ঢাকা ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে অটোমোবাইল কারখানা স্থাপনের আহ্বান

দেশের আওয়াজ ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:১৬:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৩ ৯২ বার পড়া হয়েছে

জাপানের শিল্প উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। বিশেষ করে জাপানের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে অটোমোবাইল এবং হালকা প্রকৌশল কারখানা স্থাপন করতে পারেন বলে জানিয়েছেন এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন।

বুধবার (২৫ জানুয়ারি) জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রতিনিধি দলের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এই আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে বাজার সম্ভাবনার তথ্য জানিয়ে জসিম উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের মানুষ জাপানকে ভালোবাসে। জাপানি পণ্যের প্রতিও তাদের চাহিদা অনেক। এজন্য রাস্তায় বের হলেই দেখা যায় জাপানি নানা ব্র্যান্ডের গাড়ি। বাংলাদেশে ব্যবসার বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে জাপান এগিয়ে আসতে পারে। এক্ষেত্রে দেশে জাপানি গাড়ির ব্যাপক চাহিদার কথা মাথায় রেখে গাড়ির কারখানা স্থাপন করা যেতে পারে। এর ফলে উভয় দেশই সমানভাবে লাভবান হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার একটি কোম্পানি বাংলাদেশে কারখানা চালু করেছে। জাপানের অটোমোবাইল কোম্পানিগুলোও এখানে গাড়ি সংযোজন/উৎপাদন শুরু করতে পারে। এখানে তারা যত দ্রুত কারখানা স্থাপন করবে, ব্যবসা সম্প্রসারণে তাদের জন্য ততই সুবিধা হবে।

বাংলাদেশের গতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, আমরা এখন ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে অগ্রসর হচ্ছি। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের স্বার্থে নীতিগত এবং কাঠামোগত রূপান্তরের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ সহজীকরণের জন্য বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে সরকারের সংস্থাগুলোও কাজ করছে।
এফবিসিসিআই’র ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে হতে যাওয়া বাংলাদেশ বিজনেস সামিটের বিষয়েও জেট্রোর প্রতিনিধি দলকে অবহিত করেন জসিম উদ্দিন। সামিটে জাপানের ব্যবসায়ীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বেসরকারি খাত জাপানের সাথে ব্যবসা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে আগ্রহী। স্থানীয় উদ্যোক্তারা পরিবেশবান্ধব শিল্প স্থাপনে জোর দিয়েছে। টেকসই শিল্পায়ন নিশ্চিতে উভয় দেশের মধ্যে প্রযুক্তির আদান-প্রদান জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এফবিসিসিআইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে জেট্রোর প্রেসিডেন্ট কাজুশিগে নবুতানি বলেন, এফবিসিসিআই তার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ বিজনেস সামিট আয়োজন করতে যাচ্ছে জেনে আমরা আনন্দিত। ব্যবসা ও বাণিজ্য বিষয়ে বিশাল এই আয়োজনকে আমরা স্বাগত জানাই। পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয়টিকে জাপান গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। এর মাধ্যমে উভয় দেশেরই লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সরকারের ব্যবসাবান্ধব নীতি কৌশলের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্ক আরও বেগবান হবে বলে আশাবাদ জানান জেট্রোর প্রেসিডেন্ট।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র সহ-সভাপতি আমিন হেলালী, মহাসচিব মাহফুজুল হক, উপদেষ্টা এবং সাবেক পরিচালক আবদুল হক, জেট্রোর এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মায়ুমি মুরায়ামা, ডিরেক্টর জেনারেল সাতোসি কুবোতা প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে অটোমোবাইল কারখানা স্থাপনের আহ্বান

আপডেট সময় : ০৬:১৬:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৩

জাপানের শিল্প উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। বিশেষ করে জাপানের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে অটোমোবাইল এবং হালকা প্রকৌশল কারখানা স্থাপন করতে পারেন বলে জানিয়েছেন এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন।

বুধবার (২৫ জানুয়ারি) জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রতিনিধি দলের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এই আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে বাজার সম্ভাবনার তথ্য জানিয়ে জসিম উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের মানুষ জাপানকে ভালোবাসে। জাপানি পণ্যের প্রতিও তাদের চাহিদা অনেক। এজন্য রাস্তায় বের হলেই দেখা যায় জাপানি নানা ব্র্যান্ডের গাড়ি। বাংলাদেশে ব্যবসার বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে জাপান এগিয়ে আসতে পারে। এক্ষেত্রে দেশে জাপানি গাড়ির ব্যাপক চাহিদার কথা মাথায় রেখে গাড়ির কারখানা স্থাপন করা যেতে পারে। এর ফলে উভয় দেশই সমানভাবে লাভবান হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার একটি কোম্পানি বাংলাদেশে কারখানা চালু করেছে। জাপানের অটোমোবাইল কোম্পানিগুলোও এখানে গাড়ি সংযোজন/উৎপাদন শুরু করতে পারে। এখানে তারা যত দ্রুত কারখানা স্থাপন করবে, ব্যবসা সম্প্রসারণে তাদের জন্য ততই সুবিধা হবে।

বাংলাদেশের গতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, আমরা এখন ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে অগ্রসর হচ্ছি। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের স্বার্থে নীতিগত এবং কাঠামোগত রূপান্তরের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ সহজীকরণের জন্য বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে সরকারের সংস্থাগুলোও কাজ করছে।
এফবিসিসিআই’র ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে হতে যাওয়া বাংলাদেশ বিজনেস সামিটের বিষয়েও জেট্রোর প্রতিনিধি দলকে অবহিত করেন জসিম উদ্দিন। সামিটে জাপানের ব্যবসায়ীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বেসরকারি খাত জাপানের সাথে ব্যবসা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে আগ্রহী। স্থানীয় উদ্যোক্তারা পরিবেশবান্ধব শিল্প স্থাপনে জোর দিয়েছে। টেকসই শিল্পায়ন নিশ্চিতে উভয় দেশের মধ্যে প্রযুক্তির আদান-প্রদান জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এফবিসিসিআইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে জেট্রোর প্রেসিডেন্ট কাজুশিগে নবুতানি বলেন, এফবিসিসিআই তার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ বিজনেস সামিট আয়োজন করতে যাচ্ছে জেনে আমরা আনন্দিত। ব্যবসা ও বাণিজ্য বিষয়ে বিশাল এই আয়োজনকে আমরা স্বাগত জানাই। পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয়টিকে জাপান গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। এর মাধ্যমে উভয় দেশেরই লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সরকারের ব্যবসাবান্ধব নীতি কৌশলের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্ক আরও বেগবান হবে বলে আশাবাদ জানান জেট্রোর প্রেসিডেন্ট।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র সহ-সভাপতি আমিন হেলালী, মহাসচিব মাহফুজুল হক, উপদেষ্টা এবং সাবেক পরিচালক আবদুল হক, জেট্রোর এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মায়ুমি মুরায়ামা, ডিরেক্টর জেনারেল সাতোসি কুবোতা প্রমুখ।