ঢাকা ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দুই লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মসূচি অনুমোদন

দেশের আওয়াজ ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় : ১০:৩৫:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ মে ২০২৩ ৫৬ বার পড়া হয়েছে

আগামী (২০২৩-২৪) অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। ১ হাজার ৩০৯টি প্রকল্পের অনুকূলে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ মে) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এনইসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এসময় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম, পরিকল্পনা সচিব সত্যজিৎ কর্মকারসহ পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, নতুন এডিপির মধ্যে সরকারের তহবিল থেকে দেওয়া হবে ১ লাখ ৭৯ হাজার কোটি টাকা, বৈদেশিক ঋণ থেকে পাওয়া যাবে ৯৪ হাজার কোটি টাকা পাওয়া যাবে। গত অর্থবছরের তুলনায় নতুন এডিপির আকার বেড়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছর এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা।

এনইসি কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, অনুমোদিত এডিপির মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে। এ খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৭৫ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা। যা মোট বরাদ্দের ২৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এই খাতের মোট ব্যয়ের মধ্যে ৪৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা সরকারি তহবিল থেকে এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে পাওয়া যাবে ৩১ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা। পরিবহন ও যোগাযোগ খাতের বরাদ্দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগকে। এই বিভাগ বরাদ্দ পাচ্ছে ৩৪ হাজার ৬২ কোটি টাকা।

এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এডিপিতে বরাদ্দ পেয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত। এ খাতের জন্য বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৪৪ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা। যা মোট বরাদ্দের ১৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এ খাতের বেশিরভাগ ব্যয় হবে উন্নয়ন সহযোগিদের অর্থায়নে। এ খাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এবিভাগের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৩৩ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা।

এছাড়া, রেলপথ মন্ত্রণালয়কে ১৪ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরপর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হয়েছে ৯ হাজার ৪৭৩ কোটি। এছাড়া সেতু বিভাগের জন্য ৯ হাজার ৬৪ কোটি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জন্য ৬ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকা প্রতিরক্ষা, কৃষি, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ।

মন্ত্রী বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে, মেট্রোরেল ও পদ্মা সেতুতে বড় বরাদ্দ থাকছে। এছাড়া কর্ণফুলী টানেল, মেট্রোরেল, পদ্মা রেল সংযোগ, যমুনা রেল সেতু ও দোহাজারী-কক্সবাজারের মতো যোগাযোগ এবং ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে অবকাঠামোর মতো বেশ কিছু বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী অর্থবছরে এগুলোর বাস্তবায়ন কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। চলমান বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী অর্থবছরে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে সর্বোচ্চ এডিপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এছাড়া বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন ৬ প্রকল্প। বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত দেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ সাবওয়ের (এমআরটি-১) নির্মাণকাজ পুরোদমে শুরু হবে আগামী বছর থেকে। পাশাপাশি মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়নের কাজেও গতি আসবে। এছাড়া হযরত শাহজালান বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের মতো প্রকল্প এবং বঙ্গবন্ধু রেল সেতুর মতো বড় ব্যয়ের প্রকল্পের বাস্তবায়নেও গতি বাড়বে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দুই লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মসূচি অনুমোদন

আপডেট সময় : ১০:৩৫:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ মে ২০২৩

আগামী (২০২৩-২৪) অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। ১ হাজার ৩০৯টি প্রকল্পের অনুকূলে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ মে) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এনইসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এসময় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম, পরিকল্পনা সচিব সত্যজিৎ কর্মকারসহ পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, নতুন এডিপির মধ্যে সরকারের তহবিল থেকে দেওয়া হবে ১ লাখ ৭৯ হাজার কোটি টাকা, বৈদেশিক ঋণ থেকে পাওয়া যাবে ৯৪ হাজার কোটি টাকা পাওয়া যাবে। গত অর্থবছরের তুলনায় নতুন এডিপির আকার বেড়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছর এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা।

এনইসি কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, অনুমোদিত এডিপির মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে। এ খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৭৫ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা। যা মোট বরাদ্দের ২৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এই খাতের মোট ব্যয়ের মধ্যে ৪৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা সরকারি তহবিল থেকে এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে পাওয়া যাবে ৩১ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা। পরিবহন ও যোগাযোগ খাতের বরাদ্দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগকে। এই বিভাগ বরাদ্দ পাচ্ছে ৩৪ হাজার ৬২ কোটি টাকা।

এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এডিপিতে বরাদ্দ পেয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত। এ খাতের জন্য বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৪৪ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা। যা মোট বরাদ্দের ১৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এ খাতের বেশিরভাগ ব্যয় হবে উন্নয়ন সহযোগিদের অর্থায়নে। এ খাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এবিভাগের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৩৩ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা।

এছাড়া, রেলপথ মন্ত্রণালয়কে ১৪ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরপর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হয়েছে ৯ হাজার ৪৭৩ কোটি। এছাড়া সেতু বিভাগের জন্য ৯ হাজার ৬৪ কোটি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জন্য ৬ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকা প্রতিরক্ষা, কৃষি, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ।

মন্ত্রী বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে, মেট্রোরেল ও পদ্মা সেতুতে বড় বরাদ্দ থাকছে। এছাড়া কর্ণফুলী টানেল, মেট্রোরেল, পদ্মা রেল সংযোগ, যমুনা রেল সেতু ও দোহাজারী-কক্সবাজারের মতো যোগাযোগ এবং ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে অবকাঠামোর মতো বেশ কিছু বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী অর্থবছরে এগুলোর বাস্তবায়ন কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। চলমান বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী অর্থবছরে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে সর্বোচ্চ এডিপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এছাড়া বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন ৬ প্রকল্প। বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত দেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ সাবওয়ের (এমআরটি-১) নির্মাণকাজ পুরোদমে শুরু হবে আগামী বছর থেকে। পাশাপাশি মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়নের কাজেও গতি আসবে। এছাড়া হযরত শাহজালান বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের মতো প্রকল্প এবং বঙ্গবন্ধু রেল সেতুর মতো বড় ব্যয়ের প্রকল্পের বাস্তবায়নেও গতি বাড়বে।