ঢাকা ০৪:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

নাটোরে আ’ লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ আহত ৭

নাটোর প্রতিবেদকঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:১৭:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ মে ২০২৩ ৬৭ বার পড়া হয়েছে

সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা কবির বিন আনোয়ারের উপস্থিতিতে নাটোরে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র সহ বিভিন্ন অস্ত্র প্রদর্শণ করে। এ সময় আলোচনা সভার চেয়ার ভাংচুর সহ উভয় পক্ষের মধ্যে চেয়ার ছুড়াছুড়ির ঘটনাও ঘটে। তবে সংঘর্ষে বড় ধরনের কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দাবী হামলায় অন্তঃত ৭ জন আহত হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার শহরের কান্দিভিটা এলাকায় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।

নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে একটি আইটি ভবন (স্মার্ট কর্ণার) উদ্বোধনের জন্য মন্ত্রী পরিষদের সাবেক সচিব ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা কবির বিন আনোয়ার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে সেখানে এক আলোচনা সভা শুরু হয়। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এমপি,সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রমজান, শফিকুল ইসলাম শিমুল এমপি সহ যুবলীগ,ছাত্রলীগ সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা কর্মিরা। সভা চলাকালীন সময়ে জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রমজান গ্রুপের সমর্থকরা তাদের নেতাদের নামে বিভিন্ন শ্লোগান দেওয়া শুরু করে।

এ সময় সাবেক সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল সমর্থকরা শ্লোগান দিলে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সভায় পুলিশ মোতায়েন থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেন পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান। বর্তমানে এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল অভিযোগ করেন, কাঁদিভিটাস্থ জেলা আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে স্মার্ট কর্নার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ার। উদ্বোধন শেষে মত বিনিময় শুরুর হলে ছাত্রলীগের সভাপতি ফরহাদ বিন আজিজ যে মাদকাসক্ত এবং সাধারণ সম্পাদক শাহীনের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। পরে প্রধান অতিথির হস্তক্ষেপে পরিসিম্থতি শান্ত হয়। তিনি তাদের সাথে এমন সব ছেলেদের দেখেছেন যারা আওয়ামী পরিবারের কেউ নয়। তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানান।

তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রমজান জানান, কাঁদিভিটাস্থ জেলা আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে স্মার্ট কর্নার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ার। উদ্বোধন শেষে মত বিনিময় শুরু হলে এম পি শিশুলোর ক্যাডার বাহিনী যারা বাংলা ভাই ও বিএনপি নেতা দুলুর অনুসারী ছিল সেই সাব্বির, শাওন ও জনির নেতৃত্বে চেয়ারে বসে থাকা নেতা কর্মীদের তুলে দিয়ে প্রথমে চেয়ার ছুড়ে ও পরে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।

তিনি দাবী করেন তাদের পদদলিত হয়ে ও চেয়ার এবং অস্ত্রের আঘাতে বনপাড়া পৌরসভার মেয়র কে এম জাকির হোসেন, নলডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান মুকু ও ছাত্রলীগ কর্মী বাপ্পীসহ দলের ৭/৮ জন নেতা-কর্মী আহত হয়। পরে কবির বিন আনোয়ারের হস্তক্ষেপে সন্ত্রাসীদের ধাক্কা দিয়ে বের করে দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। সিসি টিভি ক্যামেরা দেখে সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে তাদের গ্রেফতার ও শাস্থির দাবী জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নাটোরে আ’ লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ আহত ৭

আপডেট সময় : ০৫:১৭:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ মে ২০২৩

সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা কবির বিন আনোয়ারের উপস্থিতিতে নাটোরে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র সহ বিভিন্ন অস্ত্র প্রদর্শণ করে। এ সময় আলোচনা সভার চেয়ার ভাংচুর সহ উভয় পক্ষের মধ্যে চেয়ার ছুড়াছুড়ির ঘটনাও ঘটে। তবে সংঘর্ষে বড় ধরনের কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দাবী হামলায় অন্তঃত ৭ জন আহত হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার শহরের কান্দিভিটা এলাকায় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।

নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে একটি আইটি ভবন (স্মার্ট কর্ণার) উদ্বোধনের জন্য মন্ত্রী পরিষদের সাবেক সচিব ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা কবির বিন আনোয়ার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে সেখানে এক আলোচনা সভা শুরু হয়। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এমপি,সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রমজান, শফিকুল ইসলাম শিমুল এমপি সহ যুবলীগ,ছাত্রলীগ সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা কর্মিরা। সভা চলাকালীন সময়ে জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রমজান গ্রুপের সমর্থকরা তাদের নেতাদের নামে বিভিন্ন শ্লোগান দেওয়া শুরু করে।

এ সময় সাবেক সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল সমর্থকরা শ্লোগান দিলে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সভায় পুলিশ মোতায়েন থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেন পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান। বর্তমানে এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল অভিযোগ করেন, কাঁদিভিটাস্থ জেলা আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে স্মার্ট কর্নার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ার। উদ্বোধন শেষে মত বিনিময় শুরুর হলে ছাত্রলীগের সভাপতি ফরহাদ বিন আজিজ যে মাদকাসক্ত এবং সাধারণ সম্পাদক শাহীনের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। পরে প্রধান অতিথির হস্তক্ষেপে পরিসিম্থতি শান্ত হয়। তিনি তাদের সাথে এমন সব ছেলেদের দেখেছেন যারা আওয়ামী পরিবারের কেউ নয়। তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানান।

তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রমজান জানান, কাঁদিভিটাস্থ জেলা আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে স্মার্ট কর্নার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ার। উদ্বোধন শেষে মত বিনিময় শুরু হলে এম পি শিশুলোর ক্যাডার বাহিনী যারা বাংলা ভাই ও বিএনপি নেতা দুলুর অনুসারী ছিল সেই সাব্বির, শাওন ও জনির নেতৃত্বে চেয়ারে বসে থাকা নেতা কর্মীদের তুলে দিয়ে প্রথমে চেয়ার ছুড়ে ও পরে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।

তিনি দাবী করেন তাদের পদদলিত হয়ে ও চেয়ার এবং অস্ত্রের আঘাতে বনপাড়া পৌরসভার মেয়র কে এম জাকির হোসেন, নলডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান মুকু ও ছাত্রলীগ কর্মী বাপ্পীসহ দলের ৭/৮ জন নেতা-কর্মী আহত হয়। পরে কবির বিন আনোয়ারের হস্তক্ষেপে সন্ত্রাসীদের ধাক্কা দিয়ে বের করে দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। সিসি টিভি ক্যামেরা দেখে সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে তাদের গ্রেফতার ও শাস্থির দাবী জানান তিনি।