ঢাকা ০১:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নবগঠিত কমিটির যাত্রা শুরু চালের বস্তায় দামসহ থাকতে হবে সব তথ্য, পরিপত্র জারি টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম ১০ হাজারে শীর্ষে বাবর অমর একুশে ময়মনসিংহে শহীদ বেদীতে বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের শ্রদ্ধা নিবেদন ১৯৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন ইইউ’র স্মার্ট হতে ইংরেজিতে কথা বলতে হবে তা ঠিক নয়: প্রধানমন্ত্রী ভাষা শহীদদের স্মরণে দেশের প্রথম শহীদ মিনারে আরসিআরইউ’র শ্রদ্ধা স্মার্ট ত্রিশাল উপজেলা গড়তে জনগণের সেবক হতে চান’যুবনেতা জুয়েল সরকার পুঠিয়ায় শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত চুরির অপবাদ সইতে না পেরে পুঠিয়ায় নৈশ্য প্রহোরীর আত্মহত্যা

নাটোর কারাগার থেকে হাসপাতালে গিয়ে যুবদল নেতার মৃত্যু

মেহেরুল ইসলাম মোহন, নাটোর প্রতিবেদকঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:৫১:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ৫৬ বার পড়া হয়েছে

নাটোর কারাগারে অসুস্থ হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ কে আজাদ সোহেল নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
সোহেল নাটোরের সিংড়ার হাতিয়ন্দহ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি।
সিংড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান লেলিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জিয়াউর রহমান লেলিন জানান, গত ১৮ নভেম্বর সন্ধ্যায় এ কে আজাদ সোহেলকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাকে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। ৩০ নভেম্বর আদালত তাকে (এ কে আজাদ সোহেল) জামিন দেয়। পরে কারাগারে তাকে নিয়ে আসতে গেলে কর্তৃপক্ষ জানায়, এ কে আজাদ অসুস্থ থাকায় তাকে চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সোহেলকে রাজশাহী মেডিকেলের বারান্দার বিনা চিকিৎসায় ফেলে রাখা হয়। জামিনের পরে কারা কর্তৃপক্ষের মারফতে পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনা জানলে তারা গিয়ে সোহেলের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে তার মৃত্যু হয়।
সোহেলের বড় ভাই শামীম হোসেন বলেন, বিনা অপরাধে আমার ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নাটোর কারাগারে অসুস্থ হলে তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করে কারা কর্তৃপক্ষ। সেখানে আমার ভাইয়ের মৃত্যু হয়।
তিনি বলেন, মরদেহ এখনো হাসপাতালেই আছে। মরদেহ বের করতে পারলে শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) জানাজা ও দাফন হবে।
নাটোর জেলা কারাগারের জেল সুপার কাওয়ালিন নাহার জানান, নাশকতার মামলায় পুলিশ সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। আদালত গত ২১ নভেম্বর সোহেলকে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠান। পরে ২৯ নভেম্বর তিনি কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তাকে প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। এখানকার চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রামেক হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
পরে নাটোর কারাগার থেকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর সেদিনই রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষ তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে ৩০ নভেম্বর আদালত সোহেল রানার জামিন মঞ্জুর করেন। ১ ডিসেম্বর কারাগারে জামিনের কাগজ পৌঁছালে তাকে মুক্তি দেখানো হয়। হাসপাতাল থেকেও কারারক্ষীর পাহারা তুলে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার এই আসামি হাসপাতালে মারা গেছেন বলে তিনি শুনেছেন।
রামেক হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মোস্তফা শেখ জানান, হাসপাতালে আনার প্রথম দিন থেকে সোহেল রানা আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন। তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে তিনি মারা যান। পরে তার মরদেহ বাড়ি নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নাটোর কারাগার থেকে হাসপাতালে গিয়ে যুবদল নেতার মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৮:৫১:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৩

নাটোর কারাগারে অসুস্থ হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ কে আজাদ সোহেল নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
সোহেল নাটোরের সিংড়ার হাতিয়ন্দহ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি।
সিংড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান লেলিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জিয়াউর রহমান লেলিন জানান, গত ১৮ নভেম্বর সন্ধ্যায় এ কে আজাদ সোহেলকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাকে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। ৩০ নভেম্বর আদালত তাকে (এ কে আজাদ সোহেল) জামিন দেয়। পরে কারাগারে তাকে নিয়ে আসতে গেলে কর্তৃপক্ষ জানায়, এ কে আজাদ অসুস্থ থাকায় তাকে চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সোহেলকে রাজশাহী মেডিকেলের বারান্দার বিনা চিকিৎসায় ফেলে রাখা হয়। জামিনের পরে কারা কর্তৃপক্ষের মারফতে পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনা জানলে তারা গিয়ে সোহেলের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে তার মৃত্যু হয়।
সোহেলের বড় ভাই শামীম হোসেন বলেন, বিনা অপরাধে আমার ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নাটোর কারাগারে অসুস্থ হলে তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করে কারা কর্তৃপক্ষ। সেখানে আমার ভাইয়ের মৃত্যু হয়।
তিনি বলেন, মরদেহ এখনো হাসপাতালেই আছে। মরদেহ বের করতে পারলে শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) জানাজা ও দাফন হবে।
নাটোর জেলা কারাগারের জেল সুপার কাওয়ালিন নাহার জানান, নাশকতার মামলায় পুলিশ সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। আদালত গত ২১ নভেম্বর সোহেলকে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠান। পরে ২৯ নভেম্বর তিনি কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তাকে প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। এখানকার চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রামেক হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
পরে নাটোর কারাগার থেকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর সেদিনই রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষ তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে ৩০ নভেম্বর আদালত সোহেল রানার জামিন মঞ্জুর করেন। ১ ডিসেম্বর কারাগারে জামিনের কাগজ পৌঁছালে তাকে মুক্তি দেখানো হয়। হাসপাতাল থেকেও কারারক্ষীর পাহারা তুলে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার এই আসামি হাসপাতালে মারা গেছেন বলে তিনি শুনেছেন।
রামেক হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মোস্তফা শেখ জানান, হাসপাতালে আনার প্রথম দিন থেকে সোহেল রানা আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন। তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে তিনি মারা যান। পরে তার মরদেহ বাড়ি নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা।