে মুন্সিগঞ্জে গবাদির পশুর খামার
* জামাতুল আনসারের আমির মাহমুদের অবস্থান দেশের অভ্যন্তরেই
* মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার কথা বলে ঘর ছেড়েছিল জাকারিয়া

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা, অভিযানের কারণে পাহাড় ছেড়ে সমতলে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া। ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। সংগঠনটির শূরা সদস্য ও অর্থ শাখার প্রধান মোশারফ হোসেন ওরফে রাকিবের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর বনাঞ্চলে আত্মগোপনের উদ্দেশ্যে আসে।

গোয়েন্দা কার্যক্রমের ভিত্তিতে সোমবার (৫ জুন) দিবাগত রাতে রাকিবসহ তিন সদস্যকে বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ অর্থসহ গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

র‍্যাব বলছে, রাকিব ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র অন্যতম শূরা সদস্য ও অর্থ শাখার প্রধান। তিনি রাজধানীর মুগদা এলাকায় থাকাকালীন হিজামা সেন্টারের আড়ালে সাংগঠনিক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। ঢাকার সকল শূরা কমিটির মিটিং তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো। দেশ ও দেশের বাহির হতে সংগঠনের জন্য সংগৃহীত অর্থ জমা থাকতো তার কাছে। সংগঠনের অর্থায়নে মুন্সিগঞ্জে গবাদি পশুর খামার স্থাপন করেন তিনি।

মঙ্গলবার (৬ জুন) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, সম্প্রতি র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা জানতে পারে, নতুন এ জঙ্গি সংগঠনের অন্যতম শুরা সদস্য ও অর্থ শাখার প্রধান মোশারফ হোসেন ওরফে রাকিব সংগঠনের কয়েকজন সদস্যসহ গাজীপুর হয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুরের দিকে যাচ্ছে।

ওই তথ্যের ভিত্তিতে গত রাতে র‌্যাব-১ ও ৭ এর সমন্বিত দল গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করে। একটি সিএনজি হতে সংগঠনের শুরা সদস্য ও অর্থ শাখার প্রধান মোশারফ হোসেন ওরফে রাকিব (৩৪), জাকারিয়া হোসাইন (২৯) ও আহাদুল ইসলাম মজুমদার ওরফে সিফাত ওরফে মামিদকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়। তবে পালাতে সক্ষম হয় কিছু সদস্য। উদ্ধার করা হয় ১টি বিদেশি পিস্তল ও নগদ ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন উগ্রবাদী লিফলেট।

কমান্ডার মঈন বলেন, গ্রেপ্তার মোশারফ হোসেন ওরফে রাকিব ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র অন্যতম শূরা সদস্য ও অর্থ শাখার প্রধান। তিনি ২০১৫ সালে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে অবস্থানকালীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আনসার আল ইসলামের শীর্ষ এক জঙ্গির মাধ্যমে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়। ২০১৬ সালে দেশে ফিরে তিনি আনসার আল ইসলামে যোগদান করেন এবং পাশাপাশি গার্মেন্টস পণ্যের ব্যবসা শুরু করেন।

জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র প্রতিষ্ঠাকালীন হতে সে সংগঠনের অর্থ সংগ্রহ ও সরবরাহ সংক্রান্ত কার্যক্রম এবং সমতলের যাবতীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করতেন রাকিব। আনসার আল ইসলাম থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা তার নিকট জমা ছিল।

ইতোপূর্বে গ্রেপ্তার সংগঠনের শূরা সদস্য মায়মুনসহ অন্যান্যরা দেশ ও দেশের বাহির হতে সংগঠনের জন্য সংগৃহীত অর্থও তার নিকট জমা থাকত। মুন্সিগঞ্জে গবাদি পশুর খামার স্থাপন করে এবং তথাকথিত হিজরতকৃত অধিকাংশ সদস্য তার খামারে বিভিন্ন সময়ে অবস্থান করতেন এবং তাদের শারীরিক কসরত ও তাত্ত্বিক জ্ঞান প্রদান করতেন।

সংগঠনের আমির মাহমুদের নির্দেশনায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, অস্ত্র ও রসদ ক্রয়সহ সংগঠনের অন্যান্য কার্যক্রমের জন্য অর্থ সরবরাহ করতেন এবং শুকনা খাবারসহ পাহাড়ে টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয় করে পার্বত্য প্রশিক্ষণ শিবিরে প্রেরণ করতেন। এছাড়াও স্বেচ্ছায় নিরুদ্ধেশ সদস্যদের পাহাড়ে প্রেরণের সামগ্রিক কার্যক্রম সে তত্ত্বাবধান করতেন। তিনি বিভিন্ন সময় প্রশিক্ষণ পরিচালনা ও সাংগঠনিক কাজে পার্বত্য অঞ্চলে প্রশিক্ষণ শিবিরে গিয়েছেন।

পাহাড়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান শুরু হলে সংগঠনের আমির মাহমুদের নির্দেশনায় তিনি সমতলের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। আত্মগোপনে থেকে তিনি সংগঠনের অন্যান্য আত্মগোপনকৃত সদস্যদের সাথে যোগাযোগ রেখে সংগঠনের সদস্যদের সংগঠিত করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।

ইতোপূর্বে আনসার আল ইসলামের সদস্য থাকায় সংগঠনের সাথে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন তিনি। পাহাড় ছেড়ে সমতলে আসার সময় তার কাছে ছিল ২০ লাখের বেশি টাকা। প্রায় ৭ লাখের বেশি টাকা তিনি খরচও করেছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে কমান্ডার মঈন বলেন, এখন পর্যন্ত নতুন এই সংগঠনটি তাদের পরিকল্পনা, টার্গেট কিলিং বা নাশকতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তারা ভিডিও তৈরি করছিল, সেটিও শেষ করতে পারেনি। তবে গ্রেপ্তার অপর দুই সদস্যকে নিয়ে গাজীপুর হয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুরের জঙ্গল এলাকায় অবস্থান করে রাকিবের সমন্বয়ে সংগঠনের আত্মগোপনকৃত অন্যান্য সদস্যদের একত্রিত করে আমিরের নেতৃত্বে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার পরিকল্পনা চলছিল।

মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার কথা বলে ঘর ছেড়েছিল জাকারিয়া

গ্রেপ্তার জাকারিয়া সম্পর্কে র‍্যাব মুখপাত্র বলেন, ২০০৮ সালে স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে হিফজ সম্পন্ন করে ফরিদপুরে একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন তিনি। ২০২১ সালে সংগঠনের শুরা সদস্য ও অর্থ শাখার প্রধান রাকিবের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সংগঠনে যোগদান করেন। মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে যাচ্ছেন এমন কথা পরিবারকে জানিয়ে ঘর ছেড়েছিলেন জাকারিয়া।

২০২২ সালের প্রথম দিকে রাকিবের মাধ্যমে বান্দরবানের থানচি ও বাকলাইপাড়া হয়ে কেটিসিতে যায় জাকারিয়া। তিনি পাহাড়ে অস্ত্র চালনাসহ বিভিন্ন ধরনের সশস্ত্র প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পাহাড়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান শুরু হলে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ছেড়ে সমতলে এসে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করেন। আমির মাহমুদের নির্দেশে রাকিবের সঙ্গে সংগঠনের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনকৃত সদস্যদের একত্রিত করার জন্য টাঙ্গাইলের মধুপুরের জঙ্গল এলাকায় গেলে রাজেন্দ্রপুর এলাকা হতে র‌্যাব গ্রেপ্তার হন তিনি।

আত্মীয়ের বাসা বেড়াতে গিয়ে উদ্বুদ্ধ, কথিত হিজরতে আমীরের সাহচর্যে আহাদুল

গ্রেপ্তার আহাদুল কুমিল্লার একটি কলেজে অনার্স ৪র্থ সেমিস্টারে অধ্যয়নরত। তিনি ২০১৮ সালে তার এক আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়ে সংগঠনের আমির মাহমুদের সাথে তার পরিচয় হয়। সংগঠনের আমির মাহমুদের কথায় উদ্বুদ্ধ হয়ে যুক্ত হন। ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে তথাকথিত হিজরতের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে প্রায় দুই মাস আমির মাহমুদের বাসায় অবস্থান করেন এবং আমিরের ব্যক্তিগত সহযোগীর ভূমিকা পালন করেন।

পরে মাহমুদের মাধ্যমে বান্দরবানের থানচি হয়ে কেটিসিতে গিয়ে অস্ত্র চালনা, বোমা তৈরিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পরে পাহাড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান শুরু হলে সে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ত্যাগ করে সমতলে আসে এবং সমতলের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে।

মসজিদ-মাদ্রাসা এতিমখানার কথা বলে সংগঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহ

এ বিষয়ে কমান্ডার মঈন বলেন, নতুন এ সংগঠনটিকে আত্মপ্রকাশে মূল ভূমিকা পালন করে আনসার আল ইসলাম। তারাই প্রথম অর্থের জোগান দেয়। দাওয়াতি শাখার প্রধান মায়মুনকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আমরা তথ্য পাই যে, ইউরোপের একটি দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থের জোগান পেয়েছে সংগঠনটি। তা প্রায় ৫০ লাখের অধিক। বিভিন্ন সময় যোগাযোগের মাধ্যমে মসজিদ মাদ্রাসা এতিমখানাসহ নানা খাতের কথা বলে এই অর্থ সংগ্রহ করে নতুন এ জঙ্গি সংগঠন। সংগঠনটির ডোনার তিন শ্রেণির। ক-শ্রেণির ডোনাররা ১০ থেকে লাখ টাকা দিতেন।

খ-শ্রেণিররা ৩ থেকে-১০ হাজার এবং ৩ হাজার পর্যন্ত অর্থদাতারা গ-ক্যাটাগরির। অর্থ শাখার প্রধান রাকিব এই টাকা কখনো মোবাইল ব্যাংকিং কখনো হাতে হাতে পৌঁছে দিয়েছেন পাহাড়সহ বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থাকা সদস্যদের মাঝে। এর বাইরে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য কেএনএফকে তারা মাসে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা দিত।

পাহাড় ছেড়ে সমতল কেন টার্গেট করল জামাতুল আনসার? জানতে চাইলে কমান্ডার মঈন বলেন, সশস্ত্র হামলার প্রস্তুতির জন্য তারা পাহাড়ে আশ্রয় নেন, সেখানে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নেন। কিন্তু র‍্যাবসহ বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযানের কারণে পাহাড়কে আর নিরাপদ মনে করেননি। ভেস্তে যায় তাদের হামলার প্রস্তুতি পরিকল্পনাও। নতুন করে সংঘটিত ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারা ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত হয়ে পাহাড় ছেড়ে সমতলে চলে আসে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে যাওয়ার একটি তথ্য আমরা পেয়েছিম আত্মগোপন সহজ মনে করেই হয়ত কয়েকটি গ্রুপ গাজীপুরে বনাঞ্চলকে বেছে নিয়ে সেখানে যাচ্ছিলেন।

নির্বাচন আসলেই জঙ্গিবাদী তৎপরতা বক উগ্রবাদি অস্থিরতা তৈরি হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমান্ডার মঈন বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে কোনো গোষ্ঠী পেছন থেকে মদদ দিলেও দিতে পারে। বিদেশের কাছে অস্থিতিশীল দেশ হিসেবে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যও কোনো গোষ্ঠীর থাকতেও পারে। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কাজ করছেন। এ ধরনের কোনো তথ্য যদি আমরা পাই তাহলে আমরা জানাব।

সংগঠনের আমির মাহমুদের অবস্থান সম্পর্কে র‍্যাব কোনো তথ্য পেয়েছে কিনা জানতে চাইলে কমান্ডার মঈন বলেন, এর আগে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র গোলাবারুদসহ এই সংগঠনটি সামরিক শাখার প্রধান রনবীরকে গ্রেপ্তার করেছি। সর্বশেষ গ্রেপ্তার তিনজনসহ ইতোপূর্বে গ্রেপ্তারকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি আমিরের অবস্থান সম্পর্কে। তারা জানিয়েছেন, আমির মাহমুদ দেশের অভ্যন্তরেই আছেন। তবে ঠিক কোথায় সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্বেচ্ছায় হিজরতকারীদের সবাইকে গ্রেপ্তার করতে পারা পর্যন্ত হুমকি

কমান্ডার মঈন বলেন, পাহাড় ছেলে সমতলে আত্মগোপনে করার পেছনের কারণটি হচ্ছে, তারা নতুন করে সংগঠিত হতে চায়। স্বেচ্ছায় নিরুদ্দেশ হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নেওয়া তরুণদের সবাইকে গ্রেপ্তার করতে না পারা পর্যন্ত অবশ্যই হুমকি। আমরা যে ৫৫ জনের তালিকা দিয়েছি এর বাইরেও অনেকে আত্মগোপন বা হিজরত করেছেন। আমরা এখন পর্যন্ত ৭৬ জনকে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি। এর বাইরে পাঁচ-ছয়জন প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে মারা গেছেন। মিলে আমরা ৮০/৮২ জনকে শনাক্ত করেছি। আমরা আত্মতুষ্টিতে ভুগছিনা, তবে আমরা কিন্তু অনেকটাই সফল। সুত্রঃ ঢাকা পোস্ট