ঢাকা ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ডিসি সম্মেলন: ক্ষমতার পরিধি ও সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাবই বেশি

দেশের আওয়াজ ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:১৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩ ৭৩ বার পড়া হয়েছে

তিন দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন গত বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। এবারের প্রস্তাবগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল জেলা পর্যায়ে রাজস্ব আদায়, উন্নয়ন প্রকল্পে আর্থিক ক্ষমতা বৃদ্ধি, জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমিটি করা এবং এ ধরনের কমিটিতে ডিসি বা ইউএনওদের প্রধান হওয়া।

এবারের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে ২৪৫টি প্রস্তাব এসেছিল। এর মধ্যে তিনটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগসংশ্লিষ্ট। প্রস্তাবগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মোট ২৭ প্রস্তাবের সব কটিই ডিসি ও ইউএনওদের ক্ষমতা বা দায়িত্বের পরিধি বাড়ানো ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসংক্রান্ত।

নাগরিকদের সেবা সহজলভ্য করা, সরকারঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে উত্তরণ উপযোগী প্রশাসন গঠন কিংবা দুর্নীতি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার মতো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ছিল না বললেই চলে।

২০২২ সালের সম্মেলনে ডিসিরা ২৬৩টি প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলেন। সেই প্রস্তাবেরও বেশির ভাগ ছিল তাদের ক্ষমতার পরিধি বৃদ্ধি ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে। এর আগে ডিসি সম্মেলনে প্রশাসন ক্যাডারের জন্য পৃথক ব্যাংক, বিশেষ বাহিনী, দিবস উদযাপনে কোটি টাকা বরাদ্দ, জ্বালানি তেল ব্যবহারের সীমা তুলে দেওয়া এবং ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতা চেয়ে প্রস্তাব আনা হয়েছিল। বিচারিক ক্ষমতাও ছিল প্রস্তাবে।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা বলেন, কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের বাস্তবতা ডিসিরা ভালো বোঝেন। তারা মাঠ প্রশাসনের সব স্তরের সঙ্গে জড়িত।

তিনি বলেন, নাগরিকদের সেবা সম্পর্কিত সব বিষয় যে ডিসিদের মাধ্যমে আসবে, এমনটি নয়। ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনারদের পাশাপাশি সংসদ, সংসদীয় কমিটি, দলীয় ফোরামসহ বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে। সরকার বিভিন্ন সোর্স থেকে তথ্য নিয়ে নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করে।

২০১১ সালে ডিসিদের জন্য ৬২টি দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। সরকারের রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী প্রতিটি ক্যাডার ও বিভাগের জন্য পৃথক দায়িত্ব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কাজের ক্ষমতাসংক্রান্ত একাধিক আইন ও বিধি রয়েছে। এর পরও ডিসিরা বিভিন্ন সময়ে অন্য ক্যাডার ও বিভাগের দায়িত্ব চেয়েছেন। এর ফলে অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা একাধিকবার প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

এবারের উন্নয়ন প্রকল্পে ডিসিদের আর্থিক ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাবের প্রতিবাদ জানিয়েছে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)। এই প্রস্তাব গ্রহণ করা হলে প্রকৌশলীরা জোরালো কর্মসূচি গ্রহণ করবেন বলে গত বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়।

২০১৯ সালে জেলা-উপজেলায় রাজস্ব আদায়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ডিসিরা। তখন কাস্টমস ক্যাডার স্মারকলিপি দিয়েছে, প্রতিবাদ জানিয়েছে সরকারের নানা পর্যায়ে। করোনার কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে ডিসি সম্মেলন হয়নি। ২০২২ সালের ডিসি সম্মেলনে উন্নয়ন প্রকল্প তদারকির ক্ষমতা চাওয়া হয়। গত সম্মেলনের এই প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন প্রকৌশলীরা।

এবারের সম্মেলনে ফের জেলা পর্যায়ে রাজস্ব আদায় সম্পর্কিত সমন্বয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব আসে। প্রস্তাব তুলে ধরেন গোপালগঞ্জের ডিসি। এতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে রাজস্ব আদায়ের নতুন নতুন উৎস চিহ্নিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি মত দেন।

পটুয়াখালীর ডিসি সরকারি রাজস্ব প্রশাসনের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ডিসিদের আর্থিক ক্ষমতা প্রদানের প্রস্তাব দেন।

পিরোজপুর ও ঝালকাঠির ডিসি সরকারি অর্থের উপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করতে উন্নয়ন প্রকল্পে ডিসিদের আর্থিক ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করেন। তাদের যুক্তি, প্রকৌশলীদের মাধ্যমে প্রকল্পের প্রাক্কলন, ডিজাইন, মনিটরিং এবং গুণগত মান বজায় রেখে প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যা হয়। এসব কাজের আর্থিক ক্ষমতা ডিসিদের দেওয়া হলে কঠোর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে যথাযথভাবে কাজ সমাপ্ত করা সম্ভব হবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ১৫টি প্রস্তাবের মধ্যে চারটি ডিসিদের আর্থিক ক্ষমতা বৃদ্ধিসংক্রান্ত। সাতটি প্রস্তাব আইন সংশোধনের মাধ্যমে তাদের কর্তৃত্ব বৃদ্ধি করা। আর বাকি চারটি প্রস্তাব জনবল বৃদ্ধির বিষয়ে।

জননিরাপত্তা বিভাগের পাঁচটি প্রস্তাবের তিনটি প্রস্তাবে আইন সংশোধনের মাধ্যমে অর্থদণ্ডের বিধান বৃদ্ধি করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য দণ্ডবিধির ১৭০, ১৭১ ও ৪১৯ ধারা যুক্ত করতে এবং বিজিবির গুলিবর্ষণের যৌক্তিকতা যাচাইয়ে নির্বাহী তদন্তের বিধান করতে বলা হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাতটি প্রস্তাবের সব কটিই ডিসি ও ইউএনওদের আর্থিক, গাড়ি, বাড়ি ও অফিস সুবিধা বাড়ানোসংক্রান্ত।

ঢাকা, রংপুর, দিনাজপুর, খুলনা ও বরিশাল জেলার ১৫টি উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, এসি ল্যান্ড (সহকারী ভূমি কমিশনার), সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে নাগরিকরা প্রায় প্রতিনিয়তই হয়রানির শিকার হচ্ছে। সাধারণ মানুষ থানায় জিডি থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের সেবা নিতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এসব হয়রানি বন্ধে ডিসিদের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব ছিল না।

জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, জনমুখী জনপ্রশাসন গড়ার লক্ষ্যে ডিসিদের আরো বেশি জনসম্পৃক্ত হয়ে কাজ করতে হবে। সেবাপ্রার্থীদের সম্মান দিতে হবে।

বিভিন্ন সম্মেলনে তোলা প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা ও উপজেলার বেশির ভাগ সরকারি অফিস নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা আগেই পেয়েছেন ডিসি ও ইউএনওরা। উপজেলার ত্রাণ, স্থানীয় সরকারসহ ১৭টি বিভাগের সভাপতি ইউএনওরা। আইনে না থাকলেও পরিপত্রের মাধ্যমে তাদের এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আরো কিছু প্রস্তাব বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ডিসি সম্মেলন: ক্ষমতার পরিধি ও সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাবই বেশি

আপডেট সময় : ০৭:১৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩

তিন দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন গত বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। এবারের প্রস্তাবগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল জেলা পর্যায়ে রাজস্ব আদায়, উন্নয়ন প্রকল্পে আর্থিক ক্ষমতা বৃদ্ধি, জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমিটি করা এবং এ ধরনের কমিটিতে ডিসি বা ইউএনওদের প্রধান হওয়া।

এবারের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে ২৪৫টি প্রস্তাব এসেছিল। এর মধ্যে তিনটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগসংশ্লিষ্ট। প্রস্তাবগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মোট ২৭ প্রস্তাবের সব কটিই ডিসি ও ইউএনওদের ক্ষমতা বা দায়িত্বের পরিধি বাড়ানো ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসংক্রান্ত।

নাগরিকদের সেবা সহজলভ্য করা, সরকারঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে উত্তরণ উপযোগী প্রশাসন গঠন কিংবা দুর্নীতি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার মতো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ছিল না বললেই চলে।

২০২২ সালের সম্মেলনে ডিসিরা ২৬৩টি প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলেন। সেই প্রস্তাবেরও বেশির ভাগ ছিল তাদের ক্ষমতার পরিধি বৃদ্ধি ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে। এর আগে ডিসি সম্মেলনে প্রশাসন ক্যাডারের জন্য পৃথক ব্যাংক, বিশেষ বাহিনী, দিবস উদযাপনে কোটি টাকা বরাদ্দ, জ্বালানি তেল ব্যবহারের সীমা তুলে দেওয়া এবং ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতা চেয়ে প্রস্তাব আনা হয়েছিল। বিচারিক ক্ষমতাও ছিল প্রস্তাবে।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা বলেন, কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের বাস্তবতা ডিসিরা ভালো বোঝেন। তারা মাঠ প্রশাসনের সব স্তরের সঙ্গে জড়িত।

তিনি বলেন, নাগরিকদের সেবা সম্পর্কিত সব বিষয় যে ডিসিদের মাধ্যমে আসবে, এমনটি নয়। ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনারদের পাশাপাশি সংসদ, সংসদীয় কমিটি, দলীয় ফোরামসহ বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে। সরকার বিভিন্ন সোর্স থেকে তথ্য নিয়ে নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করে।

২০১১ সালে ডিসিদের জন্য ৬২টি দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। সরকারের রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী প্রতিটি ক্যাডার ও বিভাগের জন্য পৃথক দায়িত্ব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কাজের ক্ষমতাসংক্রান্ত একাধিক আইন ও বিধি রয়েছে। এর পরও ডিসিরা বিভিন্ন সময়ে অন্য ক্যাডার ও বিভাগের দায়িত্ব চেয়েছেন। এর ফলে অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা একাধিকবার প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

এবারের উন্নয়ন প্রকল্পে ডিসিদের আর্থিক ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাবের প্রতিবাদ জানিয়েছে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)। এই প্রস্তাব গ্রহণ করা হলে প্রকৌশলীরা জোরালো কর্মসূচি গ্রহণ করবেন বলে গত বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়।

২০১৯ সালে জেলা-উপজেলায় রাজস্ব আদায়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ডিসিরা। তখন কাস্টমস ক্যাডার স্মারকলিপি দিয়েছে, প্রতিবাদ জানিয়েছে সরকারের নানা পর্যায়ে। করোনার কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে ডিসি সম্মেলন হয়নি। ২০২২ সালের ডিসি সম্মেলনে উন্নয়ন প্রকল্প তদারকির ক্ষমতা চাওয়া হয়। গত সম্মেলনের এই প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন প্রকৌশলীরা।

এবারের সম্মেলনে ফের জেলা পর্যায়ে রাজস্ব আদায় সম্পর্কিত সমন্বয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব আসে। প্রস্তাব তুলে ধরেন গোপালগঞ্জের ডিসি। এতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে রাজস্ব আদায়ের নতুন নতুন উৎস চিহ্নিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি মত দেন।

পটুয়াখালীর ডিসি সরকারি রাজস্ব প্রশাসনের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ডিসিদের আর্থিক ক্ষমতা প্রদানের প্রস্তাব দেন।

পিরোজপুর ও ঝালকাঠির ডিসি সরকারি অর্থের উপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করতে উন্নয়ন প্রকল্পে ডিসিদের আর্থিক ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করেন। তাদের যুক্তি, প্রকৌশলীদের মাধ্যমে প্রকল্পের প্রাক্কলন, ডিজাইন, মনিটরিং এবং গুণগত মান বজায় রেখে প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যা হয়। এসব কাজের আর্থিক ক্ষমতা ডিসিদের দেওয়া হলে কঠোর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে যথাযথভাবে কাজ সমাপ্ত করা সম্ভব হবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ১৫টি প্রস্তাবের মধ্যে চারটি ডিসিদের আর্থিক ক্ষমতা বৃদ্ধিসংক্রান্ত। সাতটি প্রস্তাব আইন সংশোধনের মাধ্যমে তাদের কর্তৃত্ব বৃদ্ধি করা। আর বাকি চারটি প্রস্তাব জনবল বৃদ্ধির বিষয়ে।

জননিরাপত্তা বিভাগের পাঁচটি প্রস্তাবের তিনটি প্রস্তাবে আইন সংশোধনের মাধ্যমে অর্থদণ্ডের বিধান বৃদ্ধি করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য দণ্ডবিধির ১৭০, ১৭১ ও ৪১৯ ধারা যুক্ত করতে এবং বিজিবির গুলিবর্ষণের যৌক্তিকতা যাচাইয়ে নির্বাহী তদন্তের বিধান করতে বলা হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাতটি প্রস্তাবের সব কটিই ডিসি ও ইউএনওদের আর্থিক, গাড়ি, বাড়ি ও অফিস সুবিধা বাড়ানোসংক্রান্ত।

ঢাকা, রংপুর, দিনাজপুর, খুলনা ও বরিশাল জেলার ১৫টি উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, এসি ল্যান্ড (সহকারী ভূমি কমিশনার), সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে নাগরিকরা প্রায় প্রতিনিয়তই হয়রানির শিকার হচ্ছে। সাধারণ মানুষ থানায় জিডি থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের সেবা নিতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এসব হয়রানি বন্ধে ডিসিদের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব ছিল না।

জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, জনমুখী জনপ্রশাসন গড়ার লক্ষ্যে ডিসিদের আরো বেশি জনসম্পৃক্ত হয়ে কাজ করতে হবে। সেবাপ্রার্থীদের সম্মান দিতে হবে।

বিভিন্ন সম্মেলনে তোলা প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা ও উপজেলার বেশির ভাগ সরকারি অফিস নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা আগেই পেয়েছেন ডিসি ও ইউএনওরা। উপজেলার ত্রাণ, স্থানীয় সরকারসহ ১৭টি বিভাগের সভাপতি ইউএনওরা। আইনে না থাকলেও পরিপত্রের মাধ্যমে তাদের এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আরো কিছু প্রস্তাব বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছে।