ঢাকা ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ছাত্রদলের নতুন সভাপতি রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাসির জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় দাম নির্ধারণে প্রজ্ঞাপন জারি খাবার সংগ্রহে লাইনে দাঁড়ানো ফিলিস্তিনিদের গুলি, নিহত ১১২ রাজশাহীতে ভোক্তা অধিকার অধিদফতরের অভিযান না থাকায় ক্রমেই বাড়ছে পেঁয়াজের দাম ঘুড়ি প্রতীকের বিজয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা চান কাউন্সিলর প্রার্থী আসলাম ‘অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর নির্দেশ দিলেও মানা হচ্ছে না’ নতুন ৭ প্রতিমন্ত্রীকে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি ২৩নং ওয়ার্ডকে পরিকল্পিত আধুনিক এলাকা গড়তে চান – রানা বেইলি রোডে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে নিহত ৪৪ চাঁপাইনবাবগঞ্জে জমি জবরদখল ও গাছ কাটার প্রতিবাদে মানববন্ধন

তিন মোবাইল অপারেটরের ভ্যাট বকেয়া ২৩৩ কোটি টাকা

দেশের আওয়াজ ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৩ ৭৯ বার পড়া হয়েছে

বিভিন্ন ফি বাবদ তিন মোবাইল অপারেটর কোম্পানি গ্রামীণফোন, বাংলালিংক ও রবির বকেয়া রাজস্বের পরিমাণ ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

সরকার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) দীর্ঘদিনের ওই দাবির পক্ষে শেষ পর্যন্ত উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মিলেছে।

বকেয়া টাকার মধ্যে এনবিআর ভ্যাট বাবদ পাবে ২৩৩ কোটি টাকা। এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিট ও (এলটিইউ) তিন

অপারেটরের প্রতিনিধিদের এক বৈঠকেও বিষয়টি প্রায় একমত হয়েছে।

যদিও রায়ের পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষণে এর পরিমাণ কম-বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এখনই ওই টাকা আদায় করতে চাপ প্রয়োগ করছে না এনবিআর। সংস্থাটি ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইতোমধ্যে বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) কমিশনার ফারজানা আফরোজ গত ২২ জানুয়ারি লিখিতভাবে বিষয়টি এনবিআরকে অবগত করেছে বলে জানা গেছে।

এনবিআর সূত্র জানায়, তিন মোবাইল অপারেটর কোম্পানি গ্রামীণফোন, বাংলালিংক ও রবির কাছে পাওনা ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। রায়ে গ্রামীণফোনের ১ হাজার ৪০০ কোটি, রবির ৫০০ কোটি ও বাংলালিংকের ৬৫০ কোটি টাকা বকেয়া পরিশোধের আদেশ দেওয়া হয়।

এই টাকার মধ্যে অপারেটরদের তরঙ্গ বরাদ্দ, লাইসেন্স ফি এবং অন্যান্য ফি বাবদ টাকা দেখানো হলেও ভ্যাট বাবদ রাজস্ব বোর্ড কত টাকা পাবে সে বিষয়ে আলাদাভাবে কোনও ব্যাখ্যা নেই। তাই এলটিইউর অরিরিক্ত কমিশনার ও বিভাগীয় কর্মকর্তারা বিটিআরসির মহাপরিচালকের (লিগ্যাল) সঙ্গে দেখা করেন।

ওই বৈঠক সূত্রে জানা যায়,বিভিন্ন ফি বাবদ পাওনা ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে ভ্যাটের টাকা আলাদাভাবে গণনা করা হয়নি। গ্রামীনফোন, বাংলালিংক ও রবি-এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছে তরঙ্গ বরাদ্দ, লাইসেন্স ফি এবং অন্যান্য ফিসহ বকেয়া টাকা পাওয়া সাপেক্ষে প্রযোজ্য ভ্যাটের টাকা সরকারি কোষাগারে দেওয়া হবে।

গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের জন্য সরকার যে তরঙ্গ বরাদ্দ করে তার ওপর চার্জ করা হয়। এর সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত করা হয়। এই ভ্যাটযুক্ত করার কারণে তারা (তিন কোম্পানি) হাইকোর্টে এসে মামলা ফাইল করে। হাইকোর্ট তাদের রিট খারিজ করে দেয়। এর বিরুদ্ধে তারা আপিলে আবেদন করলে আদালত শুনানি নিয়ে তাদের আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। এর ফলে এখন এসব প্রতিষ্ঠান থেকে এনবিআর এবং বিটিআরসি ভ্যাটসহ তরঙ্গ বরাদ্দ ফি হিসেবে পাওনা আদায় করবে।

গত ১০ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ৫ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এমন আদেশ দেন।

আদালতের আদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা শুনানিতে বলেছি, ভ্যাটের ক্ষেত্রে ২০১১ সালের আইনটা সংশোধন করা হয়েছে। এই সংশোধনের ফলে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আমরা এই ভ্যাট দাবি করতে পারি।

বিটিআরসির পক্ষের আইনজীবী খোন্দকার রেজা-ই রাকিব বলেন, তিনটি অপারেটরের কাছে লাইসেন্স নবায়ন ফি এবং রেভিনিউ শেয়ারিং ফিসহ বিভিন্ন ফি বাবাদ দুই হাজার দুইশত কোটি টাকার মতো পাবো। এর সঙ্গে আরও তিনশত কোটি টাকার মতো পাবো। রায়ের সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার পর থেকে আমরা টাকা দাবি করবো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

তিন মোবাইল অপারেটরের ভ্যাট বকেয়া ২৩৩ কোটি টাকা

আপডেট সময় : ০৭:৩৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৩

বিভিন্ন ফি বাবদ তিন মোবাইল অপারেটর কোম্পানি গ্রামীণফোন, বাংলালিংক ও রবির বকেয়া রাজস্বের পরিমাণ ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

সরকার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) দীর্ঘদিনের ওই দাবির পক্ষে শেষ পর্যন্ত উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মিলেছে।

বকেয়া টাকার মধ্যে এনবিআর ভ্যাট বাবদ পাবে ২৩৩ কোটি টাকা। এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিট ও (এলটিইউ) তিন

অপারেটরের প্রতিনিধিদের এক বৈঠকেও বিষয়টি প্রায় একমত হয়েছে।

যদিও রায়ের পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষণে এর পরিমাণ কম-বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এখনই ওই টাকা আদায় করতে চাপ প্রয়োগ করছে না এনবিআর। সংস্থাটি ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইতোমধ্যে বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) কমিশনার ফারজানা আফরোজ গত ২২ জানুয়ারি লিখিতভাবে বিষয়টি এনবিআরকে অবগত করেছে বলে জানা গেছে।

এনবিআর সূত্র জানায়, তিন মোবাইল অপারেটর কোম্পানি গ্রামীণফোন, বাংলালিংক ও রবির কাছে পাওনা ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। রায়ে গ্রামীণফোনের ১ হাজার ৪০০ কোটি, রবির ৫০০ কোটি ও বাংলালিংকের ৬৫০ কোটি টাকা বকেয়া পরিশোধের আদেশ দেওয়া হয়।

এই টাকার মধ্যে অপারেটরদের তরঙ্গ বরাদ্দ, লাইসেন্স ফি এবং অন্যান্য ফি বাবদ টাকা দেখানো হলেও ভ্যাট বাবদ রাজস্ব বোর্ড কত টাকা পাবে সে বিষয়ে আলাদাভাবে কোনও ব্যাখ্যা নেই। তাই এলটিইউর অরিরিক্ত কমিশনার ও বিভাগীয় কর্মকর্তারা বিটিআরসির মহাপরিচালকের (লিগ্যাল) সঙ্গে দেখা করেন।

ওই বৈঠক সূত্রে জানা যায়,বিভিন্ন ফি বাবদ পাওনা ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে ভ্যাটের টাকা আলাদাভাবে গণনা করা হয়নি। গ্রামীনফোন, বাংলালিংক ও রবি-এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছে তরঙ্গ বরাদ্দ, লাইসেন্স ফি এবং অন্যান্য ফিসহ বকেয়া টাকা পাওয়া সাপেক্ষে প্রযোজ্য ভ্যাটের টাকা সরকারি কোষাগারে দেওয়া হবে।

গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের জন্য সরকার যে তরঙ্গ বরাদ্দ করে তার ওপর চার্জ করা হয়। এর সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত করা হয়। এই ভ্যাটযুক্ত করার কারণে তারা (তিন কোম্পানি) হাইকোর্টে এসে মামলা ফাইল করে। হাইকোর্ট তাদের রিট খারিজ করে দেয়। এর বিরুদ্ধে তারা আপিলে আবেদন করলে আদালত শুনানি নিয়ে তাদের আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। এর ফলে এখন এসব প্রতিষ্ঠান থেকে এনবিআর এবং বিটিআরসি ভ্যাটসহ তরঙ্গ বরাদ্দ ফি হিসেবে পাওনা আদায় করবে।

গত ১০ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ৫ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এমন আদেশ দেন।

আদালতের আদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা শুনানিতে বলেছি, ভ্যাটের ক্ষেত্রে ২০১১ সালের আইনটা সংশোধন করা হয়েছে। এই সংশোধনের ফলে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আমরা এই ভ্যাট দাবি করতে পারি।

বিটিআরসির পক্ষের আইনজীবী খোন্দকার রেজা-ই রাকিব বলেন, তিনটি অপারেটরের কাছে লাইসেন্স নবায়ন ফি এবং রেভিনিউ শেয়ারিং ফিসহ বিভিন্ন ফি বাবাদ দুই হাজার দুইশত কোটি টাকার মতো পাবো। এর সঙ্গে আরও তিনশত কোটি টাকার মতো পাবো। রায়ের সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার পর থেকে আমরা টাকা দাবি করবো।