ঢাকা ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঝড়-বৃষ্টির পর আসছে দাবদাহ!

দেশের আওয়াজ ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:২৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ এপ্রিল ২০২৩ ১০৬ বার পড়া হয়েছে

বেশ কিছুদিন ধরে আবহাওয়ার ‘বিচিত্র আচরণ’ লক্ষ্য করা যাচ্ছে সারাদেশেই। বিশেষ করে মার্চের শেষের দিকে গরম অনুভূত হওয়ার কথা থাকলেও চিত্র ছিল ঠিক তার উল্টো। প্রায় সারাদেশেই বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ের খবর পাওয়া গেছে এ সময়। এতে কমে এসেছে তাপমাত্রাও।

যদিও মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসকে বর্ষাপূর্ব মৌসুম হিসেবে ধরে আবহাওয়া অধিদফতর। এই তিনমাস সাধারণত স্থানীয়ভাবে বজ্রমেঘ তৈরি হয়ে বৃষ্টি নামায়। কখনো কখনো আশপাশের দেশগুলো থেকেও বজ্রমেঘ তৈরি হয়ে বাংলাদেশের আকাশে এসে পরিপক্কতা পায়। এরপর শুরু হয় থেমে থেমে বৃষ্টি। কিন্তু আবহাওয়া অফিস বলছে— এবার মার্চ মাসেই বেশ ভারি বৃষ্টিপাত ও বজ্রমেঘ তৈরি হয়েছে। যার ধরণও অন্যবারের চেয়ে আলাদা।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ১৯৪৮ থেকে ২০২২ পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে, বজ্রমেঘ সাধারণত গড়ে ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার পর্যন্ত উপরে উঠতে পারে। কখনো কখনো এটি ১৮ থেকে ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠেছে। কিন্তু এবার দেশের অভ্যন্তরে যে বজ্রমেঘ তৈরি হয়েছে তার কনভিকশনটা অনেক উপরে যায়নি। ফলে বৃষ্টিপাতটা মৌসুমি বৃষ্টিপাতের মতো হয়েছে টানা কয়েকদিন ধরে।
এদিকে আবহাওয়া শুধু বৃষ্টিতে থেমে নেই। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কালবৈশাখী ঝড়ও। আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস বলছে— শুক্রবার (৩১ মার্চ) ও শনিবার (১ এপ্রিল) দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে মেঘের ঘনঘটা বৃদ্ধি পাবে। সম্ভাবনা আছে মাঝারি ঝড়ের। এই সময়ের মধ্যে বাতাসের গতিবেগ থাকবে বেশি।

বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) রাতে যার ঝলক দেখা গেছে রাজধানীতে। ঝড়ের সময় উত্তরা-এয়ারপোর্ট এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ছিল ৭৪ কিলোমিটার। আবহাওয়া বিভাগ বলছে— রাজধানীর বাতাসের গতি অনেক বেশি ছিল। আগামী দু’দিন ঝড়ের সাথে শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, তবে এই সময়টায় ব্যতিক্রম হচ্ছে গড় তাপমাত্রা। সাধারণত মার্চ মাসের শেষদিকে তাপমাত্রা গড়ে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস দেখা যায়, যা সর্বোচ্চ ৩৮ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠে। কিন্তু সেই তাপমাত্রা এখন কমে গিয়েছে।

তিনি বলেন, প্রি মুনসুন সিজনে যদি বৃষ্টিপাত হয়, তাহলে সার্ফেস টেম্পারেচার ২-৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে যেতে পারে। যেহেতু বৃষ্টিপাত ছিল সে কারণে লোয়ার লেভেল টেম্পারেচার আমাদের দেশে এখন দিনে গড়ে ৩২ ডিগ্রি আর রাতে তা ২২ ডিগ্রিতে নেমে আসছে। সুতরাং অবনমন আছে।
শুক্রবার (৩১ মার্চ) বিকেল পর্যন্ত বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের ওয়েবসাইট বলছে— শুক্রবার রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি আর সর্বনিম্ন ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা খানিকটা কম। একইসাথে বজ্রঝড়সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে বেশকিছু জেলায়।

আবহাওয়ার ‘বিচিত্র আচরণ’ কেন?
মার্চ মাসে সারাদেশে এমন টানা ৫ দিনের বিচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাত কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, আগে সাধারণত মেঘ উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে এসে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে দক্ষিণ-পূর্বে চলে যেত। কিন্তু এবার বঙ্গোপসাগরে মৌসুমী লঘুচাপের কারণে বাংলাদেশে জলীয়বাষ্পের যোগান বৃদ্ধি পাওয়ায় মৌসুমী বৃষ্টির বৈশিষ্ট্য দেখা যাচ্ছে।

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাব। তবে বর্তমান আবহাওয়া সিমুলেশনের মাধ্যমে আরেকটু বিশ্লেষণ করে এর কারণ জানার চেষ্টা করবে আবহাওয়া অধিদফতর।

এপ্রিল মাসকে কালবৈশাখীর সময় বলে মনে করা হয়। ১৯৮১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আবহাওয়া অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী— এপ্রিল মাসে ১২ থেকে ১৩ দিন দেশজুড়ে কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানে। একই সাথে তাপমাত্রাও বৃদ্ধ পায়।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, এপ্রিল মাস যেহেতু প্রকৃতি একটু বিরুপ ও উত্তপ্ত থাকে, তাই হালকা থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কখনো কখনো এটি তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, খোলা মাঠে কাজ করেন এমন প্রান্তিক কৃষকরা যেন আবহাওয়ার সতর্ক সংকেত অনুসরণ করেন। এতে বজ্রপাত এড়ানো সম্ভব। তবে বাংলাদেশে ঝড়প্রবণ এলাকায় বেশি বেশি বজ্রনিরোধক ‘লাইটনিং অ্যারেস্টার’ বসানো প্রয়োজন।

সূত্র: বিবিসি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঝড়-বৃষ্টির পর আসছে দাবদাহ!

আপডেট সময় : ০৯:২৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ এপ্রিল ২০২৩

বেশ কিছুদিন ধরে আবহাওয়ার ‘বিচিত্র আচরণ’ লক্ষ্য করা যাচ্ছে সারাদেশেই। বিশেষ করে মার্চের শেষের দিকে গরম অনুভূত হওয়ার কথা থাকলেও চিত্র ছিল ঠিক তার উল্টো। প্রায় সারাদেশেই বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ের খবর পাওয়া গেছে এ সময়। এতে কমে এসেছে তাপমাত্রাও।

যদিও মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসকে বর্ষাপূর্ব মৌসুম হিসেবে ধরে আবহাওয়া অধিদফতর। এই তিনমাস সাধারণত স্থানীয়ভাবে বজ্রমেঘ তৈরি হয়ে বৃষ্টি নামায়। কখনো কখনো আশপাশের দেশগুলো থেকেও বজ্রমেঘ তৈরি হয়ে বাংলাদেশের আকাশে এসে পরিপক্কতা পায়। এরপর শুরু হয় থেমে থেমে বৃষ্টি। কিন্তু আবহাওয়া অফিস বলছে— এবার মার্চ মাসেই বেশ ভারি বৃষ্টিপাত ও বজ্রমেঘ তৈরি হয়েছে। যার ধরণও অন্যবারের চেয়ে আলাদা।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ১৯৪৮ থেকে ২০২২ পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে, বজ্রমেঘ সাধারণত গড়ে ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার পর্যন্ত উপরে উঠতে পারে। কখনো কখনো এটি ১৮ থেকে ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠেছে। কিন্তু এবার দেশের অভ্যন্তরে যে বজ্রমেঘ তৈরি হয়েছে তার কনভিকশনটা অনেক উপরে যায়নি। ফলে বৃষ্টিপাতটা মৌসুমি বৃষ্টিপাতের মতো হয়েছে টানা কয়েকদিন ধরে।
এদিকে আবহাওয়া শুধু বৃষ্টিতে থেমে নেই। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কালবৈশাখী ঝড়ও। আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস বলছে— শুক্রবার (৩১ মার্চ) ও শনিবার (১ এপ্রিল) দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে মেঘের ঘনঘটা বৃদ্ধি পাবে। সম্ভাবনা আছে মাঝারি ঝড়ের। এই সময়ের মধ্যে বাতাসের গতিবেগ থাকবে বেশি।

বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) রাতে যার ঝলক দেখা গেছে রাজধানীতে। ঝড়ের সময় উত্তরা-এয়ারপোর্ট এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ছিল ৭৪ কিলোমিটার। আবহাওয়া বিভাগ বলছে— রাজধানীর বাতাসের গতি অনেক বেশি ছিল। আগামী দু’দিন ঝড়ের সাথে শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, তবে এই সময়টায় ব্যতিক্রম হচ্ছে গড় তাপমাত্রা। সাধারণত মার্চ মাসের শেষদিকে তাপমাত্রা গড়ে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস দেখা যায়, যা সর্বোচ্চ ৩৮ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠে। কিন্তু সেই তাপমাত্রা এখন কমে গিয়েছে।

তিনি বলেন, প্রি মুনসুন সিজনে যদি বৃষ্টিপাত হয়, তাহলে সার্ফেস টেম্পারেচার ২-৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে যেতে পারে। যেহেতু বৃষ্টিপাত ছিল সে কারণে লোয়ার লেভেল টেম্পারেচার আমাদের দেশে এখন দিনে গড়ে ৩২ ডিগ্রি আর রাতে তা ২২ ডিগ্রিতে নেমে আসছে। সুতরাং অবনমন আছে।
শুক্রবার (৩১ মার্চ) বিকেল পর্যন্ত বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের ওয়েবসাইট বলছে— শুক্রবার রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি আর সর্বনিম্ন ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা খানিকটা কম। একইসাথে বজ্রঝড়সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে বেশকিছু জেলায়।

আবহাওয়ার ‘বিচিত্র আচরণ’ কেন?
মার্চ মাসে সারাদেশে এমন টানা ৫ দিনের বিচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাত কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, আগে সাধারণত মেঘ উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে এসে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে দক্ষিণ-পূর্বে চলে যেত। কিন্তু এবার বঙ্গোপসাগরে মৌসুমী লঘুচাপের কারণে বাংলাদেশে জলীয়বাষ্পের যোগান বৃদ্ধি পাওয়ায় মৌসুমী বৃষ্টির বৈশিষ্ট্য দেখা যাচ্ছে।

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাব। তবে বর্তমান আবহাওয়া সিমুলেশনের মাধ্যমে আরেকটু বিশ্লেষণ করে এর কারণ জানার চেষ্টা করবে আবহাওয়া অধিদফতর।

এপ্রিল মাসকে কালবৈশাখীর সময় বলে মনে করা হয়। ১৯৮১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আবহাওয়া অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী— এপ্রিল মাসে ১২ থেকে ১৩ দিন দেশজুড়ে কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানে। একই সাথে তাপমাত্রাও বৃদ্ধ পায়।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, এপ্রিল মাস যেহেতু প্রকৃতি একটু বিরুপ ও উত্তপ্ত থাকে, তাই হালকা থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কখনো কখনো এটি তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, খোলা মাঠে কাজ করেন এমন প্রান্তিক কৃষকরা যেন আবহাওয়ার সতর্ক সংকেত অনুসরণ করেন। এতে বজ্রপাত এড়ানো সম্ভব। তবে বাংলাদেশে ঝড়প্রবণ এলাকায় বেশি বেশি বজ্রনিরোধক ‘লাইটনিং অ্যারেস্টার’ বসানো প্রয়োজন।

সূত্র: বিবিসি